অর্থনীতিতে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য জটিল অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে সঙ্কটের মধ্যেও সম্ভাবনা থাকে। বৈশ্বিক অস্থিরতা অনেক সময় নতুন অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণের সুযোগও তৈরি করে। বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক নীতিতে দূরদর্শিতা ও বাস্তববাদী কৌশল গ্রহণ করা। বহুমুখী শ্রমবাজার তৈরি, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো— এ চারটি ক্ষেত্রে আগামীতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। একই সাথে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিনির্ধারণে জবাবদিহি বৃদ্ধি না হলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে

বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। কোভিড-১৯-এর ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর, রেমিট্যান্সনির্ভর ও রফতানিমুখী অর্থনীতির জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য আমদানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতির ওপর প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সাথে বহির্বিশ্বের সংযোগ গভীর। দেশের জিডিপির আকার প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মোট রফতানি আয় ৫৫-৬০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে এবং এর প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরী পোশাক খাতনির্ভর। অন্য দিকে প্রবাসী আয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২৩-২৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। একই সাথে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের বড় অংশ আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের অর্থনীতিতে দ্রুতই প্রভাব পড়ে।

এই বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করাও জরুরি। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক চাপের একটি পর্যায় অতিক্রম করছে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে দেশের অর্থনীতি একধরনের রাজনৈতিক কেন্দ্রীকরণ ও বিতর্কিত শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির কিছু অর্জন থাকলেও ঋণের চাপ, ব্যাংক খাতে দুর্বলতা, আর্থিক খাতে অনিয়ম, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ অর্থনীতিকে ভেতর থেকে দুর্বল করেছে।

পরে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করলেও কাঠামোগত সমস্যার সমাধান পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা, ডলার সঙ্কট, জ্বালানি আমদানির চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি— এখনো বিদ্যমান। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব ক্ষমতায়; কিন্তু জনগণের বড় অংশ প্রশাসনিক দক্ষতা, নীতি-সমন্বয় এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর গভীর হতে পারে।

ইতোমধ্যে এলএনজি আমদানিতে চাপ, গ্যাস সরবরাহের সঙ্কট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা শিল্প খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সঙ্ঘাত যদি ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এর প্রভাব তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। কিন্তু যদি এটি বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেয়; তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে উঠবে। যদি উত্তর আটলান্টিক জোট (ন্যাটো) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং একই সাথে ইরানের পাশে রাশিয়া ও চীন সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে এটি বৃহত্তর বৈশ্বিক সঙ্ঘাতে রূপ নিতে পারে। এর অর্থ হবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন, আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের গভীর সঙ্কট।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব তিনটি সময়পর্বে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে— স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজারে। বাংলাদেশ তার তেল ও এলএনজি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়ায় এলএনজি আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে সঙ্কট দেখা দিতে শুরু করেছে এবং শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন খরচ, বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং শিল্প উৎপাদনের খরচও বাড়ে। এতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেয়। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৯-১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। জ্বালানির দাম আরো বাড়লে মূল্যস্ফীতিও দুই অঙ্কের ওপরে চলে যেতে পারে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। স্বল্পমেয়াদে আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বৃদ্ধি। জ্বালানি ও খাদ্য আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যেতে পারে। এতে টাকার বিনিময় হার দুর্বল হবে এবং আমদানি ব্যয় আরো বাড়বে।

মধ্যমেয়াদে প্রভাব আরো বিস্তৃত হতে পারে। বাংলাদেশের মোট প্রবাসী কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত। আঞ্চলিক সঙ্ঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই অঞ্চলে অবকাঠামো প্রকল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর হতে পারে। এতে নতুন কর্মী নিয়োগ কমবে এবং অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ধাক্কা লাগবে। উদাহরণস্বরূপ— রেমিট্যান্স ১০-১৫ শতাংশ কমে গেলে বছরে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা কম প্রবেশ করতে পারে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে। মধ্যমেয়াদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। যদি বৈশ্বিক অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে ধীরগতিতে চলে যায়, তাহলে এসব বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমতে পারে। ফলে তৈরী পোশাক রফতানিতে ঝুঁকি তৈরি হবে এবং শিল্প খাতে কর্মসংস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি হতে পারে জটিলতর। যদি বৈশ্বিক শক্তির মেরুকরণ স্থায়ী আকার ধারণ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়নের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। বিভিন্ন ব্লকের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশগুলো তখন কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় কঠিন অবস্থায় পড়তে পারে। চীনের ওপর বাংলাদেশের বাণিজ্যনির্ভরতা খুব বেশি। দেশের মোট আমদানির বৃহত্তম অংশ চীন থেকে আসে। শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো প্রকল্পের উপকরণের বড় অংশই চীন থেকে আনা হয়। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজার। যদি এই দুই শক্তির মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভাজন আরো গভীর হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য উভয়পক্ষের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তায়ও প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশ প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম আমদানি করে। এর বড় অংশ আসে রাশিয়া অঞ্চল থেকে। রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি পেলে বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে গমের আন্তর্জাতিক মূল্য বাড়বে এবং দেশের খাদ্য বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতি বজায় রাখা। বৈশ্বিক সঙ্ঘাতের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়; কিন্তু সঠিক কৌশল গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। প্রথমত, অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উচিত বড় শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো পক্ষের সাথে রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে না পড়ে অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া। দ্বিতীয়ত, শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের উৎস বহুমুখীকরণ জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ অত্যন্ত জরুরি। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় কৌশলগত মজুত বাড়াতে হবে এবং বিকল্প উৎস থেকে খাদ্য আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষে বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবেলায় জন্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা দরকার। নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে আকস্মিক ধাক্কা মোকাবেলা করা সহজ হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য জটিল অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। তবে সঙ্কটের মধ্যেও সম্ভাবনা থাকে। বৈশ্বিক অস্থিরতা অনেক সময় নতুন অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণের সুযোগও তৈরি করে। বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক নীতিতে দূরদর্শিতা ও বাস্তববাদী কৌশল গ্রহণ করা। বহুমুখী শ্রমবাজার তৈরি, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো— এ চারটি ক্ষেত্রে আগামীতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। একই সাথে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিনির্ধারণে জবাবদিহি বৃদ্ধি না হলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারও বড় বিষয়, কারণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সামাজিক আস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতি অতীতে বহু বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলা করেছে— তেল সঙ্কট, বৈশ্বিক মন্দা, মহামারী কিংবা যুদ্ধ পরিস্থিতি। প্রতিবারই দেশ নতুন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিও তেমনি একটি পরীক্ষা। দূরদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কার যদি এগিয়ে নেয়া যায়, তাহলে এ সঙ্কটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]