তারেক রহমানের দায়িত্বের তিন সপ্তাহ

রাজনৈতিক বিরোধ ও অমিলগুলোকে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত আদর্শের ছায়াতলে এনে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই হবে নতুন সরকারের প্রধান সার্থকতা। এই পরিবর্তনের সুফল যেন দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছায়, তবেই এই মহৎ একনায়কত্ব বা জনকল্যাণকামী শাসন সার্থকতা লাভ করবে।

বাংলাদেশের মতো জটিল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উত্তরাধিকারের রাজনীতি একটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক বাস্তবতা হিসেবে স্বীকৃত। এই বাস্তবতার যেমন ইতিবাচক প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, তেমনি এর নেতিবাচক পরিণতির ঝুঁকিও প্রবল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক কাঠামোতে উত্তরাধিকারের নেতৃত্ব যদি জনকল্যাণকামী ও প্রজাহিতৈষী হয়, তবে তাকে মহৎ একনায়কত্ব বা Benevolent Dictatorship বলা যেতে পারে। অন্যদিকে, সেই একই শক্তি যদি জনমত উপেক্ষা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, তবে তা চরম স্বৈরাচারে পর্যবসিত হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দুই বিপরীতধর্মী বাস্তবতারই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই। শেখ মুজিবুর রহমান যে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সূচনা করেছিলেন, তা পরবর্তী সময়ে যখন তার উত্তরসূরিদের ওপর অর্পিত হয়, তখন থেকেই এর মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতার বীজ উপ্ত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের জন্মের পরপরই বাকশালের মাধ্যমে সেই স্বেচ্ছাচারিতার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস এই যে, শেখ হাসিনার শাসনামলে সেই একই স্বেচ্ছাচারিতা ও দুঃশাসনকে পরাভূত করতে এদেশের সাধারণ মানুষকে অকাতরে রক্ত বিসর্জন দিতে হয়েছে। অপরদিকে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন মূলত একজন সামরিক শাসক। সাধারণ সংজ্ঞায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান একজন সামরিক শাসকের কাছ থেকে উচ্চতর গণতন্ত্র প্রত্যাশা করে না। কিন্তু জিয়াউর রহমান ছিলেন নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাকরণের মতো এক ব্যতিক্রমী পুরুষ, যিনি এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ঘটিয়েছিলেন। তার এই মহৎ উত্তরাধিকারকে সার্থকভাবে বহন করে বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় রাজনীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারই তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে আসীন হয়েছেন। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক কঠিন সংগ্রামে জনগণের নিরঙ্কুশ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

Taeq-Rahman-12-3

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি তারেক রহমানের ওপর যে আস্থা জ্ঞাপন করেছে, তা ইতিহাসের এক অনন্য সমীকরণ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার সাথে জিয়া পরিবার যেন এক অবিচ্ছেদ্য পরিপূরক সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই মূল্যায়ন কোনো তোষামোদ বা প্রশস্তির বিষয় নয়; বরং এটি সমকালীন এক বাস্তবতা। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘তোষামোদের ভাষা ও সংস্কৃতি’ যে একটি নেতিবাচক আলোচ্য বিষয়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

চব্বিশের ঐতিহাসিক গণবিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিএনপির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনকি একটি প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনের আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছিলেন। তবে ক্ষমতার হাতছানি ও অতি-উৎসাহী নেতাকর্মীদের কিছু নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ফলে সেই জনপ্রিয়তায় সাময়িক ভাটা পড়েছিল। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক প্রতিশক্তি হিসেবে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। এমতাবস্থায় তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং জিয়া পরিবার ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বিএনপিকে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেয়। এই নিরঙ্কুশ বিজয় যেমন আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে, তেমনি এর নেপথ্যে কিছু নিগূঢ় আশঙ্কার মেঘও জমে আছে। আনন্দ এই কারণে যে, একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাওয়া রাজনৈতিক দল নির্দ্বিধায় দেশগঠনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু ক্ষমতার চিরন্তন সত্য হলো এই, ‘সার্বিক ক্ষমতা সার্বিকভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত করে’ বা Absolute power corrupts absolutely. সুতরাং বিএনপির প্রতি জনগণের এই বিপুল আস্থা তাদের জন্য যেমন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে তাদের পরিণতির ইতিহাসও ভিন্নতর হবে না।

