মুজিব ও জিয়া কেন মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বলেননি

ওয়ালিউল হক

‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’- এটি বর্তমানের একটি বহুল প্রচারিত ও উচ্চারিত বাক্য। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু বলতে গিয়ে প্রথমেই এ কথা বলে নেয়। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতও এ কথা বলে। মজার ব্যাপার হলো, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী এক দশকে অর্থাৎ সত্তরের দশকে কোনো দল কথাটা বলত না। এটি বলা শুরু হয় আশির দশকে।

আশির দশকের প্রথমার্ধে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে উৎখাত করে সেনাপ্রধান লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন; তখন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে টানতে এ কথা বলা শুরু করেন। জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র। সদা হাসিমুখ, সদালাপী, নম্র ও ভদ্র আচরণের অধিকারী জেনারেল এরশাদ মানুষকে সহজে কাছে টানতে পারতেন।

রমণীমোহন এরশাদের সাথে অনেক নারীর অনৈতিক সম্পর্কের রসালো গল্প সমাজে চালু আছে। কিন্তু তার সান্নিধ্যে গিয়ে অনেক পুরুষও মত পাল্টে তার দলে যোগ দিয়েছিলেন। উদাহরণ হিসেবে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সিরাজুল হোসেন খান, আনোয়ার জাহিদ, আতাউর রহমান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

রাজনীতিক হিসেবে এরশাদ ছিলেন চতুর। যে যাতে তুষ্ট হয়, তাকে তাই দিতেন। যেমন, দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মন জয় করতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম এবং শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করেন। প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন এলাকার মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতেন। আবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মন আকর্ষণ করতে তাদের ভাতা বাড়িয়ে দেন। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে ২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা দেন। ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের জন্য ইস্কাটনে জায়গা বরাদ্দ দেন। সব জেলায় মুক্তযোদ্ধা সংসদের জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এতকিছু করলেও সুযোগ থাকা সত্তে¡ও এরশাদ নিজে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেননি। এরশাদের বক্তব্য ছিল, ‘একাত্তরের শুরুতে তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে বদলি করে দেয়ায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি।’ অবশ্য এ নিয়ে তার সমালোচকদের অভিযোগ, ’৭১ সালের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে রংপুরে ছিলেন এবং আরো একবার রংপুরে ঘুরে যান।

মেজর রফিকুল ইসলাম ‘প্রতিরোধের প্রথম প্রহর’ বইয়ে জানিয়েছেন, কর্নেল এরশাদ সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ছুটিতে রংপুরে অবস্থান করছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে এপ্রিলের প্রথম দিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান এবং কাজে যোগ দেন। তিনি তার অসুস্থ বাবা মকবুল হোসেনকে দেখতে সেপ্টেম্বরে আরো একবার রংপুরে এসেছিলেন।

এখন প্রশ্ন হলো, এরশাদের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ঘোষণা করা হলেও স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের আমলে এমন ঘোষণা করা হলো না কেন? শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার স্থপতি বলা হলেও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার তেমন আগ্রহ ছিল বলে মনে হয় না। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ তার নামে পরিচালিত হলেও তিনি তাতে অংশ নিতে পারেননি। সে সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পশ্চিম পাকিস্তানে আটক ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তিনি বীরের বেশে ফিরে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে পরিচালিত হয়েছে সে সম্পর্কে কখনো কারো সাথে আলাপ করেননি। এমনকি তিনি তার জীবদ্দশায় মেহেরপুরের মুজিবনগর পরিদর্শন করেননি। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে এখন অনেক ভালো ভালো কথা বলা হলেও একাত্তরেই তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠা শুরু হয়েছিল। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র’-এর একাদশ খণ্ডে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক লেখা ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের একটি পত্রে মুক্তিবাহিনীর নৃশংস কার্যকলাপের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পত্রলেখক ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), যিনি পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি ও শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ডিসেম্বরের ৪ তারিখে ওই পত্রে তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তাঞ্চলে মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়েছে। নিয়মিত বাহিনী ও গণবাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে খারাপ অভিযোগ রয়েছে। তাদের নৃশংসতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার সমতুল্য।

দুঃখের বিষয় হলো তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেশির ভাগ অভিযোগই সত্য (পৃষ্ঠা-৪৯৫)। ওই খণ্ডের ৫২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ছাপা ক্যাপ্টেন হামিদের লেখা একটি পত্র থেকে জানা যায়, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিএসএফের কিছু কর্মকর্তার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে ভারতে নিয়ে যেতেন। অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভেও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে অবাঙালি হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় তারা আবালবৃদ্ধবনিতা নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেন। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন এবং ধনসম্পদ লুটে নেন। ওই সব হত্যাকাণ্ডের কিছু বিবরণ একুশে পদক ও পদ্মভূষণপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের লেখা ‘আমার একাত্তর’, শর্মিলা বসুর ‘ডেড রেকনিং’, মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফারুক আজিজ খানের ‘বসন্ত ১৯৭১’, আহমদ ইলিয়াসের ‘বিহারী বাংলাদেশে ভারতীয় অভিবাসী’, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কাজী নুরুজ্জামানের ‘এ সেক্টর কমান্ডার রিমেম্বারস বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ১৯৭১’ বইয়ে উল্লেখিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র জমা না দেয়ায় এবং পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের হাতে চলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতি ঘটে। ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী হিন্দু শরণার্থীদের ফেলে যাওয়া জমিজমা, অবাঙালিদের বাড়িঘর, ধনসম্পদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী বাঙালিদের বাড়িঘর, ধনসম্পদ লুট করে অনেকে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের অনেকে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেও মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম ব্যাচের কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কাইউম খান তার ‘বিটারসুইট ভিক্টরি : এ ফ্রিডম ফাইটার’স টেল’ বইয়ে ১৯৭১ সালের মার্চে বিভিন্ন ব্যাংক ও ট্রেজারি থেকে লুট করে ভারতে নিয়ে যাওয়া অর্থ আত্মসাতের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, স্বাধীনতার পর তাদের জীবনযাত্রার মান হঠাৎ করে উন্নত হয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা সমর্থিত হয়। মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিব এইচ টি ইমামের লেখা ‘বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১’ থেকে জানা যায়, অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে আগস্ট মাসে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল।

