সাহিত্য কথা বলে। কথাটি আপাতদৃষ্টিতে রূপক মনে হতে পারে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে গভীর ও তাত্তি¡ক সত্য বহন করে। সাহিত্য মানুষের মতো উচ্চারণে কথা বলে না। সে কথা বলে ভাষার ভেতর দিয়ে, নীরবতার আড়াল থেকে, প্রতীকের সঙ্কেত দিয়ে এবং পাঠকের চেতনায় প্রতিধ্বনির মাধ্যমে। সাহিত্য কখনো সরাসরি কিছু বলে না। আবার কখনো এমনভাবে বলে, যেন বলা ছাড়া আর কোনো তরিকা ছিল না।
সাহিত্যের প্রথম ভাষা হলো শব্দ। কিন্তু এই শব্দ দৈনন্দিন যোগাযোগের শব্দ নয়। সাহিত্যিক ভাষা হলো অতিরিক্ত অর্থবাহী ভাষা। যেখানে একটি শব্দ তার অভিধানগত অর্থ অতিক্রম করে বহুস্তর অর্থ ধারণ করে। ধরুন, ‘রাত’ শব্দটি। সাহিত্যে সে কেবল ওয়াক্ত নির্দেশ করে না। সে একাকিত্ব, আশঙ্কা, অন্তর্দহন অথবা রহস্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। সাহিত্য এভাবে শব্দকে সঙ্কেত থেকে অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করে। সাহিত্যের বাকভঙ্গিতে থাকে শব্দের বহুমাত্রিকতা।
শব্দের পরে সাহিত্যের ভাষা হলো নীরবতা। সাহিত্যে যা বলা হয় না, সেটিই অনেক সময় মূল কথা। অপ্রকাশিত বেদনা, অসমাপ্ত বাক্য, ইঙ্গিতপূর্ণ বিরতি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে সাহিত্য প্রবলভাবে কথা বলে। চেখভের গল্প, কাফকার উপন্যাস কিংবা গালিবের কবিতায় তাকান। দেখবেন চরিত্ররা যা বলে না, সেটিই পাঠকের মনে সবচেয়ে জোরালো বলা হয়ে যাচ্ছে। সাহিত্যে এই অনুচ্চারিত কথা বা নীরবতার নানা মাত্রা আছে। কখনো সে অবদমিত হকের ভাষা, কখনো ক্ষমতার বিরুদ্ধে অস্পষ্ট প্রতিবাদ। কখনো সে অস্তিত্বগত প্রশ্নের অনুচ্চারিত রোনাজারি।
সাহিত্য অনেক সময় কথা বলে প্রতীক ও রূপকের মাধ্যমে। এ হচ্ছে সাহিত্যিক কণ্ঠের গূঢ় স্তর। নদী কখনো সময়ের প্রতীক। মরুভূমি কখনো কলবের শূন্যতা। চাঁদ কখনো ইশক, কখনো নিষ্ঠুর নির্লিপ্ততা। প্রতীকগুলো পাঠকের মানসলোকে ঢুকে পড়ে এবং নিজের অর্থ নিজেই নির্মাণ করে।
সাহিত্যের বড় এক কণ্ঠস্বর পাঠক নিজেই। সাহিত্য একক বক্তা নয়। পাঠক ছাড়া সাহিত্য নীরব। পাঠকই সাহিত্যের কণ্ঠকে সক্রিয় করে। পাঠকই সাহিত্যকে বিশেষ অর্থদান করে, অর্থ উন্মোচনের ধারায়। ফলে একই লেখা ভিন্ন পাঠকের কাছে ভিন্নভাবে কালাম করে। সময় বদলালে লেখাটির অর্থ বদলায়। অভিজ্ঞতা বদলালে একই বাক্যের উচ্চারণ বদলায়। এ কারণে সাহিত্য একটি সংলাপ। সংলাপটি ঘটে লেখক, পাঠক ও সময়ের মধ্যে। রোলা বার্ত যাকে বলেছেন, ঞযব উবধঃয ড়ভ ঃযব অঁঃযড়ৎ. মানে- লেখকের কণ্ঠ একমাত্র কণ্ঠ নয়; পাঠকও সমান বক্তা।
