পররাষ্ট্রনীতি যেভাবে দেউলিয়া হয়

বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মুখ খোলেনি। এখন থেকে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে বাংলাদেশের বাক্যবানে জর্জরিত হতে হবে। সংখ্যালঘু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ভারতের জন্য বুমেরাং হয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলের আশ্রয় নিন্দনীয় কিছু নয়। বুদ্ধি, মাত্রাজ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ সংশ্লিষ্ট দেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। উন্নত, টেকসই ও মসৃণ নীতির প্রয়োগে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের মাত্র ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশ কাতার অনন্য ভূমিকা রেখে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে নিয়েছে। শঠতা-প্রতারণার নীতি প্রয়োগ করেও সাময়িক কিছু সুবিধা আদায় করা যায়। অনেক সময় অসততা অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে এ পররাষ্ট্রনীতি বিপর্যয় ডেকে আনে। এতে দেশ বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। মর্যাদা-সম্মানহানির শিকার হয়।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারতের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। সবচেয়ে কাছের বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র দিল্লিকে কোনো ধরনের মর্যাদা দিচ্ছে না। ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি প্রয়োগে তা স্পষ্ট হয়েছে। বন্ধুত্বের কোনো মর্যাদা রক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের ওপর সবচেয়ে চড়া শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে।

ভারতের ষড়যন্ত্রমূলক পররাষ্ট্রনীতি এখন বৈশ্বিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে বহুস্তরীয় গোপন কার্যক্রম দেশে দেশে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য দিল্লি করতে পারে না এমন কিছু নেই। নিজেদের সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও পিঠে ছুরি বসিয়ে দিতে ভারত দুইবার চিন্তা করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গোপন মিশন চালিয়ে নাগরিক হত্যার কার্যক্রম ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে অবিশ্বস্ত মিত্রের পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ দু’টি দেশ বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক আদর্শের উত্তম নমুনা। সেই সূত্রে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। দেখা গেল, নিজেদের সামান্য স্বার্থ উদ্ধার করতে নাগরিক অধিকারের মূল্যবোধকে ভারত কোনো মূল্য দেয়নি। দেশ দুটোতে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া শিখ নেতাকে হত্যায় ষড়যন্ত্র এঁটেছে ভারত। কানাডায় এক শিখ নেতাকে হত্যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অন্য এক শিখ নেতা হত্যার চক্রান্ত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান।

কানাডায় ভারতীয় শিখ নেতা হরদিপ সিং নিজ্জর হত্যায় পশ্চিমা বিশ্ব ভারত নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। চীনা উত্থান রোধে ভারতকে মিত্র হিসেবে নিয়ে ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের যে ছক তাদের ছিল, সেখানেও ছেদ পড়েছে। আর্থিক সামান্য লাভ হবে সেই লোভও ভারত সংবরণ করতে পারেনি। পশ্চিমা বিশ্বকে ফাঁকি দিয়ে চুরি করে রাশিয়া থেকে তেল কিনেছে। যে কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসেনি। যে চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা ভারতকে একটি দেয়াল বিবেচনা করছিল, সেই চীনের সাথে বাড়তি মাখামাখি পশ্চিমাদের কাছে ভারতের ভাবমর্যাদা ধসিয়ে দিয়েছে। নিজ্জর হত্যায় ভারত সরকার সরাসরি জড়িত বলে কানাডা দাবি করেছে। এ ব্যাপারে দেশটির কাছে নিশ্চিত গোয়েন্দা প্রমাণ আছে। যে খুনিচক্রকে এ কাজে ভারত ব্যবহার করেছে; কানাডার গোয়েন্দারা তাদের শনাক্ত করেছে। কানাডার আদালত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় দিতে যাচ্ছে।

বন্ধুদের প্রতি ভারত অবিশ্বস্ত- তাকে আরো শক্ত ভিত্তি দিয়েছে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অন্য এক শিখ নেতাকে হত্যা প্রচেষ্টার প্রমাণ সামনে এসে যাওয়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিখ নেতা গুরপত সিং পান্নুনকে হত্যার আয়োজন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ গুটিয়ে এনেছিল। খুনিচক্রকে নিয়োগ ও অর্থ আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে এ প্রক্রিয়ার মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দারা ঢুকে পড়ায় পান্নুন বেঁচে যান। এ চক্রান্তের সব প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে রয়েছে। বিগত কয়েক দশকে ভারত প্রতিটি প্রতিবেশী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের অন্তর্ঘাত চালিয়েছে। ভারতের মানহীন বিদেশনীতি পশ্চিমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করানো যায়নি। এখন ভুক্তভোগী হওয়ার পর ভারতের দ্বৈত চরিত্র বুঝতে পারছে পশ্চিমা মিত্ররা। দেশটি মুখে যা বলছে, প্রকাশ্য কাজে যা দেখাচ্ছে, অন্তরে তার ভিন্নতা পোষণ করছে।

