১৯৯১ সালে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপির সরকার। বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী। তার হাতেই শিক্ষা ক্ষেত্রে এলো ঐতিহাসিক পরিবর্তন, শুরু হলো সংস্কারের পথে চলা। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক, উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নারী শিক্ষা ফ্রি, প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এসবই আসে খালেদা জিয়ার হাত ধরে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শ্রেণীর বিনামূল্যে সরবরাহকৃত বই শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সব শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছানো পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলো। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতি বছর পয়লা জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতেন।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পর ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার কাঠামো ও কারিকুলাম সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের আঙ্গিকে এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে মূল্যায়নের জন্য শিক্ষাসচিবের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি দীর্ঘ পরিক্রমায় একটি ‘জাতীয় শিক্ষা কাঠামো’ প্রণয়ন করে। এরই ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য কারিকুলাম প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ৪৪টি বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়। এনসিটিবির সাচিবিক সহযোগিতায় এসব কমিটির দীর্ঘ দুই বছরের পরিশ্রমে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৪৪টি বিষয়ের জন্য কারিকুলাম প্রণীত ও অনুমোদিত হয়। জ্ঞান এবং মনোজগৎ বিকাশে উপযোগী এ কারিকুলামের ওপর ভিত্তি করে এনসিটিবির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্বাচিত লেখক কর্তৃক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-পরিমার্জন ও সম্পাদনার পর ১৯৯৬ সালে প্রকাশ করা হয়। এ কারিকুলাম ২০১২ সাল পর্যন্ত বহাল থাকে। অবশ্য খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় শাসনকালে ২০০১-০৬ সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে আরো যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এ সময়কালে ড. ওসমান ফারুকের মতো উচ্চ শিক্ষিত, দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে চারটি সংস্কারপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে হাত দেয়— ১. কারিকুলাম উন্নয়ন; ২. পরীক্ষাপদ্ধতি সংস্কার; ৩. এসবিএ (স্কুলভিত্তিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন) এবং ৪. পাঠ্যপুস্তক বেসরকারীকরণ। এরপর এ বিষয়ে আর সামান্যতম অগ্রগতিও সম্ভব হয়নি।
বস্তুত এ চারটি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা এনসিটিবি সারা দেশে ঢাকা থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও সাধারণ অভিভাবকদের মতামত গ্রহণের জন্য শত শত সেমিনার-ওয়ার্কশপ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক ও প্রতিমন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। সব অংশীজনের মতামত সমন্বিত করে তারপরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ছিল কারিকুলাম উন্নয়ন সম্পর্কিত ‘একমুখী শিক্ষাক্রম’ প্রবর্তন। এ প্রস্তাবে বলা হয় দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান, মানবিক কোনো বিভাগ থাকবে না। এ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থী সবকটি বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করবে। এ প্রস্তাব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলগুলো এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ আয়োজনে দেশ উত্তাল করে তুলল। কিন্তু কারিকুলাম চূড়ান্তভাবে অনুমোদন লাভ করায় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পাঠ্যপুস্তক রচনা করে মুদ্রণ শুরু করে দিলো। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি, মুদ্রণ পুরোদমে চলছে। বিরোধীদের আন্দোলনও তুঙ্গে। কিন্তু সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া আপাদমস্তক গণতান্ত্রিক। তাই তিনি বিরোধীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে একমুখী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত করলেন। মাঝপথে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণও বন্ধ হয়ে গেল। তবে যে আওয়ামী লীগের চাপে একমুখী শিক্ষাক্রমের মতো একটি চমৎকার সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ২০০৬ সালে স্থগিত হয়ে গেল, সে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় এসে তাদের শাসনের শেষ দিকে আবার একমুখী শিক্ষাক্রম চালুর ঘোষণা দিলো। খালেদা জিয়ার শিক্ষা সংস্কারপ্রক্রিয়া প্রকারান্তরে যথার্থ বলে স্বীকার করে নিলো। কিন্তু তাদের ভুল আন্দোলনে বিষয়টি দেড় দশক পিছিয়ে গেল।