প্রবাদ আছে, Morning shows the day as child shows the man. অর্থাৎ— সকাল দেখেই যেমন দিনের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, তেমনি শুরুর আচরণ দেখেই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত মেলে। তারেক রহমান বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ হলো। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তার নেয়া পদক্ষেপে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শিক উত্তরাধিকারের অনুকরণ অনুভূত হচ্ছে। বিমানবন্দরে অবতরণ করে দেশের মাটিকে স্পর্শ করা এবং সাধারণ মানুষের কথা স্মরণ করা প্রমাণ করে, মাটি ও মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা গভীর। বুলেটপ্রুফ বিলাসবহুল গাড়িতে না চড়ে সাধারণ বাসে চড়ে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষকে জিয়াউর রহমানের সেই অতি সাধারণ জীবনযাপনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তার প্রতিটি জনসভার উচ্চারণে বারবার ইসলামী রীতিনীতির প্রতিফলন ও মূল্যবোধের অনুকরণ লক্ষ করা যায়। এমনকি জনসভার মঞ্চে নামাজ আদায় করার বিষয়টি এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অকপট শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নামান্তর। রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যকে সম্মান প্রদর্শন ও সৌজন্যবোধের যে নতুন সংস্কৃতি তিনি চালু করেছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর বিরোধীদলীয় নেতাদের বাসভবনে গমন করা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের জন্ম দিয়েছে। শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচিকে যুগোপযোগী করে ৩১ দফায় সম্প্রসারিত করা এবং জনসভায় সেই কর্মসূচিগুলোর বারবার উত্থাপন প্রমাণ করে, তিনি উন্নয়নের ধারায় তার পিতার আদর্শকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল মূলত জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার এবং তার ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি জনগণের সমর্থন।

গত ৮ মার্চ সাধারণ এক কার্যদিবসে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সবার উদ্দেশে মুচকি হেসে বলে ওঠেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই’। আকস্মিক এই তিন শব্দের বাক্যে উপস্থিত সবাই কিছুটা হতচকিত হলেও পরক্ষণেই স্পষ্ট হয়, তিনি দেশ পরিচালনার বিশাল কর্মযজ্ঞ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকেই একটি ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিগত বছরগুলোতে দেশের প্রধানমন্ত্রী চলাচলের সময় রাজপথ দখল করে দাপিয়ে বেড়ানোর যে দাম্ভিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা তিনি পরিবর্তন করেছেন। যাত্রাপথে প্রটোকল এবং বিশাল পুলিশি বহরের যে আধিক্য ছিল, তা এখন পরিত্যক্ত। তার পোশাক-আশাক ও চলন-বলন তার পিতার সেই কর্মতৎপরতাকে ফুটিয়ে তোলে। জনৈক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিষয়টিকে ব্রিটিশ সংস্কৃতির প্রভাব হিসেবে দেখলেও, এটি মূলত জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার প্রসূত এক অর্জন। সাধারণ মানুষের যানজটের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তিনি তার ব্যক্তিগত গাড়িবহরের সংখ্যা ১৩-১৪টি থেকে কমিয়ে চারটিতে নামিয়ে এনেছেন। ভিভিআইপি প্রটোকলের কারণে সাধারণ মানুষের পথচলা যেন ব্যাহত না হয়, সেই সিদ্ধান্তটি সর্বসাধারণের মনে বিশেষ সন্তুষ্টির সঞ্চার করেছে।

জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তোষামোদ ও ব্যক্তি-পূজার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর যখন আওয়ামী লীগের আদলে শহরজুড়ে পোস্টার ও ফেস্টুন বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তখন তিনি কঠোরভাবে তা অপসারণের নির্দেশ দেন। এমনকি নির্বাচনের পরও সেই পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়ে তিনি তার আদর্শিক দৃঢ়তা প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করায় বিনয়ের সাথে আপত্তি জানিয়েছেন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি নির্মাণে এ ধরনের ইতিবাচক মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার গৃহীত কিছু সিদ্ধান্ত সুশাসনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে অফিস করার সিদ্ধান্তটি তার কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দেয়। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে দেশীয় প্রেক্ষাপটে কাজের গতি বাড়ানোই তার মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বাস্তবসম্মত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হলে মন্ত্রীদের যাতায়াতে যে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সচিবালয়ের ফাইলপত্র স্থানান্তরের যে ঝুঁকি থাকে, তা এখন দূরীভূত হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎসাশ্রয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে নিজের দফতরে ৫০ শতাংশ লাইট ও এসির ব্যবহার কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটি জনসাধারণের জন্য একটি শিক্ষা।

শুধু সৌজন্য ও প্রশাসনিক সংস্কারই নয়; বরং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনেও তিনি দ্রুততা দেখিয়েছেন। বিএনপির ইশতেহারের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। নির্বাচনের আগে সমালোচকরা একে অবাস্তব বললেও, তারেক রহমান ১০ মার্চ এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করে সন্দেহের অবসান ঘটিয়েছেন। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রভাব বা ঘুষের লেনদেন যেন না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একইভাবে ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর যে নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, তা দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়। সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেয়ার ঘোষণাটি সংসদীয় স্বচ্ছতা ও কৃচ্ছ্রতা সাধনের পথে এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সরকারের এই স্বল্পকালীন যাত্রায় যেমন অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি কিছু সমালোচনা ও প্রশ্নও জনমনে উঁকি দিচ্ছে। গণমাধ্যম বা সুশীলসমাজের দায়িত্ব হলো অন্ধ স্তুতির বদলে গঠনমূলক সমালোচনা করা। একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে আমলাতন্ত্র ঢেলে সাজাবে— এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। তবে এই রদবদল যেন কোনোভাবেই ‘অনুরাগ বা বিরাগ’বশত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আওয়ামী স্টাইলে দলীয়করণের অভিযোগ যেন নতুন সরকারের গায়ে না লাগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের রদবদল নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তা পরিপক্বতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। সিটি করপোরেশনগুলোতে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক নিয়োগের চেয়ে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ অধিকতর গ্রহণযোগ্য হতে পারত।

নীতিগত লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বর্তমানে যে বিতর্ক চলছে, তা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী এই সনদটি ছিল জাতীয় ঐকমত্যের প্রতীক। গত বছরের অক্টোবর মাসে সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের অঙ্গীকার নিয়ে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সাথে সাথে গণভোটের মাধ্যমে জনগণও এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে বিএনপি এমপিদের শপথ গ্রহণের সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করা একটি আইনি ও রাজনৈতিক দ্বৈধতার সৃষ্টি করেছে। যদিও বিএনপি দাবি করছে, তারা জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ, তবুও বিরোধীরা একে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে। হাইকোর্টে জুলাই সনদের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট পিটিশনগুলো এই বিতর্ককে আরো উসকে দিয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের স্বার্থে বিষয়টিকে জটিল না করে সহজ সমাধানের পথে এগিয়ে নেয়া উচিত।

আমরা এক বিশাল রাজনৈতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমান আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন। তার সত্তায় রক্তের উত্তরাধিকার ও আদর্শের উত্তরাধিকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান এ দেশে বিভেদের বিপরীতে ঐক্যের রাজনীতি শিখিয়েছিলেন। তারেক রহমানও গত কয়েক দিনে তার সৌজন্য, বিনয় ও কর্মতৎপরতায় জাতিকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করেছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— বর্তমানের এই ইতিবাচক পথচলা যেন কোনো অশুভ শক্তির প্রভাবে থমকে না যায়। রাজনৈতিক বিরোধ ও অমিলগুলোকে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত আদর্শের ছায়াতলে এনে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাই হবে নতুন সরকারের প্রধান সার্থকতা। এই পরিবর্তনের সুফল যেন দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছায়, তবেই এই মহৎ একনায়কত্ব বা জনকল্যাণকামী শাসন সার্থকতা লাভ করবে।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় [email protected]