ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড মরণ কামড়

প্রায় সব দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকই ডলার বাদ দিয়ে সোনা কিনছে। অবস্থা এমন যে, একা চীন যদি এই মুহূর্তে সব মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ছেড়ে দেয় তাহলে এক রাতের মধ্যে আমেরিকান ডলারের মাজা ভেঙে যাবে। চীন এখনো সে পথে যায়নি। কিন্তু চীনের উত্থান রোধে ট্রাম্পের দেশ যেভাবে একের পার এক উসকানি সৃষ্টি করছে, তাতে দেশটি কতদিন ধৈর্য ধরে থাকবে বলা মুশকিল। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাথে আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের মর্মজ্বালা চীনারা শুধু মনেই রাখেনি, সে ইতিহাস শিশুদের পড়িয়েছে এবং এটি তাদের জাতিগত স্মৃতি হয়ে উঠেছে। চূড়ান্তভাবে তারা প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সেই একই অপমানকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা চীনা জাতি সহজভাবে নিচ্ছে না। দেশটি সরাসরি কিছু না বললেও, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক প্রভাব সম্প্রসারণ, অব্যাহত সামরিক প্রস্তুতি ভিন্ন বার্তাই দেয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক কাজই আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির আওতায় থাকেনি। বলা হচ্ছে, তিনি গোটা বিশ্ব ব্যবস্থা, যেটিকে বলা হয় রুল বেসড ওয়ার্ল্ড অর্ডার, ধ্বংস করে দিচ্ছেন। এই বিশ্বব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভ হলো গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। কিন্তু দুইবারের দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প শুধু আন্তর্জাতিক আইনেরই ব্যত্যয় ঘটাননি, নিজ দেশের রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতিও ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখাননি। রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বীরা ট্রাম্পকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’, ‘দায়িত্বহীন’ ও ‘উৎপীড়ক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বরাবরই ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল আমেরিকাকে আবার মহান বানানো, ‘মেক অ্যামেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আমেরিকা গ্রেট হওয়ার পরিবর্তে আরো নিমজ্জনের দিকে যাচ্ছে। মহান নয়, অশিষ্ট ও দুর্বিনীত হয়ে উঠছে।

বিশ্বের মূল ধারার মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পতনের লক্ষণগুলো কখনো তুলে ধরা হয় না। কিন্তু অনেক মার্কিন রাজনীতিক নিজের সামাজিকমাধ্যমে যেসব বক্তব্য তুলে ধরেন এবং দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান থেকে বিষয়টি স্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বছরে এর সুদ আসে এক ট্রিলিয়ন ডলার, যা পরিশোধের ক্ষমতা নেই দেশটির। কারণ সুদ দিতে আরো ঋণ নিতেও হচ্ছে, তাতে ঋণ ও সুদ দুটোই ক্রমাগত বাড়ছে। এই দুষ্টচক্র থেকে উদ্ধারের কোনো স্বাভাবিক উপায় নেই দেশটির সামনে। প্রযুক্তিপণ্য ও যুদ্ধ সরঞ্জামের বাইরে তার আর কোনো পণ্য বিশ্ববাজারে নেই বললেই চলে। দেশটি প্রস্তুতকারক থেকে মূলত আমদানিনির্ভর ভোক্তা দেশে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প চেষ্টা করছেন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিগুলোকে দেশে ফেরাতে। কিন্তু সামান্যই সফল হচ্ছেন।

খাদ্যশস্য রফতানিতে বড় রাজস্ব আসে। সেটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে অযৌক্তিক ট্রারিফে ক্ষুব্ধ গ্রাহক-ক্রেতা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায়। দাঁড়িয়ে গেছে একাধিক প্রতিদ্ব›দ্বীও। চীনের সাথে সাম্প্রতিক চিপস ওয়ার বা মাইক্রো চিপের লড়াইয়ে হেরেছে আমেরিকা। চীনারা এমন সব প্রযুক্তিপণ্য অপেক্ষাকৃত সামান্য দামে বাজারে আনতে শুরু করেছে, যাতে আমেরিকার সব টেক জায়ান্টের মাথায় হাত।

