গ্রিনল্যান্ড কেন মূল্যবান? কারণ একাধিক। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক কৌশল, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক রাজনীতির কারণে গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রথমত, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় আর্কটিক অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এ অবস্থানের কারণে সামরিক নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য গ্রিনল্যান্ড খুবই উপযোগী। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করে, যা উত্তর গোলার্ধের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য যেকোনো শক্তিধর দেশের কাছে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত মূল্যবান। দ্বিতীয়ত, গ্রিনল্যান্ডে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এখানে বিরল খনিজ উপাদান পাওয়া যায়, যা আধুনিক প্রযুক্তি যেমন- মোবাইল ফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু বিদ্যুৎ এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অপরিহার্য। এ ছাড়া ইউরেনিয়াম, সোনা, লোহা, দস্তা এবং সম্ভাব্য তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে এসব সম্পদ আহরণ তুলনামূলকভাবে সহজ হয়ে উঠছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।
তৃতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে এবং এর ফলে নতুন সমুদ্রপথ খুলে যাচ্ছে। এই নতুন নৌপথগুলো এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। চতুর্থত, গ্রিনল্যান্ডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাও অনেক। বিশাল হিমবাহ ও নদ-নদীর কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুযোগ রয়েছে।
পঞ্চমত, রাজনৈতিক দিক থেকেও গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও অনেক গ্রিনল্যান্ডবাসী পূর্ণ স্বাধীনতা চায়। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর আগ্রহ ও বিনিয়োগ গ্রিনল্যান্ডের কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলছে। আর্কটিক অঞ্চলের শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে গ্রিনল্যান্ডের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে।
ষষ্ঠত, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তর পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানকার বরফে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে হাজার হাজার বছর আগের পৃথিবীর জলবায়ু সম্পর্কে জানা যায়। ভবিষ্যতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কতটা বাড়তে পারে, তা অনুমান করতেও গ্রিনল্যান্ডের গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তমত, গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র অঞ্চলে মাছ ও সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে। সব মিলিয়ে বলতে হবে, গ্রিনল্যান্ড আজ অতি মূল্যবান।
গ্রিনল্যান্ড ও তিন পরাশক্তি
গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব মূলত যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার পারস্পরিক টানাপড়েন থেকেই তৈরি। যুক্তরাষ্ট্র একে দেখে আর্কটিক নিরাপত্তা ও উত্তর আটলান্টিক প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে, যেখানে তার সামরিক উপস্থিতি আগে থেকেই রয়েছে। চীন আবার গ্রিনল্যান্ডকে ভবিষ্যৎ সম্পদ ও ‘পোলার সিল্ক রোড’-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্য দিকে রাশিয়া আর্কটিক অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তারে ক্রমেই আগ্রাসী হচ্ছে। ফলে বরফে ঢাকা দ্বীপটি এখন তিন পরাশক্তির কৌশলগত হিসাব-নিকাশের কেন্দ্রে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রিনল্যান্ড মূলত একটি নিরাপত্তা সম্পদ। গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত পিটুফিক স্পেস বেস যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও মহাকাশ নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এটি রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ। তাই গ্রিনল্যান্ডে চীনের অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত উপস্থিতিকে ওয়াশিংটন নিছক বাণিজ্যিক বিষয় হিসেবে নয়; বরং সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
চীনের আগ্রহের ধরন ভিন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত তা একই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেয়। বেইজিং নিজেকে একটি ‘নিয়ার-আর্কটিক রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতের বাণিজ্য, জ্বালানি ও বৈজ্ঞানিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলকে দেখে। গ্রিনল্যান্ড চীনের পোলার সিল্ক রোড ধারণার সাথে যুক্ত, যা বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের সম্প্রসারণ। এর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের বিপুল খনিজ সম্পদ চীনের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো বা খনি খাতে সীমিত চীনা উপস্থিতিও আর্কটিকে বেইজিংকে কৌশলগত অবস্থান দিতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে গ্রিনল্যান্ডে চীনা প্রকল্পগুলো ঠেকানোর চেষ্টা করছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি স্পষ্ট ‘রেড লাইন’-এ পরিণত হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তার করতে পারলে ভবিষ্যতের নৌপথ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ এবং আর্কটিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর প্রভাব রাখা সম্ভব।
গ্রিনল্যান্ড দখল হতে পারে
ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন বলছেন, গ্রিনল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্র ‘না নিয়ে নেয়’ তাহলে চীন বা রাশিয়া তা দখল করে নেবে। আসলে এটি এক কৌশলগত বার্তা। এটি যুদ্ধের ভাষা নয়; বরং আধিপত্য রক্ষার সতর্ক সঙ্কেত। রাশিয়া ইতোমধ্যেই আর্কটিকে সামরিক ঘাঁটি জোরদার করছে এবং চীন অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক উপস্থিতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করার কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নিষ্ক্রিয় থাকলে এই দুই শক্তি ধীরে ধীরে আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বাড়িয়ে নেবে।
