মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর
চব্বিশের ৫ আগস্ট বিকেলের দিকে টেলিভিশনের স্ক্রলে যখন ভেসে উঠল— সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। তখনই মানুষের মনে অদ্ভুত এক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই অনুভব করেছিলেন, ইতিহাস যেন দরজায় কড়া নাড়ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই যখন তার বক্তব্য প্রচারিত হলো এবং জানা গেল, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, তখন সেই অনুভূতি রূপ নিলো এক প্রবল আবেগে। যেন দীর্ঘ ১৭ বছরের জমে থাকা ভার হঠাৎ করে বুক থেকে সরে গেল। মানুষ আর ঘরে থাকতে পারল না আনন্দে, স্বস্তি আর অশ্রুর মিশ্র অনুভূতিতে তারা স্রোতের মতো রাস্তায় নেমে এলো। কারো চোখে পানি, কারো মুখে হাসি, কারো কণ্ঠে স্লোগান— সবমিলিয়ে এক অদ্ভুত মুক্তির অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল চার দিকে। সেই মুহূর্তে মানুষ শুধু বর্তমানকে নয়, ভবিষ্যৎকেও দেখতে শুরু করল একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, ভয়হীন আগামী দিনের স্বপ্ন, নিজের ভাগ্য নিজেরাই লিখবে— এই বিশ্বাসে ভরা এক নতুন সূচনার স্বপ্ন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু সময় আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরের অনুভূতিগুলো বেশি শুনতে শুরু করে। এই নির্বাচন তেমনি একটি সময়। এখানে সংখ্যার হিসাব আছে, জোটের হিসাব আছে, ক্ষমতার অঙ্ক আছে কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে সামনে এসেছে একটি নীরব প্রশ্ন : বাংলাদেশ কি আবারো তার পরিচিত রাজনৈতিক চক্রেই ফিরে যাবে, নাকি একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে?
ভোটের আগে যে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, সেটি শূন্যতা নয়; বরং এটি বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভ, ভয় এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা একসাথে জমে ওঠার নীরবতা। যারা ১৫-১৬ বছর ভোট দিতে পারেনি, যারা ভোটকেন্দ্রকে উৎসবের বদলে ভয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছে, যারা নিজের মতো প্রকাশ করাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছে, তাদের কাছে এবারের ভোট কেবল একটি ব্যালট নয়; এটি নিজের নাগরিকত্ব অনুভব করার, নিজের কণ্ঠস্বরের মূল্য আছে এই বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি সুযোগ।
এই বাস্তবতার ভেতরেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে আলোচনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিষয়টি কেবল দলীয় পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি গণতন্ত্র, ন্যায্যতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের বড় প্রশ্নের সাথে জড়িয়ে গেছে। অনেক মানুষের কাছে এটি একটি বৃহত্তর আলোচনার অংশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেই প্রশ্নের অংশ।
এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে যেসব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পায়নি, সেগুলোকে সহজ ভাষায় তুলে ধরা। কারণ আজ সেই অদৃশ্য বাস্তবতাগুলোই মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বোঝার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে কেবল একটি নির্বাচনী দল হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এটি একটি দীর্ঘ আদর্শিক ও সাংগঠনিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি নিজেকে একটি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার অংশ, তাৎক্ষণিক লক্ষ্য নয়। এই কাঠামোই দলটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাজনৈতিক দলের তুলনায় ভিন্ন মর্যাদা দেয়, কারণ অধিকাংশ দল ব্যক্তিনির্ভর হলেও জামায়াত সংগঠননির্ভর।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ হওয়া, পরে পুনরায় রাজনীতিতে ফিরে আসা এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জোটের সাথে কাজ করা এই ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে দলটি রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে খাপখাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালের পর যে সময় শুরু হয়, সেটি দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার সাথে সঙ্ঘাত, বিচারিকপ্রক্রিয়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিরোধিতা— সবমিলিয়ে একটি দীর্ঘ চাপের মধ্যে পড়ে সংগঠনটি।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই সময়ে যুদ্ধাপরাধ বিচারকে কেন্দ্র করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, দণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। একই সময়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। অনেক কর্মী গ্রেফতার, মামলা, কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী— এই সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে ওঠে এবং সংগঠনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও চাপের মুখে পড়ে।
এই সময়টিকে বোঝার আরেকটি দিক হলো রাজনৈতিক মেরুকরণ। শাহবাগ আন্দোলনের পর থেকে জনপরিসরে জামায়াতকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয় এবং দলটির অতীত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর ফলে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান কেবল নির্বাচনী প্রতিযোগিতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি একটি বৃহত্তর ঐতিহাসিক ও নৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি সংগঠনটির জন্য এক দিকে সঙ্কট সৃষ্টি করলেও অন্য দিকে তাদের সমর্থকদের মধ্যে একটি প্রতিরোধমূলক মানসিকতা সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, যখন একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মুখে থাকে, তখন দু’টি সম্ভাবনা তৈরি হয় : সংগঠন ভেঙে পড়ে অথবা আরো সঙ্কুচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোতে রূপ নেয়। জামায়াতের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রবণতাটি দেখা গেছে বলে সমর্থকরা দাবি করেন। প্রকাশ্য রাজনীতিতে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সংগঠনটি নীরবে পুনর্গঠন, সামাজিক যোগাযোগ এবং নতুন প্রজন্মের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা— এটি তাদের টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুনভাবে মূল্যায়িত হতে শুরু করেছে। অন্তত সমর্থক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে। তাদের মতে, দীর্ঘ চাপের মধ্যেও সংগঠন টিকে থাকা, কাঠামো বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মের সাথে সংযোগ সৃষ্টি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পুঁজি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা অনেক সময় একটি দলের সমর্থকদের মধ্যে পরিচয়ের বোধকে আরো শক্তিশালী করে ইতিহাসে এমন উদাহরণ বহুবার দেখা গেছে।