আরেকটি বিষয় বিবেচ্য। আমেরিকার অর্থনীতি তার বিকাশের সর্বোচ্চ শিখর ছুঁয়েছে আগেই। এর পর আর ওপরে ওঠার সুযোগ নেই। প্রাকৃতিক নিয়মেই অবনমন অবশ্যম্ভাবী। সেটিই হচ্ছে। সুতরাং টিকে থাকতে হলে তাকে বিশ্বজুড়ে প্রভাববলয়, তেলের প্রাপ্তি ঠিক রাখতে হবে। ট্রাম্প সেই চেষ্টাই করছেন। তবে নিয়মের মধ্যে থেকে করতে পারছেন না, বিশ্বজুড়ে আস্থা হারানোর কারণে। রাজনৈতিক প্রভাবও খর্ব হয়েছে। অনেক ছোট দেশও তাকে আর মানতে চাইছে না। তাই প্রয়োগ করতে হচ্ছে সামরিক শক্তি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেমন হয়। ভেনিজুয়েলায় অভিযান এই মরিয়া চেষ্টার উদাহরণ। এই অভিযান যতই সেনা সক্ষমতার পরিচয় দিক, ফলাফল পুরোই ধ্বংসাত্মক।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের সব কাজের পেছনে বৈধতার একটি আবরণ সব সময় থাকত। কখনো মার্কিন কংগ্রেসের, কখনো জাতিসঙ্ঘের অনুমোদন নেয়া হতো। কিন্তু এবার বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় হামলা করেছে। হামলার পর ট্রাম্প যেসব বক্তব্য দেন তাতে স্পষ্ট, স্বৈরশাসকের হাত থেকে দেশটির জনগণকে মুক্ত করা নয়; বরং তেলসম্পদ দখলই ছিল লক্ষ্য। ফলাফল হাতেনাতে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রকে আইন লঙ্ঘনের দায়ে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। চীন বলেছে, পরিণতি ভালো হবে না। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দৃশ্যত, এই ইস্যুতে ট্রাম্পের আমেরিকা এখন গোটা বিশ্বে একঘরে। তারপরও যে ট্রাম্প কিউবা এবং ইরানের বিরুদ্ধে তর্জন করছেন তার কারণ- তিনি যে বাঘ, সেটির জানান দেয়া। ভয় দেখিয়ে তাঁবে রাখার কায়দা।

ব্রিকস দেশগুলো বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করছে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য ভাঙার। কয়েকটি দেশ ডলার বাদ দিয়ে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন করছে। অর্থ লেনদেনের জন্য সুইফটের বিকল্পও তৈরি করেছে। সব শেষে সৌদি আরব এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছে। আমেরিকার সাথে ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রির যে চুক্তি করেছিল ৫০ বছর আগে সেটির মেয়াদ ফুরিয়েছে ২০২৪-এ। আর নবায়ন করেননি যুবরাজ ফয়সাল। তিনি চীনের মুদ্রায় চীনের কাছে তেল বিক্রির চুক্তি করেছেন।

এর আগে ট্রাম্পের ট্যারিফ যুদ্ধও তিক্ত ফল দিয়েছে। অযৌক্তিক ট্যারিফ আরোপ মার্কিন আদালতে অবৈধ ঘোষিত হলে তা আপাতত স্থগিত আছে। কিন্তু বিপদ কাটেনি। আমেরিকা যে অর্থনৈতিকভাবে বেকায়দায় আছে তা মুখে না বললেও স্পষ্ট হচ্ছে নানাভাবে। বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়া একটি লক্ষণ। বিশ্ব মোড়ল হিসেবে দেশটি সব সংস্থায় সর্বোচ্চ চাঁদা দিত। এখন দিতে পারছে না। মানে মানে কেটে পড়ছে। দিন কয়েক আগে ট্রাম্প জাতিসঙ্ঘের ৩১টি এবং অন্যান্য ৩৫টি বৈশ্বিক সংস্থা থেকে নিজের দেশকে সরিয়ে নিয়েছেন। এটি পিছু হঠার বড় উদাহরণ।

গত বছরখানেক ধরে ভূরাজনীতির অনেক বিশ্লেষক মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদের সম্ভাব্য পতন প্রসঙ্গে কথা বলছেন। এটি নতুন আলোচনা। তবে অমূলক নয়। সাম্রাজ্যের পতন কিভাবে ঘটে?

