professionalism শব্দটির উৎস ইংরেজি profession; আর profession শব্দটির মূল ল্যাটিন professio, যার অর্থ প্রকাশ্যে ঘোষণা করা বা অঙ্গীকার করা। এর ধাতু profitçri— অর্থাৎ সামনে এসে স্বীকার করা, নিজের বিশ্বাস বা দায়িত্ব প্রকাশ্যে গ্রহণ করা। তাই professionalism কেবল কোনো কাজ জানা নয়; বরং কোনো আদর্শ, নীতি বা কর্তব্যের প্রতি সচেতন ও ঘোষিত প্রতিশ্রুতি। এখানে কাজ একটি ব্যক্তিগত সুবিধা নয়; বরং এক নৈতিক অবস্থান।
দার্শনিক দৃষ্টিতে professionalism হলো মানুষের নৈতিক চেতনার এক বিশেষ রূপ। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি তার কর্মকে কেবল জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখে না; বরং দায়িত্ব, কর্তব্য এবং আত্মসম্মানের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে। কর্তব্যবাদী নীতিশাস্ত্রের আলোকে এটি সেই চেতনা, যেখানে কাজ করা মানে ফল বা লাভের কথা আগে না ভেবে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করা। এখানে সততা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও প্রতিশ্রুতি পালন কেবল বাহ্যিক আচরণ নয়; এগুলো নৈতিক বাধ্যবাধকতা।
গুণনৈতিকতার আলোকে professionalism চরিত্রের ঔৎকর্ষের সাথে যুক্ত। একজন প্রকৃত পেশাজীবী কাজের মাধ্যমে তার অভ্যন্তরীণ গুণাবলির প্রকাশ ঘটান, যেমন— সততা, সংযম, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। এই গুণগুলো কোনো নিয়মের ভয়ে নয়; বরং অভ্যাসগত চরিত্রের অংশ হিসেবে প্রকাশ পায়। ফলে professionalism হয়ে ওঠে চরিত্রের ধারাবাহিক অনুশীলন, যেখানে কাজের মান ব্যক্তির নৈতিক মানের প্রতিফলন।
সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে professionalism এক প্রকার আস্থার চুক্তি। সমাজ যখন কাউকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করে, তখন তার প্রতি এক নীরব বিশ্বাস স্থাপন করে। সেই বিশ্বাস রক্ষা করার মধ্যেই পেশাদারত্বের প্রকৃত অর্থ নিহিত। কাজের দক্ষতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহি ও নৈতিক স্বচ্ছতা। কারণ পেশা কেবল ব্যক্তির নয়, এটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর অংশ।
অস্তিত্ববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে professionalism মানুষের আত্মনির্মাণের এক পথ। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে। সে যেমন কাজ করে, তেমনি তার পরিচয় গড়ে ওঠে। তাই পেশাগত সততা মানে নিজের অস্তিত্বকে অর্থপূর্ণ করা, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা। এখানে professionalism বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি অন্তর্গত শৃঙ্খলা ও আত্মসম্মানের প্রকাশ।
অতএব, professionalism হলো দক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বিত প্রকাশ, যেখানে কাজ কেবল জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং আত্মপ্রকাশ, চরিত্রগঠন এবং সামাজিক আস্থার রক্ষণাবেক্ষণের এক অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া।
রাষ্ট্র পরিচালনার যেকোনো পর্যায়ে রদবদল কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি নীতিগত অবস্থান, একটি দর্শন এবং সর্বোপরি একটি পেশাদার মানদণ্ডের পরীক্ষা। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে সামরিক, প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার কাঠামোতে পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়; বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই রদবদলের ভিত্তি কী? দলীয় আনুগত্য, নাকি যোগ্যতা ও পেশাদারত্ব ?
