এমন একজন মানুষের সম্পর্কে আমি লিখতে বসলাম যেন আমার কলম কাঁপে। বলছি শ্রদ্ধেয় মোস্তাফা জামান আব্বাসীর কথা। এ রকম একজন বড় মাপের, বড় ঘরের, বড় বংশের মানুষ সম্পর্কে লেখার সাহস আমার হওয়ার কথা নয়, তবুও কেন যেন মনে হচ্ছে সেই ১০ মে থেকে এ কয়েকটি দিন ধরে যে, না লিখলে ভুল হয়ে যাবে।
আমরা বিজ্ঞ মানুষের জীবনাচরণের ব্যাপারে যথেষ্ট আকৃষ্ট থাকি। সব সময় মনে হয় যেন ওনারা আমাদের স্মরণীয় বরণীয় তো বটেই; বরং জীবন পথের পথপ্রদর্শক। একদিন একটি ছোট্ট লেখা খবরের কাগজের কোনাকাঞ্চির এক জায়গায় আমার চোখে পড়ল। লেখাটির শিরোনাম ‘ণড়ঁ ড়ষফ ভড়ড়ষ’ । এ শিরোনামে আমাদের মাথার মুকুট সমান মোস্তাফা জামান আব্বাসী কি লিখলেন? লেখাটি পড়ে মনে হলো- বুকভরা ব্যথা চাপা দিয়ে রাখতে না পেরেই তিনি ছোট্ট ওই লেখাটি লিখেছেন। বিষয়টি আমার কাছে প্রতিভাত হলো এভাবে যে, তার গাড়ি ও আমাদের দেশে সদ্য জাতে ওঠা কোনো এক ধনাঢ্য ব্যক্তির সন্তানের গাড়ি পাশাপাশি চলার পথে অল্পের জন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং সেই ধনাঢ্যের সন্তান খুব সহজেই মোস্তাফা জামান আব্বাসীকে দায়ী করে ফেলেছেন এবং তার মুখ থেকে একটি এক্সপ্রেশন বেরিয়ে এসেছে। লেখাটি পড়ে আমার ওই মুহূর্তে আর্তচিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল- ‘এই আমার দেশ, আহা বেশ বেশ বেশ!’
লেখাটি পড়ে কিছুক্ষণের জন্য আমি নির্বাক। তবে কিছু না করে পারলাম না। খবরের কাগজের ওইটুকু কেটে নিয়ে আমার চাকরিক্ষেত্র প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচার বোর্ডে দিয়ে একটু হলেও স্বস্তি বোধ করলাম। মনে মনে ভাবলাম হয়তো আমার ছেলেমেয়েরা কিছু অন্তত শিখবে। শিক্ষা ভালো কিছু থেকেও হয় আবার অত্যন্ত নিকৃষ্টতা থেকেও হয়ে থাকে। মোস্তাফা জামান আব্বাসীর মতো একজন গুণধর মানুষ বিশ্বে ক’জন হয়? তিনি গানের জগতে দিকনির্দেশক, একজন গবেষক। তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লøাহ তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমিন।
লেখক : বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, সাবেক চেয়ারম্যান প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