প্রথমত, অর্থনীতিতে ধস। মুদ্রার পতন। এটি এখনো দৃশ্যমান নয়। তবে দূরেও যে নয় তা বোঝা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সামরিক প্রভাব ক্ষুণ্ণ। বিশ্বের ৮০টি দেশে আমেরিকার আট শতাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আমেরিকার অধ্যাপক ডেভিড ভাইন তার ‘Base Nation’ গ্রন্থে হিসাব কষে বলেছেন, এসব সামরিক ঘাঁটি পরিচালনায় প্রতি বছর দেশটির প্রায় ১৫৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। প্রত্যেক সৈন্যের পেছনে বছরে ব্যয় হয় ১০ থেকে নিয়ে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত। এই পুরো অর্থই ট্যাক্সের মাধ্যমে জোগান দিতে হয় প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে। আমেরিকার মানুষ এখন অতিষ্ঠ। ইউরোপ এবং জাপানকে নিজের মতো চলতে দিতে চায় এখন। এর অর্থ, এদের পেছনে ব্যয় করা অর্থ সাশ্রয় করা। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাব ফুরিয়ে যাওয়া। এই লক্ষণ এখন স্পষ্ট। বিশ্ব ব্যবস্থাকে ইচ্ছামতো চালাতে পারছে না দেশটি। নিজের দেশেই গণতন্ত্রের ভিত্তি টলে গেছে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মতো ট্রাম্প স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছেন। জনগণের দাবি দমন করতে সৈন্য নামাচ্ছেন। প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ মারছে। এসব দৃশ্য অকল্পনীয় ছিল। ইউক্রেনে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প নিজের ইচ্ছামতো চুক্তি করাতে; বরং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ শক্তি হামাসকে ধ্বংস করতে পারেননি ইসরাইলকে দিয়ে। সিরিয়াতেও নেই দৃশ্যমান সাফল্য।

তবে ট্রাম্প তার এযাবৎকালের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করেছেন সেটি হলো, আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা নষ্ট করা। আমেরিকার ট্রেজারি বন্ড সারা বিশ্বের যেসব দেশ কিনেছে তারা সেগুলো ফিরে পাওয়া নিয়ে এখন শঙ্কিত। কারণ কারো প্রতি বিরূপ হলেই আমেরিকা সে দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে। এটি বাণিজ্যের পরিবর্তে রাজনৈতিক শর্তে পরিণত করেছে দেশটি। আমেরিকার সাথে সামরিক চুক্তি করে যারা নিশ্চিন্ত ছিল তারাও দুশ্চিন্তায়। ‘আমেরিকা যার বন্ধু তার আর শত্রুর দরকার নেই’-এমন কথা প্রচলিত আছে। এই মুহূর্তে সেটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। তাই কেউ আর দেশটিকে আস্থায় নিচ্ছে না। না রাজনৈতিক, না অর্থনৈতিক, না সামরিক মিত্র হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জাপান ও চীন। তার চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ হলো বিশ্বের সব দেশই ডলার কিনতে বাধ্য। কারণ তেল কিনতে ডলার লাগবেই। নিরাপদ রিজার্ভ হিসাবেও ডলার অবিকল্প। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বিশ্বের সব দেশই ডলার তথা আমেরিকার ওপর আস্থা হারিয়েছে। চীন গত কয়েক বছরে ডলার ছেড়ে স্বর্ণ মজুদ করছে। এখন ডলার আছে মাত্র ৮০০ বিলিয়নের মতো। আর স্বর্ণের মজুদ চার থেকে ছয় হাজার মেট্রিক টন। প্রকৃত পরিমাণ জানার উপায় নেই; কারণ প্রকাশ করা হয় না।