সুশাসনের মৌলিক শর্ত হলো নিরপেক্ষ ও দক্ষ প্রশাসন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে যদি প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসে, তবে তা অবশ্যই একটি স্বচ্ছ নীতির আলোকে হওয়া উচিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী Max Weber তার বিখ্যাত আমলাতন্ত্র তত্ত্বে বলেছিলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন তা ব্যক্তিনির্ভর নয়; বরং নিয়ম-নির্ভর ও দক্ষতা-ভিত্তিক হয়। অর্থাৎ— রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়; বরং নির্ধারিত নীতি, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত প্রধান মানদণ্ড।
সামরিক বাহিনী একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতীক। এখানে পেশাদারত্বের কোনো বিকল্প নেই। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পদায়ন বা রদবদলে যদি রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বাহিনীর মনোবল ও শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীকে সচেতনভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হয়— কারণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কখনো দলীয় স্বার্থের সাথে মিশে যেতে পারে না।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠপ্রশাসন-প্রতিটি স্তরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন সরকারি কর্মকর্তারা। তারা যদি নিজেদের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির প্রতিনিধি হিসেবে ভাবতে শুরু করেন, তবে জনগণের প্রতি তাদের জবাবদিহি দুর্বল হয়ে যায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Theodore Roosevelt বলেছিলেন, ‘The best executive is the one who has sense enough to pick good men to do what he wants done.’ অর্থাৎ— নেতৃত্বের দক্ষতা প্রমাণিত হয় সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে নিয়োগের মাধ্যমে।
স্থানীয় সরকার কাঠামো— ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন, জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক স্তর। এখানেই সেবার মান সবচেয়ে দৃশ্যমান। যদি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনে দলীয় প্রভাব কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সেবা ব্যাহত হয়। বরং অভিজ্ঞতা, সততা ও স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিলে স্থানীয় সরকারই হয়ে উঠতে পারে উন্নয়নের চালিকাশক্তি।
দলীয় বিবেচনা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা বাস্তব রাজনীতিতে সহজ নয়, এ কথা অনেকে বলতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা আর দল পরিচালনা এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে নীতির ভিত্তিতে; কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে। এই দুইয়ের সীমারেখা যত স্পষ্ট থাকবে, সুশাসন তত শক্তিশালী হবে।
Lee Kuan Yew সিঙ্গাপুরকে একটি দক্ষ প্রশাসনিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে গিয়ে বারবার মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও কঠোর জবাবদিহির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তার মতে, If you want good government, you must have good people. GB good people বলতে তিনি বোঝাতেন সৎ, দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই দর্শন প্রযোজ্য।
অন্যদিকে, যদি রদবদল হয় প্রতিশোধপরায়ণতা বা দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে, তবে প্রশাসনের ভেতরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কর্মকর্তারা নীতি নয়; বরং ‘কোন শক্তি ক্ষমতায়’-সেই হিসাব কষতে শুরু করেন। এর ফল হয় দ্বিমুখী : একদিকে দক্ষতা কমে যায়, অন্যদিকে দুর্নীতির সুযোগ বাড়ে। হতাশা ছড়িয়ে পড়ে পেশাজীবীদের মধ্যে, আর জনগণ হারায় আস্থা।
দুর্নীতি কখনো হঠাৎ জন্ম নেয় না; এটি জন্ম নেয় অনিরাপদ ও পক্ষপাতদুষ্ট কাঠামোর ভেতর। যখন একজন কর্মকর্তা জানেন যে, তার পদায়ন বা পদোন্নতি নির্ভর করছে পেশাগত সাফল্যের ওপর, তখন তিনি কাজের প্রতি মনোযোগী হন। কিন্তু যদি তিনি দেখেন রাজনৈতিক আনুগত্যই প্রধান চাবিকাঠি, তবে পেশাদারত্ব স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এই তত্ত্ব বারবার সামনে এনেছে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পেরেছে এ প্রশ্ন বহু বছর ধরেই আলোচিত। বিশেষ করে পতিত আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ গুম, খুন, হামলা, মামলা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় আনুগত্যকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশাসন বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৫ বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে দৃশ্যমান সব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের প্রতিযোগিতা চলেছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়া, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিরোধী মত দমনে ভয়ঙ্কর আয়নাঘরের সংস্কৃতি চালু করেছে। নির্বাচনকে কার্যত নির্বাসনে পাঠিয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা নিরপেক্ষতার মানদণ্ডে যতটা বিতর্কিত ছিল, আওয়ামী সরকারের কাছে ততটাই প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে রাষ্ট্র ধীরে ধীরে হতাশা, দুর্দশা ও দুর্নীতিতে ডুবে মহা সঙ্কটের দিকে ধাবিত হতে থাকে।
এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনেকেই খুঁজে পান শেখ মুজিবের শাসনে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে রাষ্ট্রগঠনের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। কিন্তু তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, একদলীয় ব্যবস্থা (বাকশাল) প্রবর্তন এবং সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জাতিকে হতাশ করেন। সে সময়ই দল ও রাষ্ট্রের বিভাজনরেখা কার্যত মুছে যায়, যার প্রভাব পড়ে পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন নিজেকে তুলনামূলক বহুদলীয় প্রতিযোগিতা ও উদারনৈতিক অর্থনৈতিক নীতির পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন ও বাজারমুখী অর্থনীতির সূচনার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক ধারার জন্ম দেন। বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও সংসদীয় কাঠামো ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের দাবি করা হয়। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকলেও বিতর্কহীন ছিল না। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা যে কোনো সরকারের ক্ষেত্রে একটি সংস্কৃতি লক্ষণীয়। সেটি হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ‘নিরাপদ আনুগত্য’ সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যাপক জন-আন্দোলন এই দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দেয়। অবশেষে শেখ সাহেবের পরিণতি না হলেও দেশ থেকে পালিয়ে প্রভুদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ— এই ঘটনাগুলো রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে সামনে আসে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়-বিশ্বাস পুনরুদ্ধার। নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি, প্রশাসনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত পদায়নের মাধ্যমে একটি আস্থাশীল পরিবেশ গড়ে তোলা ছিল তাদের অগ্রাধিকার। সফলতা বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-জনগণের প্রত্যাশা এখন আরো বেশি প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্বের দিকে।
ইতিহাস প্রমাণ করে, ব্যক্তি বা দল নয়— প্রতিষ্ঠানই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখে। যদি সামরিক, প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার কাঠামোয় রদবদল হয় স্বচ্ছ নীতি ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে, তবে সেটি সংস্কারের সূচনা হতে পারে। কিন্তু যদি রদবদল হয় কেবল আনুগত্যের মানদণ্ডে, তবে সেটি হবে অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি। রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বিজয় নয়, প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য। সুশাসন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন যোগ্যতা ও সততা হবে পদায়নের একমাত্র মাপকাঠি আর রাষ্ট্রযন্ত্র দাঁড়াবে দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে, জনগণের আস্থার ভিতের ওপর।
সুশাসন নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিষয় অপরিহার্য : প্রথমত, পদায়ন ও রদবদলের ক্ষেত্রে লিখিত নীতিমালা ও স্বচ্ছ মানদণ্ড থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার যাচাই প্রক্রিয়া হতে হবে দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক। তৃতীয়ত, প্রশাসনিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও নৈতিক মানদণ্ড জোরদার করতে হবে।
রাষ্ট্রের শক্তি তার অবকাঠামোতে নয়; বরং তার প্রতিষ্ঠানের সততা ও দক্ষতায়। নতুন সরকার যদি সত্যিই পরিবর্তনের বার্তা দিতে চায়, তবে সেই পরিবর্তনের সূচনা হওয়া উচিত পেশাদারত্ব কেন্দ্র করে। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দেয়া গেলে প্রশাসন হবে আত্মবিশ্বাসী, সামরিক বাহিনী হবে সুসংগঠিত, আর স্থানীয় সরকার হবে জনমুখী। ইতিহাস সাক্ষী, যেখানে প্রতিষ্ঠান দুর্বল, সেখানে দুর্নীতি শক্তিশালী হয়; যেখানে পেশাদারত্ব উপেক্ষিত, সেখানে হতাশা জন্ম নেয়। সুশাসনের বিকল্প নেই, আর সুশাসনের ভিত্তি একটাই, পেশাদারত্ব ।
লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



