নতুন শিক্ষা কমিশন কেন জরুরি

এটি স্পষ্ট নতুন শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ যেন অতীতের কমিশনগুলোর মতো উপেক্ষিত না হয়। এজন্য সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি, সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য। একই সাথে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ রাখতে হবে। কেবল তখনই জাতি এর সুফল ভোগ করতে পারবে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ড. মো: খালেদ হোসেন
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, এর মান, উপযোগিতা ও কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে নীতিগত অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেখা গেছে, তা এই খাতকে কেবল দুর্বলই করেনি, পদ্ধতিগতভাবে ভেঙে দিয়েছে। দেশের অন্যান্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সবচেয়ে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি আঘাতটি এসেছে শিক্ষাব্যবস্থায়, যার প্রভাব প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করতে হবে। শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে পরীক্ষামূলক ব্যর্থতার সুযোগ নেই। অথচ গত কয়েক দশকে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণপদ্ধতিতে এমন সব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যা শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য তথা জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাকেই উপেক্ষা করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে ঘর গোছানো, ডিম ভাজা বা ঝাড়ু দেয়ার মতো বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া কিংবা শ্রেণিকক্ষে অপ্রাসঙ্গিক কার্যকলাপকে ‘শিক্ষা’ হিসেবে উপস্থাপন করা- এসব কোনো আধুনিক, প্রতিযোগিতমূলক রাষ্ট্রের শিক্ষা দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। আরো উদ্বেগজনক হলো, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষালাভের পরিবর্তে এমন কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে এক প্রকার প্রহসনে পরিণত করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর জ্ঞানার্জনের আগ্রহ কমেছে, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর, অদক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হচ্ছে। এই ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দৃশ্যমান। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। একটি রাষ্ট্রের জন্য এর চেয়ে বড় সতর্কসঙ্কেত আর কী হতে পারে?

এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কীভাবে সম্ভব? এর উত্তর স্পষ্ট : অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দক্ষ জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে, যা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে একটি বাস্তবমুখী, বিজ্ঞানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করবে। অন্যথায়, আমরা শুধু একটি প্রজন্ম নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যৎকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবো।

বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে একের পর এক শিক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষা কমিশন গঠন এবং একটি প্রতিবেদন তৈরি করাকে এক ধরনের লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতার পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করেছে। গত ৫৪ বছরে সাত থেকে আটটি কমিশন গঠন হয়েছে, একের পর এক প্রতিবেদনও জমা পড়েছে; কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় এসবের প্রকৃত ফলাফল কী? বাস্তবতা হলো, কোনো কমিশনের প্রতিবেদনই বিতর্কমুক্ত নয়। আরো হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব প্রতিবেদনে দেশের ঐতিহ্য, তাহজিব-তামাদ্দুন, কিংবা জাতির প্রকৃত আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন খুব কমই দেখা গেছে। যদিও প্রতিটি কমিশনই দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদদের নেতৃত্বে গঠন হয়েছে, তাদের সুপারিশগুলো শেষ পর্যন্ত নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে জায়গা করে নিতে পারেনি। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এখানেই- কমিশন গঠন হয়েছে, প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কার্যত ‘ফ্রোজেন ডকুমেন্ট’ হয়ে পড়ে আছে। কোনো সরকারই রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হয়ে ওঠার বদলে, বারবার শুরু হয়ে থেমে যাওয়া অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রাক্তন শিক্ষা কমিশনগুলোর ত্রুটি
বাংলাদেশের প্রায় সব শিক্ষা কমিশনই মূলত স্বাধীনতার পর গঠিত কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের (১৯৭২) ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হলেও, মৌলিক দর্শন ও দিকনির্দেশনায় উল্লেখযোগ্য নতুনত্ব দেখা যায়নি। ফলে শিক্ষা সংস্কার বারবার একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে। এই কমিশন শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিÑ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে একত্রে যুক্ত করার চেষ্টা করে। এর সাথে দেশপ্রেম, সুনাগরিকত্ব ও মানবতাবাদের মতো ধারণা সংযোজন করে একটি বিস্তৃত কাঠামো দাঁড় করানো হলেও, বাস্তবে এটি একটি অস্পষ্ট ও অসঙ্গত সংজ্ঞায় পরিণত হয়। ফলে জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাগত লক্ষ্য নির্ধারণে এই কমিশন ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে, ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি এমনভাবে উপস্থাপন হয়, যা দেশের বৃহৎ ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর অনুভূতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। এতে শিক্ষাব্যবস্থা ঐক্যের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বিভাজনের পথ দেখিয়েছে, যা একটি বহুমাত্রিক সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। পরবর্তী সময়েও এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা অব্যাহত থাকে। ১৯৮৩ সালে গঠিত মজিদ খান শিক্ষা কমিশন কার্যত জনপরিসরে তেমন প্রভাবই ফেলতে পারেনি। এর সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একইভাবে, ১৯৮৭ সালে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষা কমিশন, যা মফিজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল- শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, পুনর্বিন্যাস ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করলেও, তার সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নেও একই চিত্র দেখা যায়।