সাহিত্যের রাজনৈতিক কণ্ঠ হচ্ছে সমাজ ও ইতিহাস। সাহিত্য নিছক সৌন্দর্যের ভাষা নয়; সে ইতিহাসে হাজির ও নাজির। যেখানে রাষ্ট্র চুপ করিয়ে দেয়, সেখানে সাহিত্য কথা বলে। যেখানে ক্ষমতা ইতিহাসকে মুছে দেয়, সেখানে সাহিত্য স্মৃতি রক্ষা করে। দাসত্ব, উপনিবেশ, যুদ্ধ, বর্ণবাদ প্রভৃতির মোকাবেলায় সাহিত্য অনেক সময় আইনের চেয়েও শক্তিশালী কণ্ঠ। সাহিত্য এখানে কথা বলে বিকল্প ইতিহাস হিসেবে। সে উচ্চারিত হয় নিপীড়িতের ভাষা হিসেবে। সে উপস্থিত থাকে নৈতিক বিবেক হিসেবে।
সাহিত্য সময়ের নদী পার হয়ে যায়। সে মুহূর্তের জন্য কথা বলে না। জালালুদ্দিন রুমি, ইবনে তুফায়েল, শেকসপিয়র, আল্লামা ইকবাল। তারা আজও কথা বলছেন। তাদের সাহিত্য তাদের জামানার সরহদে থামেনি। সে তার সময়ের সীমা ভেঙেছে, মানবিক সওয়ালে উপনীত হয়েছে। সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে আছে, মানুষ কে? তাদের কণ্ঠস্বর আজও উচ্চারণ করছে, জীবন কেন? আজও বলছে, ন্যায় কী? আজও তালাশ করছে এসব জিজ্ঞাসার জবাব। প্রশ্নগুলো কখনো পুরনো হয় না। জবাবসন্ধান কখনো থামে না।
সাহিত্য শুধু মর্ম ও ভাষা দিয়ে কথা বলে না, সে কথা বলে রূপেও । রূপ এখানে অলঙ্কার নয়। রূপ এখানে বয়ান। কোনো লেখা কী বলছে, এটি যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি হলো, সেটি কিভাবে বলা হচ্ছে।
উপন্যাস কেন উপন্যাস হয়ে কথা বলে, কেন সে প্রবন্ধের মতো নয়? এই প্রশ্ন নিজেই একটি অর্থ বহন করে। ভাঙা পঙ্ক্তি, অসম স্তবক, সহসা থেমে যাওয়া সংলাপও বক্তব্যের অংশ। উপন্যাসের দৈর্ঘ্য, নাটকের সংলাপ-নির্ভরতা, ছোটগল্পের সংক্ষিপ্ততা কেবল রচনাশৈলী নয়। এগুলো হচ্ছে অর্থবহনকারী সিদ্ধান্ত। একটি উপন্যাস যে কথাটি ধীরে ধীরে বলে, একই কথা একটি কবিতা বলে হঠাৎ আঘাতের মতো। ফলে রূপ বদলালে, কথার স্বর বদলে যায়; অর্থের উচ্চারণ বদলে যায়।