এই নীতি শত্রু দেশগুলোর মধ্যে দেখা যায়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করেছে। নিজেরা খুন করেছে, এজেন্ট নিয়োগ করে শত্রুদের ক্ষতি করেছে। ইতিহাসের শত্রুরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতার বহু নজির রয়েছে। কিন্তু বন্ধুরাষ্ট্রে এমন শত্রুতা চরিতার্থ করার কোনো নজির নেই। নিজেদের সামান্য স্বার্থসিদ্ধিতে এতটা বেপরোয়া- বন্ধুদের হত্যা করতেও দুইবার ভাবে না ভারত। বিগত কয়েক দশকে ভারতের বিরুদ্ধে এর ভূরি ভূরি প্রমাণ হাজির রয়েছে।

সেই কারণে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পর অভিযোগের তীর ভারতের দিকে। বিদেশে হত্যার শিকার শিখ সম্প্রদায় সরাসরি এর জন্য ভারতকে দায়ী করছে। তারা হাদিকে একজন আধিপত্যবাদবিরোধী নেতা হিসেবে তার হত্যার বিচার চাইছে। ইতোমধ্যে ছয় দেশে শিখরা ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গুপ্তহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া গুরপত সিং পান্নুন হাদি হত্যা নিয়ে একটি বৈশ্বিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকায় ভারতের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন বেগবান হচ্ছে।

ভারতের অপরিণামদর্শী পররাষ্ট্রনীতি কতটা বিপর্যয় ঘটিয়েছে, বাংলাদেশের হাদি হত্যার পর শিখদের প্রতিক্রিয়ায় তা সহজে অনুমেয়। ভারত শুধু চুপ করে থেকে আর অস্বীকারের নীতি অবলম্বন করে এখন এ সবের দায় এড়াতে পারবে না। পান্নুন দাবি করেন, হাদি হত্যার ধরন কানাডায় হরদিপ সিং নিজ্জর হত্যার সাথে মিলে যায়। অর্থাৎ- হাদি হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’। ঢাকায় গোয়েন্দা সংস্থা সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফয়সাল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত খবর দেয়ার পর পান্নুনের সংগঠন ‘শিখ ফর জাস্টিস’ হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিনি জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে সহায়ক তথ্যের জন্য তারা ৫৫ লাখ টাকা দেবেন।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ফয়সাল কিভাবে পালিয়ে গেছে, ভারতে গিয়ে কার আশ্রয় পেয়েছে; সেটিও নিশ্চিত করে বলেছে। এর পেছনে ভারত রয়েছে, এমন সন্দেহ শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। বাংলাদেশে অপরাধ করে ভারতে আশ্রয় পাওয়া যায়- এ সত্য আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত। হাসিনাসহ দণ্ডিত ভয়াবহ অপরাধীদের নয়াদিল্লিø বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করায় এ অভিযোগ আরো শক্তিশালী হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ ভারতের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার। এসব দেশে দিল্লির প্রকাশ্য তৎপরতাও সরাসরি জনগণের প্রতি শত্রুতামূলক। এ কারণে প্রতিবেশী কোনো দেশ ভারতকে বিশ্বাস করে না। জনসাধারণ ভারতকে তাদের শত্রু জ্ঞান করে। কারণ, দিল্লি প্রতিবেশীর কোনো অধিকার স্বীকার করে না। গায়ের জোরে চলে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলে ভারতের সবচেয়ে বড় শিকার। হাসিনার সময়ে আমাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ একটি ফ্লোর নিয়ে রীতিমতো কার্যক্রম চালিয়েছে। তাই সেই সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত ভারতের অপকর্মে বাধা দেয়ার দুঃসাহস কারো ছিল না। হাসিনার সময়ে ঢাকা এক প্রকার দিল্লির গভীর প্রভাব বলয়ে ছিল। ভারত এ দেশে যত অপারেশন চালিয়েছে, তার তদন্ত করারও তখন কেউ ছিল না।

সংখ্যালঘু কার্ডের নির্লজ্জ ব্যবহার

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর এ দেশে ভারতের যা খুশি করার যে স্বাধীনতা ছিল, সেটি খর্ব হওয়ায় দিল্লি অযাচিত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তাদের কাছে বাংলাদেশকে অস্থির করার এখন একটি অস্ত্র রয়েছে, সেটি হচ্ছে- সংখ্যালঘু কার্ড। কোনো ধরনের বাছ-বিচার না করে প্রতিনিয়ত তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছে- এ দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তারা শুধু কোনো একটি দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষায় থাকে, দিল্লিতে অবস্থিত বিদেশ মন্ত্রক এসব ব্যাপারে বিবৃতি দিতে এক মুহূর্ত দেরি করে না। এ ধরনের অভিযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শতভাগ মিথ্যা ও ভুল প্রমাণ হওয়ার পরও তারা এ অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত হচ্ছে না।