১৯৯৭ সালে গঠিত শামসুল হক শিক্ষা কমিশন একটি বিস্তৃত ও উচ্চাভিলাষী শিক্ষানীতি প্রস্তাব করে, যেখানে নৈতিকতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার থেকে শুরু করে বিশ্বভ্রাতৃত্ব পর্যন্ত প্রায় সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই সর্বমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল এর প্রধান দুর্বলতা। স্পষ্ট অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশলের অভাবে নীতিটি কার্যকর রূপ পায়নি। প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ২০০১ সালে ড. এম এ বারীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি শিক্ষাক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংস্কারের সুপারিশ করলেও, তা মূলত পরবর্তী কমিশনের আলোচনার উপকরণেই সীমাবদ্ধ থাকে। ২০০৩ সালে মনিরুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত শিক্ষা কমিশন শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করলেও, এর প্রতিবেদন পূর্ববর্তী সুপারিশের পুনর্মূল্যায়নের বাইরে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেনি। ২০০৯ সালে কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রণীত শিক্ষানীতিও একই ধারার পুনরাবৃত্তি, যেখানে ১৯৭২ সালের কুদরাত-ই-খুদা কমিশন ও ১৯৯৭ সালের শামসুল হক কমিশনের কাঠামো ও দর্শনের ওপরই নির্ভর করা হয়। ফলে একটি নতুন ও যুগোপযোগী শিক্ষানীতির প্রত্যাশা থাকলেও, বাস্তবে তা হয়ে দাঁড়ায় পুরনো চিন্তার পুনঃসঙ্কলন।

নতুন বাংলাদেশে শিক্ষা কমিশন গঠন কেন জরুরি
৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্বিবেচনায় আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। জাতি, ধর্ম বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এখন শুধু একটি নীতিগত অঙ্গীকার নয় বরং এটি রাষ্ট্রের টিকে থাকা ও অগ্রগতির মৌলিক শর্ত। বর্তমানে দেশে প্রচলিত বিভিন্ন শিক্ষাধারার মধ্যে যে অন্তর্নিহিত বৈষম্য আছে, তা কেবল শিক্ষার মানকেই খণ্ডিত করছে না, বরং সামাজিক বৈষম্যকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। এই বিভক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো নিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন একটি সুদূরপ্রসারী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত শিক্ষা কাঠামো, যা একদিকে বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অন্য দিকে দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। আর এই রূপান্তরের সূচনা হতে পারে একটি কার্যকর, স্বাধীন ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে। একটি নতুন শিক্ষা কমিশন শুধু নীতিমালা প্রণয়নের জন্য নয়; বরং সুসংহত জাতীয় ভিশন নির্ধারণের জন্য জরুরি, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্নতা থেকে বের করে এনে একটি সমন্বিত, ন্যায়ভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে পরিচালিত করবে।

আলোচনায় যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত
জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার মূল দর্শন কী হবে তা প্রাজ্ঞতা ও বাস্তবতার আলোকে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র, যেমন মালয়েশিয়া তাদের মালয়েশিয়া এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট (২০১৩-২০২৫) এ শিক্ষার লক্ষ্যকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে একটি সুষম ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশেও তেমনি একটি সুসংহত ও বাস্তবমুখী শিক্ষা দর্শন নির্ধারণ করা জরুরি।

নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, পাশাপাশি আধুনিক উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র বাংলাদেশী শিক্ষা মডেল গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই মডেলের উদ্দেশ্য হবে এমন নাগরিক তৈরি করা, যারা নতুন রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাকাঠামো, শিক্ষার্থীর জ্ঞানের স্তর এবং রাষ্ট্রে তার সম্ভাব্য অবদান- এই তিনটির মধ্যে একটি সুসমন্বিত সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, যাতে শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় উন্নয়নের বাস্তব চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তিÑ বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন, এর নৈতিক ও আইনগত ব্যবহার এবং আগামীর শিক্ষাব্যবস্থায় এর সম্ভাব্য প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

দেশের বিদ্যমান শিক্ষাধারাগুলো- স্কুল, আলিয়া মাদরাসা, ইংলিশ মিডিয়াম ও কওমিÑ এর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন জরুরি, যাতে বর্তমান বৈষম্য কমিয়ে আনা যায়। এজন্য কারিকুলাম, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আর্থিক বরাদ্দ ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সব ধারার শিক্ষার্থীই সমান সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

কমিশনের প্রতিটি প্রস্তাব ও তার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি সুসংহত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে, যাতে শিক্ষা সংস্কার একটি কৌশলগত, ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে পারে।

এটি স্পষ্ট নতুন শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ যেন অতীতের কমিশনগুলোর মতো উপেক্ষিত না হয়। এজন্য সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি, সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং কার্যকর নজরদারি অপরিহার্য। একই সাথে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ রাখতে হবে। কেবল তখনই জাতি এর সুফল ভোগ করতে পারবে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক ও অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর, সেন্টার ফর গভারন্যান্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশনাল স্টাডিজ (সিজিসিএস)