সাংবাদিক ঐক্যের ডাক কতটা প্রাসঙ্গিক

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পদে আসীন ফ্যাসিবাদের কট্টর সমর্থক এক বড় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। পালিয়ে যাওয়ার আগে ফ্যাসিবাদের দোসর অর্থলোভী অলিগার্কদের যে গ্রুপটি নিয়ে হাসিনা সভা করেছিলেন, সেখানে তিনি উপস্থিত হয়ে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিকদের একটি অংশ ঐক্যের ডাক দিয়েছে। এমন এক সময় এ ডাক দেয়া হলো, যখন দেশ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে না। ভিন্নমতের কারণে কেউ ক্রসফায়ারের শিকার হচ্ছেন না। গুপ্ত কারাগারে কাউকে আটক রাখা হচ্ছে না। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে জেলেও যেতে হচ্ছে না। কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হবে এমন আশঙ্কাও এখন আর নেই। সাংবাদিকতার পরিবেশ এখন সম্পূর্ণ অনুকূলে।

সাংবাদিক ঐক্য উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ। প্রতিষ্ঠান দু’টি এ উপলক্ষে একটি সম্মিলনের আয়োজন করে। সামনে এ ধরনের আরো আয়োজন করবে বলে ঘোষণাও দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিক পীড়নের দীর্ঘ সময়ে উল্লিখিত সংগঠন দু’টি কার্যক্রম চালালেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। দেশের ইতিহাসে সাংবাদিক নির্যাতনের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলো ঘটেছে ওই সময়ে। গায়ের জোরে নির্বাহী আদেশে বহু মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গণহারে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞাপন দিতে বাধা দিয়ে, আয় রোজগার বন্ধ করে অনেক সংবাদ প্রতিষ্ঠানকে পথে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। তার পরও সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের রক্ষায় নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদ তখন সাংবাদিকদের ঐক্যের তাগিদ বোধ করেনি। ঐক্যের ডাক দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি।

সাংবাদিক পীড়নে কিছু ক্ষেত্রে বরং তখন তাদের সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মুক্তমতের অবাধ প্রবাহের বর্তমান অনুকূল সময়ে তাদের ঐক্যের ডাক দেয়া তাই অনেককেই বিস্মিত করেছে। তারা এখন নানামাত্রিক পীড়ন ও বঞ্চনায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়া সাংবাদিকদেরও নিজেদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ বোধ করছে। আহ্বানকারীদের দলে সেই সব সাংবাদিকও রয়েছেন যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে নানাভাবে সম্মতি উৎপাদন করেন। আছেন হাসিনার খয়ের খাঁরাও। ফলে কারো মনে সন্দেহ জাগতেই পারে ঐক্যের ছাতা ঠিক কোন কাজে ব্যবহার করা হবে। অপরাধীদের আড়াল করতে ব্যবহার হতে পারে বলেও কারো কারো ধারণা।

ঐক্যের জন্য সমতল জমির দরকার হয়। কোনো ভবনের ধ্বংসাবশেষের ওপর কখনো নতুন ভবন নির্মাণ করা যায় না। ধ্বংসাবশেষ পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার পরই নতুন ভবনের ভিত্তি স্থাপন করতে হয়। উল্লিখিত দুটি সংগঠন ঐক্যের যে গ্রাউন্ড রচনা করেছে, সেটি একটি পুরনো ভবনের ধ্বংসস্তূপের ওপর রচিত। এখানে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার সহায়ক ও সমর্থক অনেকে রয়েছেন। তাদের দায় আড়ালের আচ্ছাদন হতে পারে এমন সংশয় রেখে নতুন ঐক্যের ডাক কীভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে!

বাংলাদেশে সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের গ্রাউন্ড তৈরির জুতসই সময় ছিল হাসিনার নিষ্পেষণকালে। সে সময় যদি তারা সাড়া দিতেন তাহলে সাংবাদিকদের সব দোষত্রুটি ধুয়েমুছে যেতে পারতো। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদের পীড়ন থেকে মজলুমরা বাঁচতেন। বন্ধ হওয়া মিডিয়া রক্ষা করা যেত। কিন্তু এমন এক সময় ঐক্যের ডাক দেয়া হলো, যখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দু’টির পেছনের অনেকের কৃতকর্মের জবাবদিহির আওয়াজ উঠেছে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা কোণ থেকে। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে নিন্দনীয় হামলার পর ঐক্য গড়তে তাদের এই তাগিদবোধ জাগ্রত হয়েছে। এখন তারা অনুভব করছেন, সাংবাদিকতা করতে শক্ত নিরাপত্তাবলয় প্রয়োজন।

