আজকের যুগে মানুষের জীবনযাত্রা অতীতের চেয়ে আলাদা। প্রযুক্তি, নগরায়ন এবং বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা তীব্র। আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা এতে প্রভাবিত, যা প্রায়শ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আধুনিক সমাজ ব্যক্তিস্বাধীনতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে; কিন্তু এই স্বাধীনতা ব্যক্তিকে এক প্রকার নিঃসঙ্গতার মধ্যে ফেলে।
নগরায়ন ও প্রযুক্তির আধিপত্য মানুষের জীবনে চাপ বাড়িয়েছে। এই চাপের নিরবচ্ছিন্ন স্রোতে আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক অবস্থান আবর্তিত। জীবনের সব উপকরণ হাতের নাগালে; কিন্তু শূন্যতা আর অন্তর্গত হাহাকারের কোনো জবাব নেই। কথিত উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চোরা উদ্বেগ, হতাশার অন্ধকার। আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে।
আগে মানুষ কৌম-খান্দানে বাঁচত, কওম ও খান্দান বাঁচত মানুষে মানুষে। পারিবারিক ও গোষ্ঠীবন্ধন (আসাবিয়্যাহ) মানুষকে দিত মানসিক সমর্থন ও প্রতিবেশ। আধুনিক জীবনে এই বন্ধন শিথিল, বিপন্ন। ছোট পরিবার, দূরবর্তী কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চাপ। কারো সাথে অনুভূতিগত সমর্থন ভাগাভাগির সুযোগ কমছে। ফলে মানসিক চাপ ব্যক্তিগত সমস্যার রূপ নিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করছে। আধুনিক সমাজে আমি ও আমার স্বার্থ সব কিছুর মূল। এর ফলে ব্যক্তি হারাচ্ছে মানসিক স্থিতি ও নিঃসঙ্গতার ক্রমবর্ধমান অনুভূতি, মানুষকে ডাকছে আত্মপলায়নের গহŸরে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া নিঃসঙ্গতা দূর করছে? তারা আমাদের সংযোগের সীমা বাড়িয়েছে। কিন্তু গভীর অর্থে করেছে বিচ্ছিন্ন, বাড়িয়েছে বিভ্রান্তি। তথ্যের অতিপ্রবাহ, নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতা ও তুলনার সংস্কৃতি মানুষের মনের ক্ষতি করছে। ব্যর্থতা, অনুপস্থিতির অনুভূতি বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার চাপ এক প্রকার ক্রমবর্ধমান মানসিক দ্ব›দ্ব তৈরি করছে, যা ব্যক্তির নিজস্ব অস্তিত্ববোধকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
এখন সব কিছুই ‘জরুরি’। ই-মেলের উত্তর, কাজের ডেডলাইন, পরীক্ষার ফল, সামাজিক যোগাযোগের প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এতসব ‘জরুরতের’ ভিড়ে অর্থপূর্ণ কিছু করার অবকাশ কমে যাচ্ছে। মানুষ ব্যস্ত; কিন্তু গভীর নয়, সক্রিয়; কিন্তু সংযুক্ত নয়। এই অবস্থায় মানুষ অভিজ্ঞতাকে ধারণ করছে কম। মানুষ অনেক কিছুরই নিকটে, কিন্তু নিজের থেকে দূরে।
মানুষের জন্য বেড়েই চলছে ভবিষ্যৎমুখী উদ্বেগ। যা তাকে বর্তমান থেকে বিচ্ছিন্ন করে। ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা মানুষকে বর্তমানের অনুভব থেকে সরিয়ে নেয়। ফলে মানুষ বর্তমানে থাকতে পারে না, বিশ্রাম নিতে পারে না, আনন্দ পেতে পারে না। বর্তমান হয়ে ওঠে কেবল ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির এক অন্তর্বর্তীকাল।
আধুনিক সময়বোধ মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। সময় আর জীবনের ধারক থাকে না। সময়ই হয়ে ওঠে এক ধরনের নীরব চাপ। মানুষ সময়ের পেছনে দৌড়ায়; কিন্তু কখনোই তাকে ধরতে পারে না। এই অসম সম্পর্ক থেকেই জন্ম নেয় ক্লান্তি, বিরক্তি ও মানসিক রক্তক্ষরণ।