দ্বিতীয় সংস্কার প্রস্তাব ছিল SBA (School Based Assessment)। এ প্রস্তাবটির মূল দর্শন হলো, যেসব শিক্ষক প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শিক্ষা দেন, তারাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের Performance দেখে প্রত্যেক ক্লাসেই মূল্যায়ন করবেন (গ্রেড-A, B, C, D…) এভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রমের একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন রেকর্ড করে সিজিপিএ মান বোর্ডে পাঠানো হবে। এসএসসি পরীক্ষার মোট এক হাজার নম্বরের ৭০ শতাংশ (৭০০ নম্বর) মূল্যায়ন আসবে স্কুলের এ সিজিপিএ থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ মূল্যায়নের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বিষয়ের ৩০ নম্বরের একটি সৃজনশীল লিখিত পরীক্ষায় বসবে। ফলে শিক্ষার্থীদের উপর বোর্ড পরীক্ষার ভার অনেক কমে যাবে। এ দু’রকম মূল্যায়নের সমষ্টি থেকে সামগ্রিক গ্রেড নির্ধারিত হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর।
মোটামুটি এক নির্ভার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নপদ্ধতি। এটি সারা পৃথিবীতে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র শিক্ষার্থী মূল্যায়নের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। অথচ এমন একটি পদ্ধতিরও তুমুল বিরোধিতা করল আওয়ামী লীগ ২০০৫-০৬ সালে। তাই সারা দেশে চমৎকারভাবে দু’বছরব্যাপী সব স্কুল-কলেজে প্র্যাকটিস সম্পন্ন হলেও তীব্র বিরোধিতার কারণে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি অর্থায়নের এ পদ্ধতিটির বাস্তবায়নও সরকারকে স্থগিত করতে হলো। আওয়ামী লীগের কারণে আজও দেশে শিক্ষার্থী মূল্যায়নে বিজ্ঞানসম্মত কোনো পদ্ধতি আর চালু হলো না। একইভাবে পাঠ্যপুস্তক বেসরকারীকরণ অর্থাৎ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টিও বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার অর্থাৎ— সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতিটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে ২০১০ সালে গিয়ে। সেটি এখনো চালু আছে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত।
১৯৯২ সালে খালেদা জিয়া প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুমোদন দেন। ওই বছর প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় IUBAT প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর দ্রুত গতিতে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমইএর ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিন দশকের পথপরিক্রমায় আজ দেশে ১৫৫টি প্রাইভেট ও পাবলিক বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জমজমাট উচ্চশিক্ষার আয়োজন। এর আগে শত শত শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর ফলে যে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হতো, তা থেকেও দেশ রক্ষা পেল।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী জগন্নাথ কলেজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে এর অর্ডিন্যান্স পাস করা থেকে শুরু করে প্রজেক্ট ডাইরেক্টর নিয়োগ দিয়ে ২০০৬ সালে চালু করে দিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়াই। আজকের সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত বিশেষায়িত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা— এসব আইডিয়া বেগম জিয়ারই। এমনকি বিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে তিনি ২০০৬ সালে তাদের জন্য Mid Day Food Program চালুর উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাংকের তহবিলের ব্যবস্থা করেন।