১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় সরকারের পরিবর্তে এককভাবে সরকার গঠনের পর জাসদ ও সর্বহারা পার্টি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে যারা জাসদ গঠন করেছিলেন, তারা যেমন ছিলেন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা তেমনি সিরাজ শিকদারের নেতৃত্বাধীন সর্বহারা পার্টির সদস্যরাও ছিলেন দেশের ভেতরে থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধা। আবার তাদের দমন করতে আওয়ামী সরকার যে বাহিনী মাঠে নামায় তারাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। মুজিব বাহিনী ও কাদেরিয়া বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের নিয়ে গঠিত রক্ষীবাহিনী বামপন্থীদের নির্মূল করতে যে নৃশংস দমন অভিযান চালায় তাতে ৩০-৪০ হাজার মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় সাতজন সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগেরও অনেক লোক নিহত হন। তাদের অনেকে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

’৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রথম সরকারের আমলে খুন, ব্যাংক ডাকাতি, রাহাজানি, মজুদদারি ও চোরাকারবারির সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকে জড়িয়ে পড়েন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে সাতজনকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রহত্যার যে প্রথম ঘটনাটি ঘটে, সেই নিহত ছাত্ররা যেমন ছিলেন মুক্তযোদ্ধা, তেমনি হত্যাকারীরাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। চট্টগ্রামের ‘ম্যান সেরু মিয়া’ খ্যাত চোরাকারবারিও ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। সাপ্তাহিক বিচিত্রা একবার ঢাকার যে চার টপটেররকে নিয়ে কাভার স্টোরি করেছিল ওই চার টপ টেররও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭৫ সালের আগস্টের যে সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও বাকশাল প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন, সেই অভ্যুত্থানকারীদের সবাই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের মধ্যে শরিফুল হক ডালিম ছিলেন বীর উত্তম, নূর চৌধুরী ছিলেন বীর বিক্রম, রাশেদ চৌধুরী, মুসলিম উদ্দিন ছিলেন বীর প্রতীক। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্রে সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, খন্দকার আব্দুর রশীদসহ অনেকের বীরত্বের কাহিনী ছাপা হয়েছে।

আবার পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে যে পাল্টা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় তাতে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তারাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ব্রিগেডিয়ার সাফায়েত জামিল, কর্নেল হুদা, মেজর হাফিজ, মেজর নাসির, লে. কর্নেল সাফফার তাদের অন্যতম। খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যারা ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান ঘটান তারাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কর্নেল তাহের ছিলেন ওই অভ্যুত্থানের অন্যতম কুশীলব।

পরে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনেক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান হয়। তাতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক নিহত হন। ১৯৮১ সালের ৩১ মে চট্টগ্রামে যে সেনা অভুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হন; তার নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর (বীর উত্তম)। তার সহযোগীরাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। সেনা অভ্যুত্থান ঘটানোর অপরাধে কোর্ট মার্শালে যে ১৩ জনকে ফাঁসি দেয়া হয় তারা হলেন, ব্রিগেডিয়ার মহসীন উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, কর্নেল নওয়াজেস উদ্দিন, কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ বীর প্রতীক, লে. কর্নেল এ টি এম মাহফুজুর রহমান বীর বিক্রম, লে. কর্নেল মো: দেলোয়ার হোসেন বীর বিক্রম, মেজর এ জেড গিয়াসউদ্দিন আহমদ, মেজর রওশন ইয়াজদানী ভূঁইয়া বীর প্রতীক, মেজর কাজী মমিনুল হক, মেজর মো: মুজিবুর রহমান, ক্যাপ্টেন আবদুস সাত্তার, ক্যাপ্টেন জামিল হক এবং লেফটেন্যান্ট রফিকুল হাসান খান ও লে. কর্নেল শাহ মো: ফজলে হোসেন।

এসব মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর বিভিন্ন মহল থেকে এরশাদকে মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর এরশাদ মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আনতে নানা পদক্ষেপ নেন। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবগাথা প্রচার শুরু করেন। আওয়ামীপন্থীরা জানতেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরাবান্বিত করা হলে আখেরে তা আওয়ামী লীগের জন্য লাভজনক হবে। কারণ, অস্বীকারীরের কিছু নেই যে, মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়।