নিরাপদ নির্বাচনের নিশ্চয়তা

মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি বিশদ ও ব্যাপক। ব্যক্তির নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই সমষ্টির নিরাপত্তা আরো গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপিত হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে জরুরি নিরাপত্তা শাখা গঠিত হতে পারে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাবতীয় অনুযোগ-অভিযোগ, আবেদন-নিবেদন ও আপত্তি-বিপত্তির অবসানে তারা যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। নির্বাচনের আগেই এ ধরনের সেল বা শাখা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

ড. আবদুল লতিফ মাসুম
ড. আবদুল লতিফ মাসুম |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

অনেক অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা অতিক্রম করে নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমস্ত মনোযোগ এতে নিবদ্ধ। নির্বাচন ঘিরে যে উৎসবমুখরতার কথা বলা হয়েছিল তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। শীতের প্রকোপ এবং আইনগত বিধিনিষেধের কারণে ২২ জানুয়ারির আগে প্রচারণার দৌড়ঝাঁপ শুরু হবে না। সম্ভবত বাংলাদেশে এই প্রথম প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য স্বল্প সময় পাচ্ছেন। দীর্ঘ সময়ে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি। আবার স্বল্প সময়ের কারণে ভোটারের কাছে প্রার্থীদের পৌঁছাতে অসুবিধা হবে। রমজানের আগে নির্বাচন করার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সে কারণেই সময় কম। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রার্থিতা দাখিলের সময় অনেকের আবেদন বাতিল হয়েছে। তা নিয়ে অভিযোগ অনুযোগের শেষ নেই। কোনো রাজনৈতিক দল কিছু রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শুরুতেই গলদ হলে তা উতরানো কঠিন হবে। এটি ভালো লক্ষণ নয়।

নির্বাচন যেমন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনই নিরাপদ হওয়া আবশ্যক। নিরাপত্তার অভাব হলে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা অর্থহীন হয়ে পড়বে। এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, বিগত ১৭ বছরে নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠানোর যে প্রচেষ্টা হয়েছে– এটি তার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ। সুতরাং ভোট দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন মানেই কয়েক পক্ষের সমন্বয়। প্রথমত প্রশাসনিক দায়দায়িত্ব, দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক দলের ভূমিকা এবং তৃতীয়ত সাধারণ ভোটারদের সদিচ্ছা। নির্বাচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিশেষত ভোট গ্রহণের দিন এই তিনটির সমন্বয় সাধিত না হলে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন প্রশ্নে একটি বৈরী বৈদেশিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করা যাচ্ছে। স্বৈরাচারের শাসনামলে প্রতিবেশীর প্রকাশ্য ও নগ্ন হস্তক্ষেপের নমুনা আমরা দেখেছি। শেখ হাসিনার পলায়ন থেকে এ পর্যন্ত প্রতিবেশী একবারের জন্যও সহযোগিতার কথা বলেনি; বরং যতই দিন যাচ্ছে মনে হয় তারা ততটাই কঠিন ও কঠোর হচ্ছে। এমনকি খেলা নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। সুতরাং নির্বাচন প্রভাবিত বা নস্যাৎ করার চেষ্টা তারা চালাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাদের এই ভূমিকাকে দু’ভাবে দেখছেন। একটি অদৃশ্য, আরেকটি দৃশ্যমান। অন্য কথায় বলা যায়, একটি রাজনৈতিক, অপরটি অরাজনৈতিক। দৃশ্যমান রাজনৈতিক কার্যক্রমের উদাহরণ জি এম কাদের। আওয়ামী ‘এ’ টিমের পতনের পর তারা ‘বি’ টিমের ওপর ভর করতে চাচ্ছে। এটি কতটা ন্যক্কারজনক যে, জি এম কাদের বলছেন, তাদের অনুমতি ছাড়া আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা যাবে না। যে ‘বি’ টিম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অগ্রহণযোগ্যতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল এখন তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফ থেকে তাদেরকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা তা হচ্ছে– নির্বাচনের আগে-পরে নাশকতা ও সন্ত্রাস। দৃশ্যমান রাজনৈতিক তথা নির্বাচনী কার্যক্রম বলছে, প্রতিবেশীরা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের যে ধারণা পোষণ করছে, তা অধরাই থেকে যাবে। ‘বি’ টিমের প্রতি মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণা দৃশ্যমান হয়েছে। এখন অদৃশ্য বিষয় তথা ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা তারা করতে পারে।