দৈনিক সংগ্রামের বয়োবৃদ্ধ সম্পাদক আবুল আসাদকে কারারুদ্ধ করার পর প্রতিষ্ঠান দু’টি কোনো বিবৃতি দেয়নি। স্বনামধন্য দুই সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তারা যাতে নিরাপদে থেকে অন্তত কিছু একটা করেন। সাড়া পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক হয়েও তারা এটিকে দেখেছেন সঙ্কীর্ণ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, জটিল রোগে আক্রান্ত প্রবীণ সম্পাদকের জন্য তাদের মনে কোনো সহানুভূতি জাগেনি। এমনকি ওই ঘটনার সংবাদও তারা ছাপেননি।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি তাদের আচরণ ছিল আরো নির্দয়। উপর্যুপরি হাসিনার রোষানলে পড়েন মাহমুদুর রহমান। তাকে যে নারকীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে, তার নজির মেলা ভার। তাকে কয়েক মাস রিমান্ডে রাখা হয়েছিল। আজকে যারা ঐক্যের ডাক দিয়েছেন,ওই নিষ্পেষণ নিয়ে তাদের সাদামাটা কোনো সংবাদ প্রতিবেদন দেখা যায়নি। কুষ্টিয়ার আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। রক্তাক্ত চেহারা নিয়ে সে দিনের তার প্রতিবাদ সাহসিকতার অনন্য নজির হয়ে থাকবে। আজকের ঐক্যের আয়োজকদের কাছে ওই নৃশংসতা একজন সম্পাদকের ওপর হামলা বলে গণ্য হয়নি।

একই মানিসকতা তারা দেখিয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানের বেলায়ও। হাসিনার রোষের শিকার হয়ে তিনিও জেলে যান। তার পত্রিকাও কেড়ে নেয়া হয়। ‘সম্মিলনে’ আমন্ত্রিত হয়ে শফিক রেহমান প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সম্পাদকদ্বয়ের সেই নিষ্ঠুর নীরবতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনাম নিশ্চয় তারা এ সম্মেলনের পেছনে বড় একটা অবদান রাখছেন। কেন? তারা দেখেছেন, তাদের অফিস পুড়ে গেছে। মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনামকে বুঝতে হবে, যখন নয়া দিগন্ত ও সংগ্রাম আক্রান্ত হয়েছিল, তখন তারা কোনো কথা বলেননি। আমার কাগজ যখন বন্ধ হয়ে গেল আমিও তাদের পাশে পাইনি।’ শফিক রেহমানের বক্তব্য নিয়ে সম্মিলনে দুই সম্পাদকের কোনো ভাবান্তর ছিল না। সাংবাদিকতার নীতি পরিপন্থী কাজের জন্য দোষ ত্রুটি স্বীকার না করলে, অনুতপ্ত না হলে, ঐক্য কীভাবে সম্ভব!

সাংবাদিকদের বেহায়াপনা নিয়ে ‘সম্মিলনে’ শফিক রেহমান বলেন, ‘আপনাদের যখন দালাল বলা হয় তখন দুঃখ লাগে এবং বলবেনও না কেন, যারা ছিল সব আওয়ামী লীগের পক্ষে এখন হয়ে গেল সব বিএনপির পক্ষে...।’ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলনে যে তোষামোদি ছিল তা তারেক রহমানের সংবাদ সম্মেলনেও কিছুটা লক্ষ করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের সংবাদমাধ্যম তারেক বন্দনার নীতি গ্রহণ করেছে। অথচ এরাই তারেক রহমান দুর্নীতিবাজ হিসেবে শত শত প্রতিবেদন ছেপেছে। হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে কল্পকাহিনী রচনা করেছে। যদিও আদালতে তারেকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও প্রমাণ করা যায়নি।

বাংলাদেশে কোনো গণমাধ্যম অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দেবে, তা অবিশ্বাস্য ঘটনা। তার ওপর আয়োজন করে সংবাদপত্র আফিসে হামলা কল্পনাও করা যায় না। নয়া দিগন্তে ফ্যাসিবাদের দোসররা আগুন দেয় লুকিয়ে। অথচ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ প্রকাশ্যে আগুন দেয়। পত্রিকা দু’টির বিরুদ্ধে ভয়াবহ ক্ষোভ ও ঘৃণার প্রকাশ দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু পত্রিকা দু’টি নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে কখনো অনুতপ্ত হয়নি। ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা।

বহু মানুষের জীবন নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, পরিবার ধংস হয়ে যাওয়া, ক্যারিয়ার বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে পত্রিকা দু’টির ভূমিকা আছে। মনে হতে পারে কিভাবে একটি পত্রিকা মানুষ হত্যা করতে পারে, পরিবার ধ্বংস করতে পারে কিংবা ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। বাস্তবে তা-ই ঘটেছে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা-বিষয়ক তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতায়। এ সংক্রান্ত উগ্র প্রচারণা দিয়ে বিরোধীদের দমন করার উপায় তারা হাসিনার জন্য তৈরি করে দিয়েছিল। হাসিনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী হয়ে এ কাজ করেছে তারা। কয়েক হাজার বিরোধী নেতাকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। এক হাজার সাত শ’র মতো গুম করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে মিডিয়ায় কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নেই। দেশে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে; তার স্বীকৃতি বাংলাদেশী মিডিয়ায় ছিল না। তারা এগুলো জঙ্গিবাদ সা¤প্রদায়িকতা দমনের অভিযান হিসেবে ক্রমাগত সমর্থন করে গেছে।