সম্প্রতি দুটো হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিদেশ মন্ত্রক সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে বরাবরের মতো বিবৃতি দেয়। যাচাই করে দেখা গেছে, এর কোনোটি সংখ্যালঘু নির্যাতন নয়। এর একটি ছিল রাজবাড়ীর পাংশায় অমৃত মণ্ডল হত্যার ঘটনা। সে ছিল আওয়ামী লীগের দলীয় এক সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ। ৫ আগস্টের পর সে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে থানায় বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে এসে আবারো চাঁদাবাজি শুরু করে। এমন একটি ঘটনায় দলবল নিয়ে চাঁদাবাজি করতে যায়।

একটি ঘরের বাসিন্দাদের অস্ত্রের মুখে পণবন্দী করে। স্থানীয় মানুষের গণপিটুনিতে সে প্রাণ হারায়। তার অন্য সাথীরা এ সময় আহত হয়। গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়। বাংলাদেশ সরকার এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। ওই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান। প্রায় একই সময় ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু দাস হত্যার ঘটনা ঘটে। এটি মালিক-শ্রমিক বিরোধের জেরে ঘটে। পোশাক কারখানার পদ-পদবি প্রাপ্তি নিয়ে মনোমালিন্যে এমন নিষ্ঠুর ঘটনার জন্ম দেয়। ধর্মীয় কারণে তাকে হত্যা করা হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অবহেলা নেই। এ দু’টি ঘটনায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এগুলোকে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে চিত্রিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে কথার কামান দাগিয়ে দিয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রক সর্বশেষ বিবৃতিতে দাবি করে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৯০০টির বেশি সহিংসতা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের ঘটনা তারা উল্লেখ করেছে। বাস্তবতা হচ্ছে- তাদের দাবি করা প্রায় কোনো ঘটনার ভিত্তি পাওয়া যায়নি। যাচাই করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা, পারিবারিক বিরোধ, অপমৃত্যু ও রোগশোকে মৃত্যুর ঘটনাকেও তারা সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা হচ্ছে- এ দেশের মিডিয়ার একাংশ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদসহ ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা সংগঠন। তারা এ দেশে খেয়েদেয়ে বেড়ে উঠেছে; কিন্তু সেবা দিচ্ছে ভারতকে। শুধু ভারতের দাবি করা ঘটনাকে নয়, প্রতিটি সহিংসতার ঘটনাকে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের দাবির জবাবে সরকার তদন্ত করে তা প্রকাশ করেছে। ঘটনার তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণের প্রতি কোনো ধরনের ভ্রুক্ষেপ করে না ভারত। সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি যে ভারতের উদ্দেশ্য নয়, তা প্রমাণ হয়ে যায়। তাদের দরকার বাংলাদেশ সরকারকে ঘায়েল করা। তাই তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে।

সংখ্যালঘু নিয়ে অসৎ নীতি বুমেরাং হয়েছে

ভারতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সীমাহীন বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এত দিন বাংলাদেশের কাছে তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। বরাবর নমনীয়তা দেখিয়েছে। সম্ভবত ভারতকে চটাতে চায়নি- তাই এসব নিয়ে ঢাকা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। এ দিকে ভারত মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে। এই প্রথম বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ভারতের সংখ্যালঘু ইস্যুতে ঢাকা কথা বলতে শুরু করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথম দিল্লির মিথ্যা অভিযোগকে শুধু প্রত্যাখ্যান করে ক্ষান্ত হয়নি, উল্টো ভারতের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ এনেছে। এটি পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো।

বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোনো সরকার ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মুখ খোলেনি। এখন থেকে ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে বাংলাদেশের বাক্যবানে জর্জরিত হতে হবে। সংখ্যালঘু নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ভারতের জন্য বুমেরাং হয়েছে। ঢাকার উপলব্ধি, নমনীয়তা প্রদর্শনকে নয়াদিল্লি দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারকে তারা ছোট দেশের অপারগতা মনে করেছে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর নীতি ভারতের ক্ষেত্রে ঢাকার গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। ভারতের বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তন করে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোতে অন্তর্বর্তী সরকার কৃতিত্ব পেতে পারে।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক নয়া দিগন্ত