সীমান্ত দিয়ে অবাধ অস্ত্র আসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে খুনের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী কার্যক্রমে সন্ত্রাস সৃষ্টির কাজে এই অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তীকালে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাত থেকে যেসব অস্ত্র বেহাত হয়েছে, তার অধিকাংশই উদ্ধার করা যায়নি। এসব অস্ত্রও নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ব্যক্তিগতভাবে বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের যে অনুমতি সরকার দিয়েছে, তাও প্রশ্নসাপেক্ষ। অস্ত্রের ব্যবহারের অর্থ অস্ত্রের ঝনঝনানিকে স্বীকৃতি দেয়া। বাংলাদেশের জনচরিত্র অনুযায়ী এ ধরনের বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণ হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের উদাহরণ রয়েছে। প্রতিপক্ষকে দমনের ব্যাপারে এ ধরনের অস্ত্র যে ব্যবহৃত হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।

নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণের মানসিক আস্থা ও বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। বিগত ১৬ মাসের উদাহরণ বলে, গুজব-নির্ভর করে অঘটন ঘটতে পারে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বিনষ্ট করার জন নির্বাচনের আগে আরো অঘটন ঘটাতে পারে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুকে অথবা এ ধরনের গণমাধ্যমে প্রায়ই মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক ও অমূলক সংবাদ প্রচার হয়। চ্যানেলগুলো দলীয় প্রবণতার কারণে অস্থিরতায় ইন্ধন দিতে পারে। সামগ্রিকভাবে যা নির্বাচনী আবহাওয়াকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। সে জন্য গণমাধ্যমকে অবশ্যই নির্বাচন অনুকূল ভূমিকা পালন করতে হবে। সঙ্ঘাত ও সন্ত্রাস হতে পারে, এমন সংবাদ বা ভাষ্য প্রচার না করার নির্দেশনা থাকতে হবে। সাইবার অ্যাটাক আরেকটি নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। এসব বিষয় মনিটর করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে শক্তিশালী সেল থাকা দরকার, যারা অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ব্যবস্থা নেবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যু রহস্যময়। সেখানে আওয়ামী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ও অপরাধীর ভারতে পলায়ন প্রমাণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। ভায়োলেন্সের নমুনা হিসেবে অতি সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরিত বোমার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। কেরানীগঞ্জে ইসলামী লেবাসে যে বোমা বানানোর ও বিস্ফোরণের মহড়া দেখলেন, সাধারণভাবে তাদেরকে ইসলামী জঙ্গি বলা খুবই সহজ। কিন্তু এর অন্তরালে যে রহস্য রয়েছে তা বোঝা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। বলা হয়, সিআইএর এজেন্টও জানে না, সে তাদের এজেন্ট। কুশলতা ও কূটাভ্যাসের মাধ্যমে তারা কাজ করে। আপনাদের মনে করিয়ে দিই যে, ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য জেএমবি এবং এমন কয়েকটি ইসলাম নামধারী সংগঠনের ওপর ভর করে কাছের সম্প্রসারণবাদ ও দূরের সাম্রাজ্যবাদ। দেশের ৬৩টি জেলায় পটকা ফুটানো হয়। সেই পটকাকে পারলে তারা পারমাণবিক বোমায় পরিণত করে। এসব আরো সাজানো ঘটনার পর একটি প্যাকেজ ডিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আর ইসলামের নামধারী কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন সবসময়ই পাওয়া যায়, যারা ভাড়া খাটে। আওয়ামী ডামি নির্বাচনেও ইসলাম নামধারী সংগঠনের অংশগ্রহণ ছিল। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ইসলামী শক্তি প্রতিবেশীর কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েতের সাথে সঙ্ঘাতে একটি কৌশল অবলম্বন করত। একটি বোগাস মার্কসবাদী সংগঠন তৈরি করে মার্কসবাদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দিত। এই নির্বাচন সামনে রেখে দূরের ও কাছের বন্ধুরা ইসলামের উত্থানে শঙ্কা প্রকাশ করছে। তাদের এদেশীয় তাঁবেদারদের সহায়তায় তারা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং প্রশাসনিকভাবে এই শঙ্কা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, কোনো কোনো সময় এদের ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ‘মূর্খ হঠকারিতা’র প্রকাশ ঘটছে। নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্য সুপরিকল্পিত উপায়ে তারা কাজ করতে পারে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটি রাজনৈতিক দলের। দলের বক্তৃতা-বিবৃতি, আচার-আচরণ ও কার্যকলাপ নির্বাচনী নিরাপত্তা বিধানের প্রধান নিয়ামক। একটি রাজনৈতিক বিবৃতি সুসম্পর্ক সৃষ্টি করতে পারে, আবার সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের গুণপনার ওপর এ বিষয়টি বেশি নির্ভরশীল। দেখা যায়, নেতার আদেশে কর্মীরা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দেয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি সহনশীল, ধৈর্যশীল ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন না হয় তাহলে বিরোধ, বিদ্বেষ আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছে। হাসিনা একটির বদলে ১০টি খুনের কথা বলেছে। তার বিপরীতে সহনশীল ও সংযমী নেতৃত্বের উদাহরণও রয়েছে। আওয়ামী ও বামরা মিলে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে ওয়ান-ইলেভেনকে অনিবার্য করে তোলে। ক্ষমতা এবং শুধু ক্ষমতাই যাদের আরাধ্য বিষয়, তারাই এসব দুষ্কৃতি করতে পারে। সমাগত নির্বাচন রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধরনের পরীক্ষা।