ন্যাটোকে সতর্ক করার মধ্যেও একটি গভীর বার্তা আছে। ট্রাম্প বারবার ন্যাটো মিত্রদের বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র একা আর্কটিকের নিরাপত্তার ভার বহন করবে না। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা কেবল ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং পুরো ন্যাটো জোটের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাজনৈতিক কৌশল। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী ধারার একটি পরিচিত কৌশল, যেখানে ভয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ সৃষ্টি করা হয়।
চীনের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা আরো সূক্ষ্ম। চীন সামরিক শক্তি ব্যবহার না করেও অবকাঠামো বিনিয়োগ, খনি প্রকল্প ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করছে। ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন, এ ধরনের ‘নীরব অনুপ্রবেশ’ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। তাই গ্রিনল্যান্ডকে এখনই পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে শক্তভাবে ধরে রাখা জরুরি।
ট্রাম্প কি যুদ্ধ করবেন
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ‘আমাদের মূল্যবোধ’, ‘আন্তর্জাতিক আইন’ ও ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’-এর কথা বলেন। ডেনমার্ক স্পষ্ট করতে চেয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনো বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি নয়; বরং একটি জনগোষ্ঠীর বাসভূমি, যাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা স্বীকৃত।
ভেনিজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ এবং ইরানে সরকার পতনের পদক্ষেপে প্রশ্ন ওঠে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সত্যিই গ্রিনল্যান্ডের জন্য যুদ্ধ করতে পারেন? উত্তর হলো, সরাসরি সামরিক যুদ্ধের সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে ন্যাটোর একটি প্রধান শক্তি হিসেবে, আরেকটি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তা হবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবিহীন আত্মঘাতী পদক্ষেপ। এতে ন্যাটো নিজেই ভেঙে পড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের সম্পূর্ণ বিপরীত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবও অনেক বিশ্লেষকের মতে একটি কৌশলগত বার্তা- যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তা প্রকাশ্যে জানিয়ে দেয়া। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রিনল্যান্ডে প্রভাব বিস্তারের জন্য যুদ্ধ ছাড়াও বহু কার্যকর উপায় রয়েছে। সামরিক ঘাঁটি, অর্থনৈতিক সহায়তা, কূটনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
মেটে ফ্রেডেরিকসেনের ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের’ উল্লেখ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সংবেদনশীল বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে এই নীতির বিরোধিতা করতে পারে না, কারণ বিশ্বজুড়ে তারা এই নীতি সমর্থন করে এসেছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের জনমত উপেক্ষা করে বল প্রয়োগ করে, তাহলে তাদের নৈতিক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং চীন ও রাশিয়া দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলার সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও কূটনীতিতে যুদ্ধ পরিহার এমন একটি রূপ- যেখানে অস্ত্রের চেয়ে প্রভাব, আইন ও ভাষাই বেশি কার্যকর।
দূরের বরফ, কাছের বাস্তবতা : বাংলাদেশ
প্রথম দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ড সঙ্কট বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য দূরের ও সম্পর্কহীন মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতা হলো, পরাশক্তির প্রতিযোগিতা যেখানে তীব্র হয়, তার অভিঘাত শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব পরোক্ষ হলেও তা গভীরভাবে প্রভাবশালী। সবচেয়ে সরাসরি সম্পর্কটি জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে। গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে, আর এর দ্রæত গলন বাংলাদেশের মতো নিচু ও উপকূলীয় দেশের জন্য অস্তিত্বের হুমকি তৈরি করে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের ঘটনাবলি বাংলাদেশেরও জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সাথে সরাসরি জড়িত।
গ্রিনল্যান্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক নৌপথ ধীরে ধীরে কার্যকর হলে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর দিয়ে চলা প্রচলিত বাণিজ্য পথগুলোর গুরুত্ব দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা কমতে পারে। বৈশ্বিক লজিস্টিক ব্যবস্থা ও জ্বালানি পরিবহন কাঠামো বদলে যেতে পারে, যা বাংলাদেশকে তার বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সংযোগ আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের গ্রিনল্যান্ড-কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শিক্ষা বহন করে। এই দ্বীপটি দেখিয়ে দেয় কিভাবে ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন কোনো ছোট বা দূরবর্তী অঞ্চলকেও হঠাৎ বৈশ্বিক কৌশলগত গুরুত্বের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশকে তাই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে, কোনো একক শক্তি বলয়ের সাথে নিজেকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ না করে।
আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথ চালু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের রুট বদলাবে, যার প্রভাব পড়বে সমুদ্রপথনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে। একই সাথে পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও কূটনৈতিক মেরুকরণ আরো তীব্র হতে পারে- যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন করে তুলবে।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার



