সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বনাম ওয়াহ্হাব মিঞা

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সেই নাটকীয় দিনগুলো

প্রধান বিচারপতি হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এ পদের প্রতি তার মোহ এতটা তীব্র ছিল যে, তিনি কেবল আইনকে পদদলিত করেননি, বরং পদদলিত করেছিলেন তার নিজের প্রধান বিচারপতিকেও। যদি দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেটি ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আশ্রয় না নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে বসতে অস্বীকার করার মাধ্যমে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা এবং বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরাও সেই ‘বিচারিক অভ্যুত্থানে’র অংশীদার হয়েছিলেন, যা বিচার বিভাগের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল।

২০১৮ সালের জানুয়ারিজুড়ে একটি বিষয় নিয়ে সব মহলে ব্যাপক জল্পনা ছিল। বিচারপতি এস কে সিনহার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন বিষয়টি নিয়ে। সেই অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে ছিলেন বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা, যিনি ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, আর আপিল বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারকও ছিলেন তিনি। তবে তার সেই পদে আসীন হওয়া ছিল প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিতর্কিতভাবে অপসারণের ঘটনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুরো ঘটনাটির গতিপথ নির্ধারণে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বিচারপতি সিনহাকে অপসারণের দায়ভার একা না নেয়ার অভিপ্রায় থেকে আপিল বিভাগের সহকর্মী বিচারকদের এতে অংশীদার করার চেষ্টা করেন। এমনকি তার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারক, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকেও তিনি প্রধান বিচারপতির সাথে বিচারিক বেঞ্চে বসার ক্ষেত্রে বয়কট করতে প্ররোচিত করেন। এটি ছিল অত্যন্ত ঠাণ্ডামাথার একটি পদক্ষেপ। যার উদ্দেশ্য ছিল সম্মিলিতভাবে বয়কট ও সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করার পথ সুগম করা।

তবে দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও প্রধান বিচারপতির পদে একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। যদিও তিনি বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার চেয়ে কনিষ্ঠ ছিলেন, তবু পর্দার আড়ালে তাকে টপকে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকারের দৃষ্টিতে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ছিলেন অনেক বেশি অনুগত। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সম্পর্কিত মামলাগুলোতে তিনি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বাতিল করা রায়েও তিনি অংশ নিয়েছিলেন; যা আওয়ামী লীগকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ করে দেয়। অন্য দিকে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ভিন্নমত পোষণকারী রায় দিয়েছিলেন, যা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে অনেকটা নাখোশ করেছিল।

২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার দিন একটি দৃশ্য সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সে দিন সুপ্রিম কোর্টের বাগানে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন আইন সম্পাদক এস এম রেজাউল করিমের সাথে বেশ প্রফুল্ল ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখা যায়। দৃশ্যটি দ্রুত সবার নজরে আসে। আইনজীবীরা বলাবলি শুরু করেন, তিনি ক্ষমতাসীন দলের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার নিয়োগ পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র; কিন্তু পরিস্থিতির মোড় খুব দ্রুত ঘুরে যায়। ১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার পক্ষে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বার অ্যাসোসিয়েশনে আমাদের কক্ষে একজন সাংবাদিক এসে খবর দেন, ওয়াহ্হাব মিঞাই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। আমি তখন প্রশ্ন তুলেছিলাম, সরকার কি আসলে এমনটি করবে? কারণ ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের রায়ে তিনি শক্তিশালী ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। উত্তরে সেই সাংবাদিক জানান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (শাহীন) এবং বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম (দু’জনে ওয়াহ্হাব মিয়ার আইনজীবী জীবনের জুনিয়র সহযোগী ছিলেন) প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন এবং তার পক্ষে কথা বলেছেন। তারা নাকি প্রধানমন্ত্রীকে এ মর্মে আশ্বস্ত করেছিলেন, তারা ওয়াহ্হাব মিঞাকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করবেন এবং তার আচরণের যাবতীয় দায়ভার গ্রহণ করবেন।

কিছু সময়ের জন্য আদালত অঙ্গনে সবার মনে এ বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে, বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞাই বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন। এমনকি বেশ কিছু সংবাদপত্রেও প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যে, তিনি এ দৌড়ে এগিয়ে আছেন। কিন্তু রাতারাতি দৃশ্যপট বদলে যায়। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার নিশ্চিত খবর আসে, বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা নন, বরং বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হচ্ছে। এ ঘটনার অল্পক্ষণ পর বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা সুপ্রিম কোর্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পরদিন সব সংবাদপত্রে খবর এলো বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন এবং বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। আদালতপাড়া ছিল একেবারে নিস্পৃহ। বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞার সমর্থনে যেমন কোনো বিবৃতি আসেনি, তেমনি তাকে টপকে যাওয়ার বিরুদ্ধেও কোনো প্রতিবাদ ওঠেনি। একসময় তার ভিন্নমত পোষণকারী রায়গুলো তাকে যে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল, বিচারপতি এস কে সিনহার অপসারণের ঘটনায় তার বিতর্কিত ভূমিকা সেসব সহানুভূতিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে লন্ডন থেকে আমার বাবা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ফোন করলেন এবং জানতে চাইলেন, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার এ পতনের পেছনের কারণ কী বলে আমি মনে করি। আমার মতে, তার এ পতনের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ ছিল। প্রথমত, তিনি একটি প্রবঞ্চনার বা জালিয়াতির অংশীদার হয়েছিলেন। তিনি জানতেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অসুস্থ ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তিনি সেই অসুস্থতার ভান বা ভণ্ডামিকে মেনে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, যদিও তিনি জানতেন প্রকৃত সত্যটি কী। কিন্তু বিচারপতি সিনহা গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি অসুস্থ নন। এরপর বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা ও আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারক বিবৃতি দিতে বাধ্য হলেন, প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় তারা তার সাথে একই বেঞ্চে বসতে আগ্রহী নন। অর্থাৎ, দায়িত্ব নেয়ার কারণটি রাতারাতি ‘অসুস্থতা’ থেকে ‘দুর্নীতি’তে বদলে গেল। বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা যদি সে দিন সঠিক কাজটি করতেন এবং সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতেন, সারা দেশ জানে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অসুস্থ নন; বরং গৃহবন্দী, তাই তিনি এ দায়িত্ব নিতে পারেন না; তবে তিনি কেবল নিজের অবস্থান নয়, বরং গোটা বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে, তিনি নিজের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এমন এক কাণ্ড ঘটালেন; যাকে কেবল একটি ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করা যায়।

দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতি হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। এ পদের প্রতি তার মোহ এতটা তীব্র ছিল যে, তিনি কেবল আইনকে পদদলিত করেননি; বরং পদদলিত করেছিলেন তার নিজের প্রধান বিচারপতিকেও। যদি দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেটি ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের আশ্রয় না নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে বসতে অস্বীকার করার মাধ্যমে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা এবং বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরাও সেই ‘বিচারিক অভ্যুত্থানে’র অংশীদার হয়েছিলেন, যা বিচার বিভাগের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল।

তৃতীয়ত, বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তার সমপর্যায়ের বা জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের সাথে কোনো পরামর্শ করেননি। এ পদক্ষেপ নেয়ার আগে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সাথে তার আলোচনার প্রয়োজন ছিল। তিনি এর কোনোটি করেননি এবং ফলস্বরূপ উভয় পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের পক্ষে তার এ কর্মকাণ্ড সমর্থন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। আমাকে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছিলেন, যে দিন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, সে দিন থেকে তিনি ‘পচে গেছেন’। আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী আমাকে বলেছিলেন, তিনি তার (ওয়াহ্হাব মিঞার) সাথে চা পান করতেও অস্বীকার করেছিলেন। বৃহত্তর পরিসরে পরামর্শ না নিয়ে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা নিজেকে কেবল হাইকোর্ট বিভাগের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দুই বিচারক–বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (শাহীন) এবং বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের উপদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। তারা আন্তরিকভাবে চেয়েছিলেন ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতি হোন এবং নিরপেক্ষভাবে বলতে গেলে ওয়াহ্হাব মিঞা একজন দক্ষ ও জ্যেষ্ঠতম বিচারক ছিলেন। কিন্তু তাদের উচিত ছিল তাকে এ ভুল পথে না হাঁটার পরামর্শ দেয়া। শেষ পর্যন্ত বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও এম ইনায়েতুর রহিমের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সদিচ্ছা সত্ত্বেও তারা পরিস্থিতির কোনো সুরাহা করতে পারেননি। চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকার বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞাকে বিশ্বাস করতে পারেনি; কারণ তিনি নিজের প্রধান বিচারপতির পিঠে ছুরি বসিয়েছিলেন।

পরিশেষে এ কথা বলা যায়, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার এ পতনের কারণ কেবল তাকে টপকে কাউকে নিয়োগ দেয়া কিংবা রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এ পতনের কারণ ছিল তার নিজের তৈরি করা এক চরম ‘বিচ্ছিন্নতা’। সহকর্মী বিচারপতিরা, সুপ্রিম কোর্ট বারের জ্যেষ্ঠ সদস্য কিংবা বিশ্বস্ত সমালোচকদের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করে তিনি নিজেকে এমন এক ঝড়ের কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন, যা মোকাবেলা করতে প্রয়োজন ছিল সামষ্টিক প্রজ্ঞা। পরবর্তী সময়ে আমার বাবা আমাকে বাংলাদেশের পঞ্চম প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর একটি প্রথার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছে, একজন বিচারক যখন কোনো বড় বা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তার উচিত বন্ধু, শত্রু এমনকি এ বিষয়ে কোনো স্বার্থ নেই এমন ব্যক্তিদের সাথেও পরামর্শ করা। বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা এর কোনোটি করেননি। প্রধান বিচারপতি হওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা তার দৃষ্টিকে সঙ্কীর্ণ করে দিয়েছিল এবং তার ভেতরের ভারসাম্য কেড়ে নিয়েছিল। তার এ ব্যর্থতা মেধা বা যোগ্যতার অভাবে ছিল না; বরং এটি ছিল অন্যের সাথে পরামর্শ করা, অন্যের কথা শোনা এবং স্থিরচিত্ত প্রয়োগের সক্ষমতার অভাব। শেষ পর্যন্ত এই ব্যর্থতা তার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং তার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য বিচারিক জীবনের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ন ছায়া আচ্ছন্ন করে তাকে বিস্মৃতির অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিবন্ধিত কৌঁসুলি