রাজনীতি তথা নির্বাচনের মতো বিষয়কে নিয়ন্ত্রণের জন্য নেতৃত্বের পাশাপাশি জনগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ জনপদে গণতন্ত্রের অনুশীলন দীর্ঘকালের। দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রের পরিপূরক আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্রের কথা বলে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে। সেই একই ধারার নেতৃত্ব স্বৈরাচার কায়েম করে উন্নয়নের গণতন্ত্রের লেবাস দিয়েছে। জনগণের রাজনৈতিক মন ও মানস তৈরির জন্য যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ অপরিহার্য ছিল, তা নির্মিত হয়নি। অশিক্ষা, কুশিক্ষা, অনগ্রসরতা ও অসচেতনতা জনগণের সত্যিকার গণতান্ত্রিক গুণাবলি অর্জনে সহায়ক হয়নি। বিস্ময়ের ব্যাপার, গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র ধারণ না করে, জনগণ অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে। মিটিং-মিছিল, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্বাচনী মহড়ায় অংশগ্রহণে কখনো ঘাটতি দেখা যায়নি। স্বৈরাচারের সাথে তাল মিলিয়ে তাদের এই অংশগ্রহণকে বলা হয়েছে হাইব্রিড ডেমোক্র্যাসি। এরা গণতন্ত্রের গুণাবলি ধারণ করে না।

সহনশীলতা, সৌজন্য ও সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতি না গড়ে উঠে সন্ত্রাসী, লোভী ও ভায়োলেন্সের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে এসব ভায়োলেন্স-প্রবণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় শঙ্কা। বিগত অর্ধ-শতাব্দীতে নির্বাচন তথা গণতান্ত্রিক চর্চা অবাধ ও অনুকূল না হওয়ার কারণে বাংলাদেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। জনগণের মধ্যে আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। অনেকসময় রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনতিক্রম্য হয়ে ওঠে। সে কারণে যুক্তি, কর্মসূচি ও আদর্শ গৌণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিজাইডিং অফিসার যদি সৎ, সাহসী ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। অপর দিকে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার জন্য সেখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারদের ভূমিকাও অপরিহার্য। অতীতে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বিধায়করা শুধু দাঁড়িয়ে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কখনো কর্তার ইচ্ছায় কীর্তন গেয়েছে। সে কর্তা প্রশাসন, রাজনীতিক এমনকি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক নেতানেত্রী হতে পারে। সাধারণ জনগণ নির্বাচনের ধারক, বাহক ও নিয়ামক হলেও তাদের স্বাভাবিক ভূমিকা রাখা অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে গণ-সচেতনতা দেখা গেছে, তার প্রতিফলন যদি ভোট কেন্দ্রে হয়, তাহলে তা আশার কথা। ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি আছে। নির্বাচন কমিশন ভায়োলেন্স-প্রবণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপনের কথা বলেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন সব নির্বাচন কেন্দ্রই সংবেদনশীল। সুতরাং প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভির ব্যবস্থা করা উচিত।

মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি বিশদ ও ব্যাপক। ব্যক্তির নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই সমষ্টির নিরাপত্তা আরো গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপিত হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে জরুরি নিরাপত্তা শাখা গঠিত হতে পারে। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাবতীয় অনুযোগ-অভিযোগ, আবেদন-নিবেদন ও আপত্তি-বিপত্তির অবসানে তারা যেন নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। নির্বাচনের আগেই এ ধরনের সেল বা শাখা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ,

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]