বেগম খালেদা জিয়া-পরবর্তী রাজনৈতিক শূন্যতা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার যেন নিয়তির বিধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া তার সহধর্মিণী হিসেবে উত্তরাধিকারের সেই দায় সার্থকতার সাথেই সম্পন্ন করেছেন। এখন সেই দায় জিয়াউর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকার ও আদর্শের উত্তরাধিকার তারেক রহমানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বর্তেছে। মানুষ আশা করে, একটি ইস্পাত কঠিন রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি করে তিনি উত্তরাধিকারের দায় ও দাবি পূরণ করবেন।

অবিসংবাদিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বড় ধরনের এক রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমান যথার্থই লিখেছেন, তিনি হারিয়েছেন একজন মমতাময়ী মাকে। আর বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র হারিয়েছে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াকু এক নেত্রীকে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তার শূন্যতা অনুভব করছেন তারেক রহমান। তিনি লিখেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন পরিবারের সত্যিকারের অভিভাবক; এমন একজন আলোকবর্তিকা যার অপরিসীম ভালোবাসা আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়েও শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন। চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ পীড়নের শিকার হয়েছেন। তবুও যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকেও তিনি অদম্য সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিলেন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে। তারেক রহমানের এই উক্তির সাথে যুক্ত করা যায় এই বাক্যটি যে, তিনি তার পরিবারের মধ্যেই সীমিত ছিলেন না; বরং বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রকে বানিয়ে ফেলেছিলেন এক বৃহত্তর পরিবার। এ দেশের মানুষের সময়-অসময়, ভালো-মন্দ ও সুখ-দুঃখে তিনি ছিলেন অভিভাবক। রাজনীতি ও রাষ্ট্রে তার অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়। ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে’ কী হবে আমরা জানি না; কিন্তু দিব্য চোখে অনাগত সময়ে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অসহায়ত্ব সহজেই অনুমেয়।

বেগম খালেদা জিয়া এমন এক সময় চলে গেলেন যখন তার প্রয়োজনীয়তা, তার নেতৃত্ব ও অভিভাবকত্ব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ উদীয়মান গণতন্ত্রের সূর্যকে যখন আলিঙ্গন করতে যাচ্ছে, দেদীপ্যমান গণতান্ত্রিক সূর্যের প্রত্যাশা করছে এবং সত্যিকার অর্থে সমাগত নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে- সে সময় তার এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু জনগণের হৃদয়ের গহিন গভীরে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।

গতানুগতিক অর্থে খালেদা জিয়া রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী এক রাষ্ট্রনায়ক। রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনায়কের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নানা তত্ত্বকথা আছে। একজন রাজনীতিক সরকার পরিচালনার শিল্প বা বিজ্ঞানে অভিজ্ঞ। অন্য দিকে একজন রাষ্ট্রনায়ক প্রজ্ঞার সাথে ও সঙ্কীর্ণ দলীয় মনোভাবের ঊর্ধ্বে উঠে তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রনায়করা জনগণকে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করেন। আর রাজনীতিকরা জনগণের দাবিদাওয়া দ্বারা পরিচালিত হন। কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপের ব্যয় সম্পর্কে রাজনীতিবিদদের আগ্রহ থাকে; কিন্তু রাষ্ট্রনায়করা চিন্তা করেন- সেই পরিকল্পনা বা পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে। একজন রাজনীতিক কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যয় নিয়ে মাথা ঘামান, রাষ্ট্রনায়ক সেই পরিকল্পনার যথার্থতা নিয়ে অনুসন্ধিৎসু হন। রাজনীতিকরা তাদের নির্বাচক জনগোষ্ঠীকে উচ্চকণ্ঠে জানান, তারা তাদের জন্য কী কী করছেন; কিন্তু রাষ্ট্রনায়করা নির্বাচকমণ্ডলীর জন্য যা করতে পারেন তার চেয়েও বেশি ভাবেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে। খালেদা জিয়া রাজনীতিক ছিলেন; কিন্তু তার ছিল রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি।