মানুষের জীবনধারা ক্রমশ ‘উপলব্ধিভিত্তিক’ হয়ে উঠেছে। ধনী বা সফল হওয়া মানসিক চাপ কমাচ্ছে না; বরং আরো প্রতিযোগিতার চক্রে ফেলে দিচ্ছে। ব্যক্তিগত ইচ্ছা (আত্ম-উন্নতি) বনাম সামাজিক প্রত্যাশা (সমাজের মানদণ্ড) তৈরি করেছে আবেগের দ্ব›দ্ব। এতে মানসিক শান্তি বিঘিœত হয়। মানুষকে ‘অর্থনৈতিক দাস’ বা ‘বাজেট ওয়াচার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যেন ব্যক্তির আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতা আর্থিক সফলতা দিয়ে শনাক্ত হবে। ফলে সামাজিক-অর্থনৈতিক কাঠামোটাই হয়ে উঠেছে মানসিক চাপের উৎস। সামাজিক মর্যাদা অর্জনের তাগিদে মানুষ নিজের অন্তরের চাহিদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলা করছে। অর্থনৈতিক সম্পদ শুধু বাহ্যিক নিরাপত্তা দেয়, মানুষের আত্মিক শান্তি বা সন্তুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
শিক্ষার উচ্চাকাক্সক্ষাও সামাজিক মর্যাদার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। ‘ডিগ্রি বনাম মর্যাদা’ নীতিতে, শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় চাপে পড়ছে। এই প্রতিযোগিতা শুধু ব্যক্তিগত চাপে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সামাজিক কাঠামোর প্রেসার তৈরি করে। অন্যদিকে রাষ্ট্র, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজার এমন এক কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ ক্রমাগত পরিমাপ, মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতার বৃত্তে আবদ্ধ থাকে। এর সাথে যুক্ত আছে ‘উপভোগের চাপ’ (consumption pressure)। যা মানুষকে অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং উদ্বেগের দিকে ধাবিত করে। দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, ক্রেডিট কার্ড এবং মাসিক ব্যয়গুলো ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে অস্থির রাখে। এই আর্থিক অস্থিরতা সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যকে চোখ রাঙায়। মানুষকে ক্লান্ত, শূন্য ও ভেঙে পড়া এক সত্তায় পরিণত করে।
মানুষ শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক সমস্যার চিকিৎসা বা সমাধানের চেষ্টা করে কম। সংস্কৃতি ও সামাজিক লজ্জার কারণে মানসিক অসুস্থতা অনেকেই চেপে রাখে। ব্যক্তি প্রায়ই একাকী বা অব্যক্ত চাপে ভোগে। এটি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যক্তির আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে প্রতিফলিত হয়। ফলে সমস্যা গুরুতর আকার নেয় এবং ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে প্রভাবিত করে।
অবিরাম মূল্যায়নের সংস্কৃতি মানুষের মনে এক ধরনের স্থায়ী উদ্বেগ তৈরি করে, আমি বা আমার সন্তান যথেষ্ট ভালো কি না, পিছিয়ে পড়ছি কি না।
এই ব্যবস্থায় মানুষকে সরাসরি দমন করা হয় না; বরং তাকে এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে সে নিজেই নিজের উপর চাপ সৃষ্টি করে। মানুষ নিজের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নেয়। কিন্তু সেই ব্যর্থতার পেছনে যে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অসমতা ও শোষণ কাজ করে সেগুলো অদৃশ্য থেকে যায়। ফলে মানসিক ভাঙন ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়; কিন্তু আসলে তা একটি রাজনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যা।