প্রায় সব দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকই ডলার বাদ দিয়ে স্বর্ণ কিনছে। অবস্থা এমন যে, একা চীন যদি এই মুহূর্তে সব মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ছেড়ে দেয় তাহলে এক রাতের মধ্যে আমেরিকান ডলারের মাজা ভেঙে যাবে। চীন এখনো সে পথে যায়নি। কিন্তু চীনের উত্থান রোধে ট্রাম্পের দেশ যেভাবে একের পর এক উসকানি সৃষ্টি করছে, তাতে দেশটি কতদিন ধৈর্য ধরে থাকবে বলা মুশকিল।

ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাথে আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের মর্মজ্বালা চীনারা শুধু মনেই রাখেনি, সে ইতিহাস শিশুদের পড়িয়েছে এবং এটি তাদের জাতিগত স্মৃতি হয়ে উঠেছে। চূড়ান্তভাবে তারা প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সেই একই অপমানকর অবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা চীনা জাতি সহজভাবে নিচ্ছে না। দেশটি সরাসরি কিছু না বললেও, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক প্রভাব সম্প্রসারণ, অব্যাহত সামরিক প্রস্তুতি ভিন্ন বার্তাই দেয়।

আমেরিকা এখনো সামরিক দিক থেকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েনি। শক্তি অটুট। তাই দম্ভ, দর্প, অহঙ্কারে চির ধরেনি; বরং আরো বেপরোয়া, আরো নগ্নভাবে শক্তিমত্তা জাহিরের চেষ্টা করছে। যেমনটি ভেনিজুয়েলায়। কিন্তু দেশটি দখলে নিলেও ট্রাম্প সেখানকার তেলসম্পদ কুক্ষিগত করতে পারবেন কি না সন্দেহ। ষাটের দশকে ভেনিজুয়েলা তেলক্ষেত্র জাতীয়করণ করলে কোম্পানিগুলো বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে। এখন সেই কোম্পানিগুলো আবারো ওই দেশে কেবল তখনই যাবে যদি আবারো ক্ষতির মুখে পড়বে না- এমন নিশ্চয়তা পায়। ট্রাম্প সেই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন কি?

ভেনিজুয়েলার পর ট্রাম্প হয়তো গ্রিনল্যান্ডের দিকে হাত বাড়াবেন; অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে। ‘গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার দরকার’-এ কথা বলে জাতিসঙ্ঘ কেন তার নিজের দেশের কংগ্রেসের অনুমোদনও পাবেন না, নিশ্চিত। অবৈধ আরেকটি দেশ দখল আমেরিকাকে পুরোই ডুবাবে।

আমেরিকাকে আবার মহান করার জন্য নয়; বরং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পতন ত্বরান্বিত করার জন্য ট্রাম্প হয়তো বিশ্ববাসীর বাহবা পাবেন। কিন্তু তিনি অবশিষ্ট মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন কি না সন্দেহ। অনেকে বলছেন, আগামী নভেম্বরে দেশজুড়ে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে, তাতে ট্রাম্পের দলের জয়ের সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্পের আগের মেয়াদের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সিএনএনকে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হবে।

সম্প্রতি ট্রাম্পের হাজারো ক‚টকৌশল, হুমকি-ধমকি তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মামদানি। নিউজার্সি ও ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হন। ট্রেন্ড তাই স্পষ্ট।

ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইমপিচড হয়েছেন। কিন্তু সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে ইমপিচ না হলে ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্টকে সরানো যায় না। আগামীতে তেমনটি ঘটার সম্ভাবনা যথেষ্ট। ট্রাম্প নিজেও শঙ্কায়।

মাইক পেন্স বলেন, আমেরিকানরা এখন আগের সেই কালজয়ী নীতি এবং মূল্যবোধগুলোতে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল। সেটি হলো গণতন্ত্র, মানবাধিকার, পারস্পরিক সুসম্পর্ক, আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো মূল্যবোধ, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত ৮০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করেছে। এর সবগুলোই ট্রাম্প পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন।

লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]