এ প্রসঙ্গে জেমস ফ্রিম্যান ক্লার্কের (James Freeman Clarke) মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘A politician thinks of the next election; a statesman thinks of the next generation’। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক একটি স্বাধীন জাতির স্বাধীন নেতা। তার চারটি গুণ থাকতে হবে : ১. একগুচ্ছ মূলনীতি; ২. একটি নৈতিক মানদণ্ড; ৩. একটি স্বপ্ন; ৪. জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা। বেগম খালেদা জিয়া আলোচিত এ গুণাবলির অধিকারী ছিলেন। তার মূলনীতিগুলোর প্রতি তিনি ছিলেন পরিপূর্ণভাবে নিষ্ঠাবান। নেতা হিসেবে তার সততা ছিল প্রশ্নাতীত। একজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, হ্যারি এস ট্রুম্যান বলেন, ‘একজন রাষ্ট্রনায়ক মানুষের মধ্যে থাকা গৌরবকে কাজে লাগিয়ে হৃদয়ের মাধ্যমে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। যথার্থভাবে বেগম খালেদা জিয়া তাই করেছেন। দেশকে নিয়ে তার স্বপ্নের লক্ষ্যে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এভাবে তিনি অসম্ভব জনপ্রিয় নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। রাজনৈতিক এলিটদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অবসান ঘটিয়ে মানুষের যোগ্যতা অনুসারে মূল্যায়নের নীতি চালু করেন।

একজন রাষ্ট্রনায়ক স্পষ্টভাবে দেখতে পান, তার দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ পথচলা কেমন হতে পারে। তিনি জানেন, কোথায় তাদের নিয়ে যেতে চান এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে কী করতে হবে। দেশের মানুষকে নিজের স্বপ্ন ও দর্শন সম্পর্কে বুঝিয়ে প্রত্যয়ী করে তোলার সামর্থ্যরে ওপর একজন রাষ্ট্রনায়কের ঐকমত্য গড়ে তোলার সাফল্য নির্ভর করে। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি তার জনগণকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হতে সক্ষম। ইতিহাস প্রমাণ করে, তিনি তার জনগণকে তার আদর্শ দর্শনে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। একজন রাষ্ট্রনায়ক জনগণ তথা রাষ্ট্রের সাধারণ স্বার্থকে নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপরে স্থান দেন। ছোট সমস্যা থেকে বড় সমস্যাগুলোকে পৃথক করেন। রাষ্ট্র কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সমস্যার গহিন গভীরে প্রবেশ করেন। তার সমাধানে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। বিরাজমান বাস্তবতাকে বদলে দিয়েই তিনি পরিবর্তন নিশ্চিত করেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির দ্ব›দ্ব ও সঙ্ঘাত ভালো করে বুঝতেন এবং সমস্যার সমাধান করতে পারতেন।

বেগম খালেদা জিয়া যখন গৃহবধূর আঁচল ডিঙিয়ে মিছিলের ঝাণ্ডা ধরলেন, তখন অনেকের কাছেই এটি অপ্রত্যাশিত ছিল। বিএনপির ক্ষমতালোভী অংশ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখল, তাদের পায়ের তলার মাটি অনেক অনেক দূরে সরে গেছে। অপর দিকে দেশপ্রেমিক অংশের কাছে এটি ছিল আশীর্বাদ। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার ক্যারিশমা তথা সম্মোহনী শক্তি কার্যকর হলো, ডাকসুসহ প্রায় প্রতিটি ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো। নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে এই ছাত্র প্রজন্ম হয়ে উঠল বিএনপির জয়ের হাতিয়ার।

আপসহীন নেত্রীর যে অভিধা তিনি অর্জন করেছেন, তা শুধু এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নয়; তার পরবর্তী প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনে তার প্রমাণ রেখেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আপস করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। তা তিনি করেননি। ২০১৮ সালে নিশিথ নির্বাচনে তিনি অনুপস্থিতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে তিনি সায় দেয়নি। শেখ হাসিনার মিথ্যা মামলা, নির্জন কারাগার ও অসুস্থতা তাকে দমাতে পারেনি। বিদেশে পাঠানোর আবেদন যখন অগ্রাহ্য হয়, তখন তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। আপসহীন নেত্রীর উপাধি তিনি অযথাই অর্জন করেননি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আমাদের নেতা-নেত্রীরা লোভে, ভয়ে অথবা ক্ষমতার তোড়ে আপস করেন। সমকালীন রাজনীতি থেকে একজন বিশ্বস্ত বলে কথিত মেজর জেনারেল এবং হুঙ্কারকারী নেতা নির্লজ্জের মতো বিকিয়ে গেলেন। সুতরাং খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন নেত্রীর শূন্যতা রয়েই যাবে।

ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের মানুষ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপি গড়েছিলেন। এরশাদীয় ভগ্নাংশ ব্যতীত বিএনপির তেমন কোনো ভাঙন নেই। একজন কে এম ওবায়দুর রহমান অথবা মান্নান ভ‚ঁঁইয়া খালেদা জিয়াকে পরিত্যাগ করার বিনিময়ে তারাই রাজনীতি থেকে পরিত্যক্ত হয়েছেন। বিগত ১৭ বছরের দুর্যোগ-দুঃসময়ে লোভ ও ক্ষমতায় দু-একজন বিশ্বাসঘাতক প্রস্থান করায় বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া অন্তরীণ হওয়ার পর তারেক রহমান তার নেতৃত্ব ও যোগ্যতা দিয়ে দলে ঐক্য ধরে রেখেছেন। মা হিসেবে এবং বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের মাতৃহৃদয় হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার শূন্যতা পূরণ হবে না।

বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের সমস্যাটি প্রকট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান জাতীয় ঐক্যে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তার জীবনীকার মাহফুজ উল্লাহ, হায়দার আকবর খান রনোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘জিয়া আওয়ামী লীগ-বিরোধী সব শক্তিকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।’ (মাহফুজ উল্লাহ, ২০২৫ : ১০৭) তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া সরকারের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক ঐক্যকে প্রাতিষ্ঠানিকতা দান করেছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করেন। ১৯৯৬ সালে এই ঐক্য ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের দায় ও দায়িত্ব রয়েছে। ২০০১ সালে সেই ঐক্য আরো বর্ধিত কলবরে চারদলীয় ঐক্যজোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেখানে জামায়াত-বিএনপি সরকারে যোগদান করে। ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ-বিরোধী আন্দোলনে ২০ দলীয় ঐক্যজোট প্রথম দিকে শক্ত ভূমিকা পালন করে। আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রে সেই ঐক্য আর টিকে না থাকলেও সেখানে বেগম জিয়ার ভূমিকা সবসময়ই ইতিবাচক ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটপরিবর্তনের পর বেগম খালেদা জিয়া এ বছরের ফেব্রæয়ারিতে অনুষ্ঠিত দলের বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে ছাত্র-যুবকসহ দেশবাসীর কাছে আহŸান রাখতে চাই, আসুন প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয়, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই একটি বাসযোগ্য উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করি।’

জনগণকে সম্পৃক্ত করে ঐক্য গড়ে তোলার আহŸান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সাথে নিয়ে ওদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিতে হবে।’ তার উত্তরাধিকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান অনেকবার একই রকম কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয়, নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যখন বিভেদ, বিরোধ ও বিতর্ক চলছে, তখন খালেদা জিয়ার শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে, আবারো জাতিকে ঐক্যসূত্রে গ্রথিত করার জন্য। এখন বেগম খালেদা জিয়ার স্থলে তারেক রহমান স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে জাতীয় ঐক্যের দায় ও দায়িত্ব এখন বর্তেছে তারেক রহমানের ওপর।

নির্বাচন অবশ্যই একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলেন, এটি হচ্ছে বিজ্ঞান ও কলার শিল্পরূপ। নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই সম্পর্কের একটি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একে- অপরের বিপরীতে যুক্তিতর্ক ও জনকল্যাণের প্রতিযোগিতা থাকবে; কিন্তু কোনোক্রমেই প্রতিহিংসা কাম্য নয়। প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান অনুসৃত নির্বাচনী কলাকৌশল স্মরণ করা যায়। ওই নির্বাচনে চরম ডানের তোয়াহা, চরম ডানের মাওলানা আবদুর রহিম ও বাম ধারার প্রফেসর মুজাফফর আহমদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই নির্বাচনী শিল্পকলার পেছনে জিয়াউর রহমানের নেপথ্যে সমর্থন ছিল। উল্লেখ্য, নির্বাচন হচ্ছে একটি প্রীতিপূর্ণ প্রতিযোগিতার মতো। একটি ফুটবল খেলায় যেমন নিয়ম-কানুন, রীতি-রেওয়াজ ও ভদ্রতা-সভ্যতা বজায় রেখে খেলতে হয়, তেমনি নির্বাচন একটি রাজনৈতিক খেলা। নির্বাচন কমিশন সেখানে রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। খালেদা জিয়ার অতীতে নির্বাচনগুলোর ভূমিকার কথা মনে রেখে তার শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার যেন নিয়তির বিধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া তার সহধর্মিণী হিসেবে উত্তরাধিকারের সেই দায় সার্থকতার সাথেই সম্পন্ন করেছেন। এখন সেই দায় জিয়াউর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকার ও আদর্শের উত্তরাধিকার তারেক রহমানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বর্তেছে। মানুষ আশা করে, একটি ইস্পাত কঠিন রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি করে তিনি উত্তরাধিকারের দায় ও দাবি পূরণ করবেন।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]