সাহিত্য এভাবে রূপকে ব্যবহার করে ভাষার বাইরের ভাষা হিসেবে। এখানে ছন্দ কথা বলে। চিহ্ন কথা বলে। পুনরাবৃত্তি কথা বলে। অধ্যায় বিভাজন কথা বলে। শিরোনামের পাশাপাশি উপশিরোনামও কথা বলে। অনেক সময় সাহিত্যে যা বলা যায় না, তা রূপ বলে দেয়। ভাঙা গঠন বলে দেয় ভাঙা অভিজ্ঞতার কথা। অসংলগ্ন বিন্যাস বলে দেয় বিচ্ছিন্ন চেতনার বার্তা। অপ্রত্যাশিত সমাপ্তি বলে দেয়, জীবনেরও কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি নেই। সাহিত্যে ভাবনা বিমূর্ত হয়ে ওঠে, জিস্ম তাকে দৃশ্যমান করে। দেহ এখানে কোনো জিসমানি বর্ণনার বস্তু নয়; দেহ এখানে তাজরিবা বা অভিজ্ঞতার ধারক।
সাহিত্যে থাকে ঘাম, ক্ষুধা, ক্লান্তি, ক্ষত, শ্বাসের গতি, হাত কাঁপা কিংবা চোখের দৃষ্টি। তারা নিছক বিবরণ নয়। এসবের মধ্য দিয়েই সাহিত্য অনুভবের ভাষা তৈরি করে। অনেক সময় যে কথা বলা যায় না, তা দেহের প্রতিক্রিয়াই বলে দেয়।
একটি চরিত্র যখন কিছু না বলেও থমকে দাঁড়ায়, যখন তার কণ্ঠ শুকিয়ে আসে, যখন তার হাঁটার গতি হঠাৎ বদলে যায়, তখন সাহিত্য দেহকে ভাষা বানিয়ে কথা বলছে। এই দেহগত ভাষা পাঠকের নিজের শরীরে প্রতিধ্বনিত হয়। পাঠক শুধু বোঝে না, সে টের পায়। একটি দৃশ্য পড়ে তার শ্বাস আটকে যায়। বুক ভারি হয়ে ওঠে, বা অকারণ অস্বস্তি তৈরি হয়। এ অনুভবই সাহিত্যের দেহগত কণ্ঠ।
সাহিত্য সবসময় সমাধান দিতে আসে না। অনেক সময় তার কাজ হলো সমাধানকে স্থগিত রাখা। সাহিত্যের কণ্ঠ অনেক সময় উচ্চারিত হয় বিরোধের মধ্য দিয়ে। একটি চরিত্র যা বিশ্বাস করে, অন্যটি তা অস্বীকার করে। একটি বাক্য যে অর্থ তৈরি করে, পরের বাক্য তা ভেঙে দেয়। এই ভাঙন কোনো দুর্বলতা নয়; এটি সাহিত্যের প্রকাশরীতির বৈচিত্র্য।
সাহিত্য এখানে কথা বলে এমন এক ভঙ্গিতে, যেখানে সত্য বহুস্তরী। একটি প্রশ্নের একাধিক উত্তর থাকে, আবার কখনো কোনো উত্তরই চূড়ান্ত নয়। ওমর খৈয়ামের রুবাইয়ে, মীর তকি মীরের গজলে, দস্তয়েভস্কির উপন্যাসে, কাফকার জগতে কিংবা আধুনিক কবিতায় দ্ব›েদ্বর শেষ নেই। চরিত্ররা মুক্তি পায় না, পাঠকও নিশ্চিত হয় না। কিন্তু এই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই সাহিত্য গভীরভাবে কথা বলে।
সাহিত্য সবসময় সচেতন ভাষায় কথা বলে না। অনেক সময় সে কথা বলে এমন এক স্তর থেকে, যেন লেখক নিজেও সম্পূর্ণ অবগত নন। এ স্তরটি অচেতন। এখানে সাহিত্য তার সবচেয়ে গোপন কণ্ঠ খুঁজে পায়।
সাহিত্যে হাজির হয় পুনরাবৃত্ত চিত্র, অকারণ ভয়, অস্পষ্ট আকাক্সক্ষা, হঠাৎ বিষণœতা- কেবল শৈল্পিক কৌশল নয়। এসব অবচেতনের সঙ্কেত। যে কথা জাগ্রত ভাষা বলতে পারে না, অবচেতনের ভাষা সে কথা বলে। সাহিত্য পাঠককে অনুভবের গভীরে নামিয়ে আনে। পাঠক অনেক সময় বিবরণ পান না; কিন্তু ইশারাটা পান। এই ইঙ্গিত অচেতনের ভাষা।