রাজনৈতিক বিরোধীদের নামে একটি সাধারণ অভিযোগ আনা হতো; তাদের কাছে বিপুল অস্ত্র পাওয়া গেছে। জিহাদি বই পাওয়া গেছে। নাশকতার ষড়যন্ত্র করছিল ইত্যাদি। একটি টেবিলে অস্ত্র ও বই সাজিয়ে রাখা হতো। বাস্তবে এগুলো ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাজানো নাটক। সাংবাদিকরা কখনো এসব নিয়ে প্রশ্ন করেননি। এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কেউ চাইলেও প্রশ্ন করা যেত না। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তৃত ঘটনা সম্ভব হয়েছিল শীর্ষস্থানীয় দুটি পত্রিকার অগ্রণী ভূমিকায়। মানুষ দেখেছে, ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে, বিদেশে মুদ্রা পাচার হচ্ছে, সরকারি অফিসগুলো ঘুষের আখড়া হয়ে গেছে। কিন্তু এসব মিডিয়া সেসব থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে তথাকথিত জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সাম্প্রদায়িকতার খবর ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ছেপেছে। মিডিয়া জঙ্গি তকমা দেয়ায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে, অনেকের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে।

বহু সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তার ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়েছে পত্রিকার জঙ্গি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে। সামরিক বাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তারাও তাদের নিশানা হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। এ পত্রিকা দু’টিকে হাসিনা সামরিক বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছেন। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে পত্রিকা দু’টি ১০ ট্রাক অস্ত্র অভিযান নিয়ে ঘোরতর প্রচারণা শুরু করে। ওই মামলা ঘিরে সাবেক এনএসআই প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তারা এমন প্রতিবেদন রচনা করে; যাতে তাদের বিরুদ্ধে রায় দেয়া সহজ হয়। ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, তারা বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের জীবন ছারখার হয়ে গেছে। হাজারো ব্যক্তির মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে পত্রিকা দু’টি দূর থেকে জড়িত, সেটি মানুষের কাছে স্পষ্ট। মানুষের মনের দগদগে ঘা শুকানোর ব্যবস্থা না করে ঐক্যের চেষ্টা কতটা কাজে আসবে কে জানে!

ঐক্যের ডাক দেয়া সংগঠন দুটিতে ফ্যাসিবাদের কিছু দোসর-সমর্থক আছেন। একটি বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপের মিডিয়ার সাবেক সম্পাদক আছেন তবিয়তে রয়েছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে সাংবাদিকতা করেছেন। হাসিনা পালানোর কয়েক দিন আগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সভায় জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন। আরো মানুষ হত্যায় হাসিনাকে উসকানি দেন তিনি। ছাত্র হত্যার বিষয়ে তার মতামত ছিল, খুব কম সংখ্যক ছাত্র মারা গেছে। যারা মারা গেছে, তাদের বয়স বেশি। আন্দোলনকারীদের কাছে অস্ত্র থাকার অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগ দাড়িওয়ালা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গানপাউডার ব্যবহার করে গাড়ি ও সরকারি সম্পত্তি পুড়িয়ে দেয়োর অভিযোগ করেন। এভাবে আন্দোলনকারীদের হত্যার বৈধতা তৈরি করেন নামধারী সম্পাদক। তাকে কার্যকরী পরিষদে বহাল রেখে নোয়াব সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি পদে আসীন ফ্যাসিবাদের কট্টর সমর্থক এক বড় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। পালিয়ে যাওয়ার আগে ফ্যাসিবাদের দোসর অর্থলোভী অলিগার্কদের যে গ্রুপটি নিয়ে হাসিনা সভা করেছিলেন, সেখানে তিনি উপস্থিত হয়ে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি দেশে বিপুল উন্নয়ন কাজের একটি ফিরিস্তি তুলে ধরেন তার ওই বক্তব্যে। হাসিনা সরকার কেন অনন্তকাল দরকার তার কয়েক ডজন যুক্তি উপস্থাপন করেন। ‘শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই’ জনপ্রিয় গানের এ কলি আউড়িয়ে হাসিনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তার মালিকানাধীন দৈনিকটি ৪ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনার ঘোরতর সমর্থক ছিল। এ ধরনের একজন চরম বিতর্কিত ব্যক্তিকে সামনে রেখে কিভাবে মুক্ত-স্বাধীন দেশে সাংবাদিক ঐক্যের ডাক দেয়া যায়!

লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক নয়া দিগন্ত