নির্বাচনের সময় এই ধরনের সংগঠনগত শক্তি প্রায়ই দৃশ্যমান হয় না। এটি বড় সমাবেশ বা উচ্চস্বরে প্রচারণায় প্রকাশ পায় না; বরং ভোটের দিনে সাংগঠনিক দক্ষতা, সমর্থকদের উপস্থিতি এবং ভোটারদের নীরব সিদ্ধান্তে প্রকাশ পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বাইরে থাকা এই স্তরই অনেক সময় নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের অংশ হয়ে জামায়াত সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতায় অংশ নেয়। সে সময় তাদের দুই মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেন, যা দলটি আজও নিজেদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নৈতিক অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিসর বদলে গেলে দলটি আবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে এবং নিজেদেরকে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করতে শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’ তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরে। এতে জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি, নির্বাচনী ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন, যুব ও কর্মসংস্থান, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার, কৃষি ও পরিবেশসহ বিস্তৃত নীতিগত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো— নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, শক্তিশালী তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো এবং বিচারহীনতার অবসানের প্রতিশ্রুতি যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়েছে।
এই ইশতেহার বাস্তবায়নের পথ ভবিষ্যৎই উন্মোচন করবে এবং সময়ের সাথে সাথে এর সম্ভাবনা ও সক্ষমতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে এটুকু বলা যায়, এটি কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়; বরং একটি বিকল্প রাষ্ট্রচিন্তার দলিল হিসেবে সামনে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে ক্ষমতাকেন্দ্রিকতা ও ব্যক্তিনির্ভরতা দীর্ঘদিন ধরে প্রধান বাস্তবতা, সেখানে এ ধরনের নীতিনির্ভর আলোচনার উপস্থিতি নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
আজকের নির্বাচনের সবচেয়ে নির্ণায়ক বাস্তবতা হলো— প্রায় চার কোটি নতুন ভোটার একটি বিশাল জনগোষ্ঠী, যারা অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণে ছিল না; কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। এই নতুন ভোটারদের বড় অংশ তরুণ প্রজন্ম, যারা গত ১৫-১৬ বছর কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। ফলে তাদের কাছে ভোট কেবল একটি নাগরিক কর্তব্য নয়; এটি একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অংশগ্রহণ, একটি প্রজন্মগত অভিজ্ঞতা এবং একই সাথে রাজনৈতিক বার্তা দেয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা এই বাস্তবতার শক্তিশালী পূর্বাভাস ছাত্রসমাজ অভূতপূর্ব উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছে, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষা যেন হঠাৎ করেই বিস্ফোরিত হয়েছে। এই উৎসাহ যদি আজকের জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে প্রতিফলিত হয়, তাহলে নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রভাব হবে গভীর ও কাঠামোগত।
এই নতুন প্রজন্ম অতীতের রাজনৈতিক আনুগত্যের ধারায় আবদ্ধ নয়; তারা উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজনীতির পুনরাবৃত্তিতে ক্লান্ত। তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি বাস্তববাদী, নীতিনির্ভর এবং ভবিষ্যৎমুখী। তারা এমন রাজনীতি দেখতে চায়, যা কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ন্যায়বিচারের মতো বাস্তব প্রশ্নের উত্তর দেয়। ফলে তাদের সমর্থন সেই শক্তির দিকে ঝুঁকছে, যারা নিজেদেরকে নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তরুণদের একটি অংশের কাছে বিকল্প রাজনৈতিক কল্পনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তাদের নীতি, পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তার ভাষা নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠনের ধারাবাহিক সাফল্য এবং দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাব ভেঙে নতুন সমর্থন ভিত্তি সৃষ্টি হওয়া এই প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
এই দীর্ঘ পথচলার শেষে প্রশ্নটি আবারো ফিরে আসে বাংলাদেশ কোন পথে যাবে? ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে মানুষের নীরব সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আজও সেই নীরবতা জমে আছে লাখো কোটি হৃদয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষা, ভয়, দমন-পীড়ন এবং আশা-নিরাশার মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মানুষ আবারো একটি নতুন শুরুর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়; এটি বহু মানুষের কাছে তাদের অধিকার, পরিচয় এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ফিরে পাওয়ার প্রতীক হিসেবেও ধরা দিচ্ছে। দীর্ঘ চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বিতর্কের পর আবার প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর এই অধ্যায় অনেকের কাছে একটি পুনরুত্থানের গল্প। সংগঠন ভেঙে পড়েনি; বরং অপেক্ষা করেছে, টিকে থেকেছে এবং নতুন প্রজন্মের সাথে নতুন ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেছে। এই বিশ্বাস থেকেই সেই অনুভূতি জন্ম নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আজ সিদ্ধান্ত দেবে জনগণ নীরবে, ব্যালটের ভেতর দিয়ে। হয়তো এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বরং মানসিকতার পরিবর্তনের সূচনা হয়ে থাকবে। যদি ভোটকেন্দ্রে মানুষের সাহস পৌঁছে যায়, তবে এই দেশ আবারো প্রমাণ করবে— গণতন্ত্রকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায়; কিন্তু চিরদিন বন্দী রাখা যায় না।
লেখক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী আইনজীবী