সাহিত্য কি সবসময় ভাষার সক্ষমতার ওপর ভর করে কথা বলে? না, অনেক সময় সে ভাষার অক্ষমতাকেই ভাষা বানায়। তার মধ্যে থাকে ভাষার সীমার স্বীকারোক্তি। ভাষা যখন ব্যর্থ হয়, সাহিত্য তখন সেই ব্যর্থতাকেই উচ্চারণ করে।
অনেক অভিজ্ঞতা আছে, যাকে ধরতে পারছে না শব্দ। ব্যথা, শোক, আনন্দ, মৃত্যু বা করুণ হাহাকার। সুফি অনুভবে পরম সত্তার প্রেম বা ইশকে হাকিকি, জাগতিক প্রেম বা ইশকে মাজাজি, ফানা বা আত্মলুপ্তির তীব্রতা। এসবের গূঢ়তর বয়ানে ভাষা প্রায়ই অসহায় হয়ে পড়ে। সাহিত্যের এই মজবুরি পাঠকের মধ্যে গভীর সংবেদন তৈরি করে।
সাহিত্য তার হাজিরির মাধ্যম বদলায়। কথা বলার ভঙ্গি বদলায়। প্রিন্টের পাতায় কথার উচ্চারণ আলাদা, স্ক্রিনে স্ক্রোলিংয়ের মধ্য দিয়ে শব্দের গতিবেগ আলাদা। ইন্টারনেটের টেক্সট, ছোটগল্পের ফ্ল্যাশ, সোশ্যাল মিডিয়ার কবিতা- সবখানেই সে থাকে। প্রতিটি মাধ্যম সাহিত্যের ভাষাকে নতুন উচ্চারণ দেয়।
এখানে সাহিত্যকে মাধ্যমের ফর্মের সাথে সংলাপ করতে হয়। একটি শব্দের মূল্য, একটি বাক্যের শক্তি কিংবা একটি চিত্রকল্পের অভ্যন্তরীণ প্রভাব নির্ভর করে সেই মাধ্যমের গতিশীলতার ওপর। কিন্তু মাধ্যম ও অডিয়েন্সের গ্রামারের কাছে সাহিত্য আত্মসমর্পণ করতে পারে না। এটি সে যে মাত্রায় করে, সে মাত্রায় গরিব হতে থাকে।
সাহিত্য সবসময় স্পষ্ট অর্থে উচ্চারিত হয় না। তার কথা প্রায়ই একক ও চূড়ান্ত অর্থ বহন করে না। প্রায়ই সে বলে ভুল বোঝার আশঙ্কা মেনে নিয়ে, অপব্যাখ্যার ঝুঁকি নিয়ে।
একই লেখা এক পাঠকের কাছে বিদ্যুৎসমান উদ্দীপনা জাগায়, অন্য পাঠকের কাছে তা ধূসর বা বিপরীত অর্থ বহন করে। সাহিত্য এখানে কথা বলে বহুবচন, বহুস্বর ও বহুমাত্রিক অর্থের মধ্যে। এই ঝুঁকি সাহিত্যের দুর্বলতা নয়; বরং এটি সাহিত্যের তাকত।
সাহিত্য অনেক সময় কথা বলে উত্তীর্ণতার ভাষায়; যা যুক্তিকে অতিক্রম করে পাঠককে বিস্ময়ে স্থবির করে দেয়। সাহিত্য বহন করে এমন সমগ্রতা, যা পাঠককে শুধু বোঝায় না; বরং উন্নীত করে। তরক্কি দেয়। এই ভাষা নিছক যুক্তির নয়; এতে থাকে সামষ্টিক ঝাঁকুনি। সাহিত্যের ভাষা প্রভাবের মাধ্যমে কথা বলে। সাহিত্য যখন কথা বলে, তখন সে পাঠককে রাজি করায় না; বরং দখল করে নেয়। এখানে সাহিত্যিক কণ্ঠ হচ্ছে একধরনের আঘাতমূলক উচ্চারণ, যা পাঠকের চেতনায় রেখে দেয় দায়েমি দস্তখত।