এই যে চাপ, সবার জন্য তা এক রকম নয়। সামাজিক শ্রেণীভেদ এই চাপের ধরন, গভীরতা এবং পরিণতি নির্ধারণ করে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করলে মানসিক ভাঙনের প্রকৃত চিত্র ধরা পড়ে না।
নিম্œবিত্ত মানুষের মানসিক চাপ প্রধানত বেঁচে থাকার প্রশ্নের সাথে যুক্ত। তাদের জন্য কাজ হারানো মানে শুধু মর্যাদার ক্ষতি নয়, খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার অনিশ্চয়তা। প্রতিদিনের জীবনযাপনই এক ধরনের মানসিক লড়াই। এই চাপ দীর্ঘমেয়াদে হতাশা, আত্মসম্মানবোধের ক্ষয় ও অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু এই শ্রেণীর মানুষের মানসিক সমস্যাকে প্রায়ই স্বাভাবিক কষ্ট হিসেবে ধরে নেয়া হয়, চিকিৎসা বা সহানুভূতি পাবার যোগ্য বলে গণ্য করা হয় না।
মধ্যবিত্তের মানসিক চাপ আবার ভিন্ন প্রকৃতির। তারা পতনের আতঙ্কে ভোগে। তাদের ভয় হলো, আজকের অবস্থান হারিয়ে ফেলার। চাকরি, শিক্ষা, সামাজিক মর্যাদা ধরে রাখার এক অবিরাম চাপ তাদের মনের স্থিতিকে দুর্বল করে। বাইরে থেকে স্থিতিশীল দেখালেও ভেতরে তারা গভীর অনিশ্চয়তায় ভোগে। এই শ্রেণীর মানসিক ভাঙন অনেক সময় নীরব, প্রকাশহীন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
অন্যদিকে, উচ্চবিত্ত বা সুবিধাভোগী শ্রেণীর মানসিক সঙ্কট অনেক সময় অস্তিত্বগত। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থাকার পরও তারা অর্থহীনতা, শূন্যতা ও একঘেয়েমিতে ভোগে। পার্থক্য হলো, এই শ্রেণীর মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, থেরাপি ও বিশ্রামের সুযোগ বেশি। তাদের ভাঙন দৃশ্যমান হলেও পুনরুদ্ধারও সহজ।
শ্রেণীভিত্তিক বৈষম্য মানসিক ভাঙনকেও অসমভাবে বণ্টন করে। শুধু চাপই নয়, সেই চাপ মোকাবেলার সুযোগও শ্রেণীনির্ভর। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে পরিণত হয়।
দেহও এখন মজলুম। সে ক্রমাগত অবহেলিত হচ্ছে। ঘুম কমছে, খাদ্য অনিয়মিত হচ্ছে, শরীর দীর্ঘ সময় স্থির অবস্থায় আটকে থাকছে। স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে ভেঙে দিয়েছে। শরীর ক্লান্ত, চোখ ভারী, পেশি শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় দেহ নিজের ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বাড়ে। এগুলো আসলে দেহের প্রতিবাদ। কিন্তু সমাজ এই প্রতিবাদকে শারীরিক বা মানসিক সমস্যার তকমা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ফলে সমস্যার মূল কারণ অদৃশ্য থেকে যায়।
ফলে আজকের সমাজ বহন করে দেহ ও মনের যৌথ সঙ্কট।
দেহ ও মনের বিচ্ছেদের ফলেই আজকের মানুষ ভেতরে ভেতরে ক্ষত-বিক্ষত। মানসিক চিকিৎসা যতদিন দেহের জীবনযাপন, কাজের ছন্দ এবং বিশ্রামের অধিকারকে গুরুত্ব না দেবে, ততদিন এই ভাঙন পুরোপুরি বোঝা বা সারানো সম্ভব নয়।
তবে সব সঙ্কটের গভীর স্তরে আছে আত্মার অপমান। এই ভাঙনের ভেতরে কাজ করছে এক ধরনের রুহানি শূন্যতা। জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য ও চূড়ান্ত তাৎপর্য হারিয়ে যাওয়ার সঙ্কট। মানুষ ব্যস্ত, কিন্তু জানে না কেন সে এত ব্যস্ত। সফল হতে চায়; কিন্তু বোঝে না সাফল্যের মানে কী। এখানেই জন্ম নেয় অর্থহীনতাজনিত ভাঙন, যা চাপজনিত ভাঙনের চেয়েও নীরব ও গভীর।
