জুলাই নায়কদের মিডিয়া ট্রায়াল

মানুষ হত্যার তথ্য না দিয়ে, কত গাছ কাটা হয়েছে, কত সড়ক বিভাজক উৎপাটিত হয়েছে, কত দোকানপাট অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেই বিবরণ দিয়েছে। এর পর প্রতি বছর প্রায় সব মিডিয়া ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডব দিবস পালন করেছে।

মিডিয়ার একটি অংশ পুরনো খেলায় মেতেছে। জুলাই বিপ্লবের সামনের সারির নায়কদের বিরুদ্ধে ট্রায়াল শুরু করছে। কাজটি তারা আগে করত হাসিনা সরকারের পক্ষ হয়ে সমালোচক, দেশপ্রেমিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে। এখন আবারো রাষ্ট্রযন্ত্র, মিডিয়া এবং আধিপত্যবাদিরা একজোট হয়ে একই কাজে নেমেছে। একজন আওয়াজ উঠালে সব কর্নার থেকে তার প্রতিধ্বনি হয়। আগে যেটা ছিল ‘জঙ্গি’ এখন তা ‘মব’। সুযোগমতো জুলাইযোদ্ধাদের গায়ে মবস্টার তকমা এঁটে দিচ্ছে।

গাজীপুর ও হবিগঞ্জে জুলাইয়ের দুইজন অগ্রনায়কের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল সফল হয়েছে। দুইজনকে গভীর রাতে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা সোচ্চার না হলে, নিশ্চিত এরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুরনো টর্চার সেলে থাকতেন। গাজীপুরের তাহরিমা জান্নাত সুরভি জুলাইয়ে সাহসী ভূমিকার জন্য সারা দেশে পরিচিত। জীবনের মায়া ত্যাগ করে বুলেটের মুখে তিনি রাস্তায় আন্দোলন সংগঠিত করেন। দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি গুলশানের ধনাঢ্য ব্যবসায়ির কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন। মূল ধারার মিডিয়া কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই এই খবর ফলাও করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলাকারী কালের কণ্ঠের এক সাংবাদিক। তারই সূত্রে চ্যানেল আই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রিপোর্ট করে। সেটি কপি পেস্ট করে সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়া হয়।

অতি উৎসাহী পুলিশ প্রশাসন গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে সুরভিকে টেনেহেঁচড়ে ধরে নিয়ে আসে। যেন তিনি গুরুতর অপরাধী। দেখা গেল, মামলাকারী সাংবাদিক নিজেই অসৎ ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধেই নানা অপকর্মের অভিযোগ আছে। তিনি নিজে সুরভিকে অশ্লীল প্রস্তাব দেন। তার অডিও রেকর্ডও আছে। তাতে সাড়া না দেয়ায় প্রতিশোধ নিতে মামলা করেছেন। আদালতে হাজির করার পর বিচারক সুরভির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দেশের কিছু সংবাদমাধ্যম এই সাংবাদিকের মত দুষ্কৃতকারীদের নিয়োগ দিচ্ছে। সাংবাদিক হওয়ার জন্য যোগ্যতা কতটুকু তা যাচাই করছে না। এরা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল, এমনকি মিডিয়া হাউজগুলোও ছিল তাদের তাঁবেদার। হাসিনা পালানোর পর এরা নতুন পরিস্থিতি মানাতে পারছে না। সাংবাদিকতার নামে আগের মতো অন্যায় অপকর্ম করতে পারছে না। তাই সুযোগ পেলেই জুলাই নায়কদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী শক্তি পুরোপুরি অটুট রয়েছে। হাসিনার আমলে যেমন মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারালয় দুষ্টচক্রের মতো কার্যক্রম চালিয়েছে, সুরভির ঘটনায় তেমনটিই দেখা গেল। সুরভিকে দুই দিনের রিমান্ডে দেয়ার সময় মামলাকারী সাংবাদিকের অসততা চাউর হয়ে গিয়েছিল। সুরভি সামনের সারির জুলাই আন্দোলনকারী সেটাও অজানা ছিল না। তার পরও তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়ে যায়। সুরভির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, সেই বিষয়টিও বিচারক দেখতে চাইলেন না। গুম কমিশনের রিপোর্টে এ ধরনের বিচারিক অপকর্মের বিবরণ এসেছে। যারা বিচারের বদলে গুম চক্রের সদস্যদের সাথে মিলে কাজ করত। তাদের কারণে বহু মানুষ ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হন।