ভাষা, রূপ, নীরবতা, দেহ, অচেতন, দ্ব›দ্ব, ভাঙন, মাধ্যম ও ভুল বোঝার ঝুঁকির সমাহারে সাহিত্য কথা বলে। সাহিত্য নিছক নন্দন ও দার্শনিক নির্মাণ নয়। সে হচ্ছে সভ্যতার সূচক। ভাষা, কবিতা ও বর্ণনা সমাজের শক্তি ও অবক্ষয়ের লক্ষণ বহন করে। অতএব, সাহিত্য কথা বলে ইতিহাসের আত্মচেতনার মাধ্যমে। ভাষা কোনো নিরপেক্ষ যন্ত্র নয়। সে হচ্ছে নৈতিক আমানত। ফলে সাহিত্য কথা বলবে নৈতিক দায়িত্বের কণ্ঠে। সাহিত্য ধারণ করবে আখলাকি ও রুহানি জিম্মাদারি।
সাহিত্যের কথা কেবল ব্যক্তি বা সমাজের চলতি বাস্তবতায় সীমিত থাকবে না; তা বিস্তৃত হবে জগতব্যবস্থা বা নেজামে আলমের স্তরে। যেখানে কসমিক নিয়ম ও সৃষ্টির ভারসাম্য প্রতিফলিত হয়। এই স্তরে সাহিত্য কেবল শব্দ নয়; বরং একটি দার্শনিক ও মহাজাগতিক ভাষা। যা মানুষের অন্তর্নিহিত সচেতনতা ও ফিতরাতের স্বাভাবিক প্রবণতাকে জাগ্রত করে। প্রতিটি রূপ ও অভিব্যক্তি পাঠককে তার অন্তর্নিহিত সত্যের মোলাকাতে নিয়ে যায়।
সাহিত্যের আত্মায় থাকবে সুন্নাতুল্লাহ বা সৃষ্টির নৈতিক ও নিয়মতান্ত্রিক অমোঘ ধারা; যা মানুষকে ন্যায়, সৌন্দর্য ও মহত্তে¡র চেতনার দিকে পরিচালিত করে। পাঠক যখন সাহিত্যকে গ্রহণ করবে, সে উপলব্ধি করবে অস্তিত্বের দায়িত্ব ও সৃষ্টির সব সত্তার মধ্যে রহস্যময় সম্পর্ক; যা তাকে নৈতিকভাবে সম্পন্ন হতে শেখায় এবং সচেতনতাকে রুহানিয়াতের স্তরে যুক্ত করে। সে পরিচিত হয় নিজের মধ্যে নিহিত আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের সামর্থ্যরে সাথে; যা তার চেতনায় স্ব-উন্নয়নের আহŸান ছড়াবে। বিশ্বজগতে সে যেন কেবল পর্যবেক্ষক না থাকে; বরং সৃষ্টির সেতুবন্ধন রচনায় ও বাস্তবায়নের সক্রিয় শরিক হয়ে ওঠে।
সাহিত্যের ভাষা শুধু অনুভবের বা বিনোদনের মাধ্যম নয়। তাতে থাকবে এক সামষ্টিক কসমিক এবং রুহানি সংলাপও; যা পাঠককে জীবনের গভীর প্রশ্ন, নৈতিক দায়িত্ব এবং মানব ও সৃষ্টির অন্তর্নিহিত সম্পর্কের সন্ধানে ও বন্ধনে নিয়ে যায়। এখানে সাহিত্য এমনভাবে কথা বলবে; যা মানুষকে শেষ অবধি জীবন ও জগতের হাকিকতের সাথে লগ্ন করবে। যেখানে মানুষ নিজেকে, সমাজকে ও সৃষ্টিকে সত্যস্বরূপে উপলব্ধি করবে, জীবনে বহন করবে।
লেখক : কবি, গবেষক