ইমাম গাজালি রহ. দেখান, মানুষের সঙ্কটের মূল কারণ হলো হৃদয়ের বিচ্যুতি। তার মতে, মানুষ যখন বাহ্যিক অর্জনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানায় এবং আত্মার পরিশুদ্ধি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন হৃদয় অস্থির হয়ে পড়ে। আধুনিক মানুষ জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতার পেছনে ছুটছে। কিন্তু এই দৌড় তাকে আত্মিক প্রশান্তি দিচ্ছে না। কারণ হৃদয় এমন এক বাস্তবতা, যা শুধু বস্তু দিয়ে পূর্ণ হয় না। অন্তর যদি আল্লাহর স্মরণ থেকে শূন্য হয়, তবে বাহ্যিক সাফল্যও শেষ পর্যন্ত ক্লান্তি ও হতাশায় পরিণত হয়।
ইবনে আরাবির দৃষ্টিতে এই সঙ্কট আরো গভীর। তিনি মানুষের অস্তিত্বকে অর্থপূর্ণ মনে করেন তখনই, যখন মানুষ নিজেকে বৃহত্তর অস্তিত্বের সাথে যুক্ত করে দেখতে পারে। ইবনে আরাবির ভাষায়, মানুষ যখন নিজের প্রকৃত সত্তাকে ভুলে যায়, তখন সে নিজেই নিজের কাছে অচেনা হয়ে ওঠে। এই আত্মবিচ্ছিন্নতাই আধুনিক নিঃসঙ্গতা ও মানসিক ভাঙনের গভীর উৎস।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ এই সঙ্কটকে সামাজিক কাঠামোর সাথে যুক্ত করে দেখেন। তার মতে, একটি সুস্থ সমাজ মানুষের জীবনে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু যখন সমাজ কেবল ভোগ, উৎপাদন ও ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়, তখন মানুষের ফিতরাতি চাহিদা অবদমিত হয়। আধুনিক সমাজে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নৈতিক ও রুহানি সত্তাকে জীবনের কেন্দ্র থেকে তাড়ানো হয়েছে। এই অবক্ষয় মানুষকে এমন এক সমাজে নিক্ষেপ করেছে, যেখানে জীবনের মানে নিয়ে প্রশ্ন তোলার সামাজিক পরিসর সীমিত।
এর ফলেই আমি কেন বাঁচছি, এই প্রশ্নটি আজ সামাজিকভাবে প্রায় অনুপস্থিত। মানুষকে শেখানো হচ্ছে, কীভাবে বাঁচতে হবে। কিন্তু কেন বাঁচতে হবে, এই প্রশ্নটি অপ্রাসঙ্গিক বা অস্বস্তিকর বলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ ভেতরে ভেতরে এই প্রশ্ন বহন করে। কিন্তু তা উচ্চারণের ভাষা বা জায়গা পায় না।
এই নীরব অর্থসঙ্কটই আধুনিক মানসে এক গভীর ফাটল তৈরি করে। এখানে মানুষ কেবল ক্লান্ত নয়, শূন্য। কেবল চাপগ্রস্ত নয়, দিশাহীন। মানুষ তার কষ্টকে কোনো বৃহত্তর অর্থের সাথে যুক্ত করতে পারে না। দুঃখ তখন পরীক্ষাও থাকে না, আল্লাহর ফয়সালাও থাকে না, শুধু বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
আধুনিক জীবনের এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ গঠন করতে হবে ব্যক্তিগত ও কাঠামোগত- উভয় স্তরেই। ব্যক্তিপর্যায়ে জীবনের গতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করা, অর্থপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠন, দেহ-মন-আত্মার যৌথতা ও সমুন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, দক্ষতা ও রুহানিয়াতের উন্নয়ন, নিয়মিত বিশ্রাম, নীরবতা, আত্মসমালোচনা মানুষকে নিজের কাছে নিয়ে যায়।
সামাজিকভাবে পরিবার, প্রতিবেশ ও সম্প্রদায়ের বন্ধন জোরদার করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যকে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন হিসেবে দেখতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকে অবশ্যই গুরুত্ব দেবে। একই সাথে মানবিক বিকাশ ও সুস্থতাকে মূল্য দিতে হবে। সবচেয়ে গভীরে চাই- জীবনের অর্থসন্ধান। জীবনের উৎস, উদ্দেশ্য ও গন্তব্য জানা ও ধারণ করা এমন এক কেন্দ্রবিন্দু, যা আমাদের ভাবনা ও কাজের প্রতিটি ধাপকে যুক্ত করবে বৃহত্তর অর্থ ও সততার সাথে, শুদ্ধি ও সাফল্যের সাথে।
লেখক : কবি, গবেষক