রাষ্ট্র ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না সন্দেহ। গুম, খুন, দেশ দেউলিয়া করে দেয়ার জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা ম্রিয়মাণ। সর্বশেষ ওসমান হাদি হত্যার পর দেশের পুরো ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র অপরাধীদের ধরতে কতটা আন্তরিক সে বিষয়ে সংশয় জাগে। কিন্তু জুলাইতে যারা জানবাজি রেখে হাসিনাকে হঠিয়েছে তাদের ঠুনকো অভিযোগে শায়েস্তা করতে যেন অধিক তৎপর। হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহদী হাসান একই চক্রের শিকার হয়েছেন। তাকে থানা পুড়িয়ে দেয়া, পুলিশ হত্যার জন্য মিডিয়া বিচার করে ফেলেছে। ওই চক্রের সদস্যদের পক্ষ থেকে তারপর মামলা করা হয়। তাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গভীর রাতে ধরে নিয়ে যায়। তার একটি বক্তব্যকে ব্যবহার করে মিডিয়া তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়িত করে। এ কাজটিও প্রথমে মূল ধারার মিডিয়া প্রস্তুত করে দেয়। পরে বিভিন্ন কর্নার থেকে অন্যরা আওয়াজ দিয়ে তাকে বিচারযোগ্য করে তোলে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যা, থানা জ্বালিয়ে দেয়া ও দেশদ্রোহের ভয়াবহ অভিযোগ দাঁড় করানো হয়। জুলাইয়ের নায়কদের জন্য কিভাবে ফাঁসির মঞ্চ বানানো হবে, এটি তার একটি ড্রেস রিহার্সেল।

হাসিনার শাসনে পুলিশ বাহিনীতে শত শত জল্লাদের আবির্ভাব হয়। গুম করে একজনের স্ত্রীকে ধর্ষণকারী এসপি আলেপ, ক্রসফায়ারে দুই শতাধিক মানুষের হত্যাকারী ওসি প্রদীপ এবং ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’-খ্যাত ইকবাল, এদের নিয়ে কোনো আলাপ মিডিয়ায় নেই। এরা কিভাবে দানব হয়ে উঠল তা নিয়ে মিডিয়ার কোনো অনুসন্ধান নেই। একজন ঘাতক এসআই সন্তোষকে নিয়ে মিডিয়ার মাথাব্যথা। মাহদীকে সন্তোষের খুনি বানানোর কৌশল নিয়ে তারা এগিয়েছে। সন্তোষ একজন বড় মাপের খুনি। তার বিরুদ্ধে একডজন বিরোধী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠে। জুলাইতে তিনি হবিগঞ্জে দানব হয়ে উঠেছিলেন। শিশুরাও তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। স্থানীয় জনগণ ওই উত্তাল সময়ে তাকে হত্যা করে। থানা জ্বালিয়ে দেয়। এখন জুলাই আন্দোলনের রেফারেন্স না টেনে এই ঘটনার দায় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে মাহদীর ওপর। মাহদী দেশদ্রোহী দাগি সন্ত্রাসী, অন্যদিকে এসআই সন্তোষ একজন দেশপ্রেমিক ব্রাইট ব্রিলিয়ান্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এই হচ্ছে বাংলাদেশের মিডিয়া।

বাংলাদেশের মিডিয়ার অসৎ প্রবণতা পুরনো। তারা সব সময় একটি গ্রুপকে নিশানা করে। মাহদীকে জামিন দেয়ায় বিবিসি ক্ষুব্ধ। আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্রিটিশ স্বায়ত্তশাসিত সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি। জুলাইয়ের কোনো ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। হাসিনার দেড় দশকের শাসন বৈধতা পেয়ে যায়। ছয় হাজার মানুষের গুম, কয়েক হাজার মানুষের খুন, জুলাইতে কয়েক শ’ শিশুসহ ১৪০০ হত্যা, সবই বৈধতা পায়। হাসিনাকে উৎখাত করা বিপ্লবীরা হয়ে যান খুনি, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি। বিবিসিসহ বাংলাদেশের মিডিয়ার বড় অংশকি ঠিক এটিই চাচ্ছে।