একবার বেগম জিয়া শিক্ষামন্ত্রী, প্রাইমারি ও শিক্ষাসচিবকে ডেকে একটা রিপোর্ট দেখালেন। রিপোর্টে ছিল, প্রাইমারি শিক্ষা সমাপনের আগেই শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ঝরে যায়। এডিবির অর্থায়নে প্রাইমারি শিক্ষার্থী drop out বন্ধে প্রকল্প নেয়া হলো। ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি’ চালু হলো। প্রতিটি প্রাইমারি শিক্ষার্থীর পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে চাল, ডাল, তেল দেয়ার কর্মসূচি। সুতরাং অসচ্ছল গ্রামীণ পরিবারের অভিভাবকরা খাদ্য সাহায্যের আশায় নিজ নিজ ছেলেমেয়েকে নিয়মিতই স্কুলে পাঠাতেন।
গণশিক্ষার প্রবর্তনও করেন খালেদা জিয়া। বয়স্ক শিক্ষার দ্বার উন্মোচন তাও তার হাত ধরেই। শিক্ষার্থীদের মননশীলতার বিকাশে তিনি প্রচলন করেন টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে, গত ১৬ বছর আওয়ামী শাসনামলে সব কিছু বাধ্যতামূলকভাবে আওয়ামীকরণের এক নোংরা উদ্যোগ। বই পুস্তকের যত্রতত্র ছিল শেখ মুজিবের ছবি, বক্তব্য, রচনা আর গুণগানের বিরক্তিকর উপস্থিতি। প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে অ্যাসেম্বলিতে হাজির হয়ে সব শিক্ষার্থীকে ‘মুজিব স্তুতিমূলক’ এক দীর্ঘ শপথনামা পাঠ করতে হতো। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকতেই দেখা যেত কোটি কোটি টাকায় নির্মিত চোখধাঁধানো গেট। একটু এগুলেই ভেতরে প্রথম দেখা যায় শেখ মুজিবের ম্যুরাল, ভাস্কর্য অথবা মূর্তি। আর ভবনে থাকত একটি কক্ষ যেটি নেতার নামে অথবা নেতার ছোট রাজপুত্রের নামে ‘কর্নার’।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে কারিকুলাম পরিবর্তন আর পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের পুরো কার্যক্রমটি ছিল কেলেঙ্কারিতে ভরা। দলীয় বুদ্ধিজীবীদের পরিচালনায় কারিকুলাম উন্নয়নের নামে নানা দেশী-বিদেশী উৎস থেকে content চুরি, সুদূর আফ্রিকার কোনো দেশের কোচিং সেন্টারের প্রশ্ন নকলসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মের ছড়াছড়ি। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিতর্কিত কারিকুলাম বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে। কিন্তু গত দেড় বছরেও এ সরকার আর কোনো শিক্ষাসংস্কারে হাত দেয়নি। এর অর্থ দাঁড়াল, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে শিক্ষাকে যেখানে রেখে এসেছিলেন, এটি গত ১৯ বছর যাবৎ সেখানেই আছে।
শিক্ষা মানুষের মনের দুয়ার খুলে দেয়। যথাযথভাবে শিক্ষিত হতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু থেকে শিখনপ্রক্রিয়া হতে হয় উপভোগ্য, মনভোলানো। একের পর এক ক্লাসে গৎবাঁধা চর্চা, কষ্ট করে বিষয়বস্তু মুখস্থ করতে কার ভালো লাগে। কারিকুলাম তৈরি করতে হবে দেশের আঙ্গিকে, দেশকে মনে প্রাণে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা অনুসারে।
কারিকুলাম অনুযায়ী রচিত পাঠ্যপুস্তক হতে হবে দেখতে আকর্ষণীয়, চমৎকার, স্পষ্ট হরফে ভালো কাগজে মুদ্রিত। বইয়ের আকার হতে হবে সীমিত, নিয়ন্ত্রিত কলেবরে। অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপিত বিষয়বস্তু যেন শিক্ষার্থীরা পড়েই বুঝতে পারে, পড়ে যেতে মন চায়। বই ছাড়াও এর সাথে অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ বা উপলক্ষ ব্যবহার করা যায় যা শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।
একজন শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর খুব ভালো বন্ধু, যার কাছে শিক্ষার্থী যখন-তখন পৌঁছাতে পারে। শিক্ষক ক্লাসে কোনো বিষয়বস্তুকে অনেকটা গল্পের ছলে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরবেন। এর পরের কাজটি শিক্ষার্থীদের। গ্রুপ করে তারা মনের আনন্দে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়বস্তুটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে। এরপর তারা মনের আগ্রহে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে, উত্তর খুঁজবে। প্রয়োজনে শিক্ষক ভূমিকা রাখবেন, তথ্য সরবরাহ করবেন। এভাবে আগ্রহ-নির্ভর আলোচনায় শিক্ষার্থীরা শিখবে। আমাদের দেশে যেমন ক্লাসে শুধু শিক্ষকই কথা বলেন, তেমনটি আসলে আদর্শ পদ্ধতি নয়। কাঁড়ি কাঁড়ি বইয়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে মোটা মোটা বইয়ের কঠিন সব বিষয়বস্তু না বুঝে মুখস্থ করে পরীক্ষায় দীর্ঘ উত্তরপত্র লিখে যাওয়া কোনো শিক্ষা নয়। দয়া করে আমাদের শিক্ষার্থীদের এসব থেকে একটু রেহাই দিন। শিক্ষা কী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখুন।
লেখক : প্রাক্তন চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড



