জনতার ইশতেহার, স্বপ্ন ও আশা ২০২৬

এই ইশতেহার জনতার স্বপ্নের মানচিত্র, যা অনুসরণ করলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ, শান্তিপ্রিয় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। জনগণ পাবে সমন্বিত, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ সরকার, যা দেশের সব ক্ষেত্রকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। সব ক্ষেত্রেই জনগণের আশা প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সার্বভৌমত্ব, যা ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ভোট শুধু কাগজে সিল নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এই চুক্তি ভেঙে গেলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। দুঃখজনকভাবে, বাংলাদেশে ভোটাধিকার কাগজে থাকলেও বাস্তবে সীমিত। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের সব আলোচনা অর্থহীন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা, নিরাপদ ভোটকেন্দ্র ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকারও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের পর নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাছে নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। সংসদ কেবল আইন পাসের রাবার স্ট্যাম্প নয়, বিরোধী দলসহ সত্যিকারের আলোচনা ও নজরদারির কেন্দ্র হতে হবে।

‘জনতার ইশতেহার’ হলো সেই মানচিত্র যা দেশের প্রতিটি নাগরিকের আশা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটায়। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চাওয়া-পাওয়া নির্দেশ করে। জনসাধারণের মূল আকাক্সক্ষা এমন একটি দেশ যেখানে ন্যায়, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ সবক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

আমরা এখানে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জনতার ইশতেহার তুলে ধরবো, যেখানে জনগণ স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে তারা কী চায় এবং কোন দিকনির্দেশনায় দেশের সরকার কাজ করবে। এটি কোনো দলের ইশতেহার নয়। এটি জনতার ইশতেহার, ভোটার নাগরিকদের পক্ষ থেকে নির্বাচিত সরকারের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা।

শহীদ স্মৃতি, গণতন্ত্র চিরকাল : চব্বিশের জুলাই-আগস্টের শহীদদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা; বিপ্লবের মূল্যবোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় আধিপত্য চিরতরে বন্ধ করা এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক ও মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা।

স্বচ্ছ নেতা, শক্তিশালী দেশ : জনগণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে এমন যোগ্য, মেধাবী ও সততা সম্পন্ন নেতৃত্ব চাইছে যারা হবে স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং জনকল্যাণমুখী; রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ফ্যাসিবাদমুক্ত। জনগণের কাছে এই নেতৃত্ব হবে স্বপ্নের সরকার।

এমন নেতৃত্ব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন এমন স্বচ্ছ, ন্যায্য ও ঝামেলামুক্ত হবে যাতে জনগণ নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারে। প্রশাসন হবে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ; একদলীয় আধিপত্য চিরতরে বন্ধ; ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো শক্তিশালী; রাজনীতি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং বিরোধ বা সঙ্ঘাত দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে না।

জনগণই রাষ্ট্রের মালিক : এই ভূখণ্ডের দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশ কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র কোন পথে যাবে, ন্যায়ের না নিপীড়নের, জবাবদিহির না জবরদস্তির তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ক্ষমতার নয় সেবার জন্য প্রশাসন : একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও নাগরিকমুখী জনপ্রশাসন, যা সরকারি সেবা পৌঁছে দেবে গ্রামের কোণে কোণে। দুর্নীতি কমানো, সিদ্ধান্ত দ্রুত নেয়া এবং সবার জন্য ন্যায়পরায়ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে। জনগণের চাওয়া হলো প্রশাসন হোক সবার জন্য, ব্যক্তির জন্য নয়।

ক্ষমতা নয়, সেবা : নেতারা ক্ষমতার মালিক নয়; বরং জনগণের সেবক হবে। যে নেতৃত্ব বিরোধী কণ্ঠকে শত্রু ভাবে না বরং ভিন্নমতকে শক্তি ভাবে এবং রাজনীতিকে নীতি ও কর্মের প্রতিযোগিতা ভাবে- ভয় ও প্রতিহিংসার নয়।

যে বাংলাদেশে কেউ বাদ পড়বে না : নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী, প্রান্তিক মানুষ- সবাই এই রাষ্ট্রের সমান নাগরিক। কেবল পরিচয়ের কারণে কাউকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক বানানো চলবে না; বরং রাষ্ট্র হবে সবার।

পেটের শান্তি, জীবনের নিশ্চয়তা : অর্থনীতি হবে এমন যেখানে বেতন বাড়ে, দাম কমে। নিত্যপণ্যের আগুনে মধ্যবিত্ত পুড়বে না, দরিদ্র আরো দরিদ্র হবে না। অর্থনীতি চলবে মানুষের স্বার্থে- লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।

ব্যাংক বাঁচলে মানুষ বাঁচবে : বাংলাদেশ ব্যাংক হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। ঋণখেলাপি হবে অপরাধী, পুরস্কৃত ব্যক্তি নয়। আমানতকারীর টাকা লুট করে কেউ নিরাপদ থাকবে না। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হবে জনগণের আস্থার জায়গা।

জুয়া নয়, বিনিয়োগ : পুঁজিবাজারে কারসাজি নয়, নিয়মে চলবে। ছোট বিনিয়োগকারী ঠকবে না। লুটেরা রক্ষা পাবে না। শেয়ারবাজার হবে অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি, ধোঁয়াশার ফাঁদ নয়।

মেধার মর্যাদা, কাজের অধিকার : চাকরি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে, দলীয় পরিচয়ে নয়। যুবসমাজ ভিসার লাইনে নয়, দেশের উন্নয়নে যুক্ত হবে। বিদেশে কর্মী নয়; বরং মানবসম্পদ রফতানি হবে।

সনদ নয়, মানুষ গড়ি : শিক্ষা হবে মানসম্মত, বৈষম্যহীন ও বাস্তবমুখী। কোচিং নয়, শ্রেণিকক্ষ হবে শিক্ষার কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তার জায়গা, দলীয় দখলের নয়।

অসুখে সর্বস্ব নয় : চিকিৎসা হবে অধিকার, দয়া নয়। সরকারি হাসপাতালে সেবা, ওষুধ ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় যেন কাউকে দারিদ্র্যের ফাঁদে না ফেলে।

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে : কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, মধ্যস্বত্বভোগী নয়। খাদ্য নিরাপত্তা হবে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। গ্রাম হবে উন্নয়নের কেন্দ্র, অবহেলার এলাকা নয়। শহর হবে বসবাসযোগ্য, ঢাকা ও বড় শহর যানজটের কারাগার হবে না। গণপরিবহন, ফুটপাথ, সবুজ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে।

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় : বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। মামলার জট কমবে। বিচার হবে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত। ক্ষমতার পরিচয় বিচারের রায় নির্ধারণ করবে না।

ভয়ের নয়, ভরসার রাষ্ট্র : পুলিশ হবে জনগণের নিরাপত্তারক্ষী, ক্ষমতার হাতিয়ার নয়। গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার রাজনীতি প্রত্যাখ্যাত হবে।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, রাজনীতির নয় : গোয়েন্দা সংস্থার কাজ হবে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নজরদারি নয়। নাগরিক গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে। সশস্ত্রবাহিনী হবে পেশাদার এবং আধুনিক, থাকবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। জাতীয় নিরাপত্তা হবে সর্বাগ্রে, দলীয় স্বার্থ নয়।

কারো করিডোর নয়, সার্বভৌম বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন ও দেশের স্বার্থনির্ভর। প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক হবে সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের ন্যায়সঙ্গত সমাধান হতে হবে।

বড় মাছ ধরো : দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকবে। ক্ষমতার অপব্যবহারে রাঘববোয়ালদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র হবে জবাবদিহিমূলক। বৈষম্যহীন অর্থনীতি, সমৃদ্ধির পথে! রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রফতানি বৃদ্ধি ও আমদানি হ্রাসের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প উন্নয়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাজস্ব ও কর আদায় শক্তিশালী করা এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

নিরাপদ দেশ, শক্তিশালী নিরাপত্তা : দক্ষ ও সুশৃঙ্খল পুলিশ; বলিষ্ঠ বর্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা শক্তিশালী করা ও বিদেশী প্রভাব কমাতে হবে। ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য- সবার অধিকার : বিনামূল্যে ও মানসম্মত শিক্ষা, যা শিশু ও যুবকদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্য খাত আন্তর্জাতিক মানের হবে, যাতে প্রতিটি নাগরিক সহজে চিকিৎসা পেতে পারে।

সবুজ বাংলাদেশ, সুস্থ জীবন : দেশের পরিবেশ ও বনায়ন সংরক্ষণ, যা জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে হবে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে নদী, হাওর ও বনাঞ্চল পুনরায় খনন ও বর্ধন করতে হবে। শিল্পায়ন ও নগরায়ণের সময় পরিবেশগত সংরক্ষণ অগ্রাধিকার, বনায়নের মাধ্যমে গ্রিন হাউজ গ্যাস কমানো ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রবাসী শ্রমিক, দেশের সাফল্যের শক্তি : প্রবাসী শ্রমিকদের অর্জিত রেমিট্যান্স নিরাপদ ও সহজলভ্য পথে দেশে আসবে যাতে তা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণে খরচ কমবে এবং দ্রুত প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে। প্রবাসীদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রবাসী কর্মীদের দেশের অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করতে হবে।

গতি, সুরক্ষা ও আধুনিকতা- সব পোর্টে : দেশের বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও পোর্ট আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকরী করতে হবে। বিমানবন্দরগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আধুনিক সুবিধাসহ পরিচালিত হতে হবে। নৌপথ এবং পোর্টগুলোতে লজিস্টিক, কার্গো ও পণ্য পরিবহন সহজ ও দ্রুততর করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুষ্ঠু পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।

রেলওয়ে, বিমান ও নৌপথ দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী হতে হবে। রেলওয়ে লাইন সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ বিমান ও নৌপথে সেবার মান উন্নত করে যাত্রী ও মালবাহনের জন্য সুবিধাজনক সময়সূচি ও ভাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানী ঢাকা যানজটমুক্ত হতে হবে। স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রয়োগ, ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট উন্নয়ন ও পথ নির্মাণ এবং বিকল্প সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে যানবাহনের চাপ কমাতে হবে।

নারী- সমান অধিকার, সমৃদ্ধ জাতির ভিত্তি : নারীর অধিকার সবক্ষেত্রে সুরক্ষিত হতে হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। নারী নির্যাতন, বৈষম্য ও যৌন হয়রানি রোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

একতা ও সম্প্রীতি-শান্তির শক্তি : বাংলাদেশে সাম্য এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্ম, বর্ণ বা আঞ্চলিক বিভাজন ছাড়া সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও একতা বাড়ানো এবং সামাজিক দ্ব›দ্ব, হিংসা ও সন্ত্রাস দমন করতে হবে।

মানবিক দায়িত্ব, শান্তি ও সমাধান : রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ সমাধান হতে হবে। স্থানীয় জনগণের সাথে সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বচ্ছ মিডিয়া, শক্তিশালী গণতন্ত্র : মিডিয়া হবে জনগণের কণ্ঠস্বর। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি বৃদ্ধি করবে এবং ফ্যাক্টচেক, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করবে।

এক কথায়, এই ইশতেহার জনতার স্বপ্নের মানচিত্র, যা অনুসরণ করলে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ, শান্তিপ্রিয় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। জনগণ পাবে সমন্বিত, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ সরকার, যা দেশের সব ক্ষেত্রকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। সব ক্ষেত্রেই জনগণের আশা প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]