হাদি হত্যার পর আগের হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। হাদির খুনিরা যেভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলো, সেটি ভয়াবহ আশঙ্কার। তাদের পালিয়ে যেতে দেয়া হয়েছে। এর পর তারা নিরাপদে আশ্রয় পেয়েছে। সেখান থেকে প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যমে কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। হাসিনাও একই সুযোগ পাচ্ছে। পরাজিত শক্তির একটি বৃহৎ ঐক্য এতে স্পষ্ট। জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের একে একে শেষ করে দেয়া হতে পারে। মাহদী ও সুরভির জন্য গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। এই অশুভ চক্রের চেহারা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। এনসিপি নেতারা এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে বলছেন। নিরাপত্তার কথা ভেবে রাজনৈতিক জোট তৈরিতে তারা মরিয়া হয়ে উঠছেন। এই জোট তাদের নিরাপত্তা দিতে পারে কি না, বৃহত্তর অশুভ চক্রকে মোকাবেলা করতে পারবে কি না- সেটি আগামী দিনে বোঝা যাবে।

জামায়াতের ওপর মিডিয়ার আক্রমণ

জামায়াতে ইসলামীকে বলির পাঁঠা বানানো মিডিয়ার পুরনো অভ্যাস। ঘটনা যে-ই ঘটাক, দায় সবসময় জামায়াতের ওপর চাপানো তাদের নীতি। সত্যাসত্য যাচাইয়ের বালাই নেই। শুধু দেশীয় মিডিয়া নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার স্থানীয় অফিসগুলোর অবস্থাও একই। জুলাই অভ্যুত্থানের পরপর মিডিয়া কিছুটা সতর্ক হলেও এখনো পুরনো অভ্যাস প্রায়ই প্রকাশ পেয়ে যায়। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেয়া জামায়াতের আমিরের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে একইরকম ঘটনা দেখা গেল। রয়টার্স স্থানীয় প্রতিনিধি রুমা পাল সাক্ষাৎকারে এক দফায় এটিকে বিকৃত করেছে বরাবরের মতো। ঘটনাটি ছিল ভারতের এক কূটনীতিকের জামায়াতের আমিরের সাথে সৌজন্য বৈঠক। হার্ট সার্জারির পর অন্যান্য বিদেশী কূটনীতিকের মতোই ভারতীয় কূটনীতিক ডা: শফিকুর রহমানের সাথে দেখা করেন। ভারতীয় এই কূটনীতিক সাক্ষাৎকারের বিষয়টি গোপন রাখতে ডা: শফিককে অনুরোধ করেন। ডা: শফিক তখন বিস্মিত হন।

ভারতের কূটনীতির অন্ধকার দিকটি এতে উন্মোচিত। প্রকাশ্যে তারা বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গি রাজনীতির উত্থান হওয়ার দাবি করে। জামায়াতকে তারা মূল ধারার রাজনীতি হিসেবে স্বীকার করতে চায় না। তলে তলে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক রাখে। সেটিকে আবার প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেয়। জামায়াতের আমির রয়টার্সের সাথে সাক্ষাৎকারে সেই হাঁড়িটি হাটে ভেঙে দেন। গোপনে ক্রিয়াকর্ম করে ভারত যে অবৈধ সুযোগ নিতে চায়, এর মাধ্যমে সেই সুযোগ বন্ধ করতে চায় জামায়াত। বাংলাদেশের মিডিয়া খবরটি হুবহু প্রকাশ না করে সম্পর্ক গোপন করার ভারতের দোষকে জামায়াতের আমিরের ওপর চাপিয়ে দেয়। এই সাক্ষাতের খবর জামায়াতের আমির গোপন রাখতে চাননি। তিনি রয়টার্সের সাথে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার অস্ত্রোপচারের পর একজন ভারতীয় কূটনীতিক আমার বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনতে অনুরোধ করেন। অন্যান্য দেশের বহু কূটনীতিক এসেছেন, সে খবর সবাই জেনেছে।

তাহলে ভারতের তথ্য প্রকাশে সমস্যা কোথায়।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের একে অপরের প্রতি খোলামেলা থাকতে হবে। আমরা সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কোনো বিশেষ দেশের প্রতি আমাদের পক্ষপাতিত্ব নেই।

ভারতীয় কূটনীতিকের গোপনে সম্পর্ক তৈরির মধ্যে ভালো কোনো দিক নেই। জামায়াতের আমির সুযোগ করে সেটি প্রকাশ করে দিয়ে ভালো করেছেন। কিন্তু মিডিয়া একযোগে এই ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করে বসল। যে যেভাবে পেরেছে এই সংবাদ বিকৃত করেছে। জুলাই নায়কদের বিরুদ্ধে মিডিয়ার যেই জোট তলোয়ারে শান দিচ্ছে।

সপ্তাহখানেক আগে আরেকটি বক্তব্য বিকৃত করে জামায়াতের আমিরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ‘জামায়াত ভালো হয়ে গেছে’- এ ধরনের একটি ফটোকার্ড বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ডা: শফিক এমন কথা বলেননি। তবে তিনি আওয়ামী লীগের বিষয়ে ওই সময়ে এক সমাবেশে বলেন, ‘তিনবার তারা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ছোপ ছোপ রক্ত আর কাঁড়ি কাঁড়ি লাশ উপহার দিয়েছে। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে হাত জোড় করে তারা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সাথে যে অন্যায় আচরণ করেছে, যে জুলুম করেছে, আমরা বিনাশর্তে মাফ চাই। একটি বারের জন্য আমাদের ক্ষমতায় নিন। আমরা ভালো হয়ে গেছি। এখন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। হাতে তসবিহ ছিল। মাথায় ঘোমটা ছিল। মানুষ সহজ সরলভাবে ধারণা করেছিল, তাদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু না, যখনই তারা মসনদে বসলেন; তারা আপন রূপ প্রকাশ করলেন।’ আওয়ামী লীগ ও হাসিনার প্রসঙ্গে দেয়া বক্তব্যকে মধ্য থেকে একটু নিয়ে ফটোকার্ড বানানো হয়। আবার এর ওপর ভিত্তি করে টকশোর অয়োজনও করা হয়।

জামায়াতের নেতাকর্মীর জীবনের চেয়ে গাছের মূল্য বেশি

জামায়াত-শিবিরের নির্মমতায় প্রাণ হারাল ১০ হাজার গাছ! এই শিরোনামে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো খবর ছাপে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিভিন্ন সড়কে কিভাবে এসব গাছ কাটা হলো খবরে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়।

এ জন্য বন বিভাগ, বিভাগীয় প্রকৌশলীর দফতর এবং পরিবেশবাদীদের বক্তব্য নিয়ে অত্যন্ত যতœসহকারে এই খবর পরিবেশন করা হয়। জামায়াত-শিবিরকে দানব হিসেবে প্রদর্শন করার জন্য সাংবাদিকতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে প্রথম আলো। অথচ ওই সময় দেশব্যাপী দলটিকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দেখামাত্র গুলি করে মারছিল। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যার ঘটনাগুলো হাসিনা জঙ্গি দমন বলে প্রচার করছিল। প্রথম আলোসহ প্রায় সব মিডিয়া সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে এসব হত্যার পক্ষে বয়ান উৎপাদন করেছে। অথচ গাছ কাটাকে ‘নির্মমতা’ বলে জামায়াতকে দৈত্য হিসেবে তকমা দিতে দ্বিধা করেনি।

মিডিয়ার এমন বীভৎস সাংবাদিকতা শেষ পর্যন্ত সব শ্রেণীর আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত হয়েছিল। একই বছরের ৫ মে শাপলা ম্যাসাকারকে তারা একযোগে হেফাজতের তাণ্ডব বলে প্রচার করেছে। মানুষ হত্যার তথ্য না দিয়ে, কত গাছ কাটা হয়েছে, কত সড়ক বিভাজক উৎপাটিত হয়েছে, কত দোকানপাট অগ্নিসংযোগ হয়েছে, সেই বিবরণ দিয়েছে। এর পর প্রতি বছর প্রায় সব মিডিয়া ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডব দিবস পালন করেছে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক নয়া দিগন্ত