ফ্যাসিবাদ-উত্তর নির্বাচনে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে খালেদা জিয়াসহ দেশী-বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।
শেখ হাসিনার আমলে ইসলামী রাজনীতি নির্মূল করতে গঠন করা হয়েছিল একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের নামে তখনকার কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-আইসিটি। সেই আদালতে বিচারের নামে দেশের প্রধান ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পাঁচ নেতা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে বিচারিক হত্যা করা হয়। এ বিচার যে অবিচার ছাড়া কিছু ছিল না, তা বিচার কাজের ভয়াবহ ত্রুটি দেখলে বোঝা যায়।
দু’টি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। প্রথমটি— বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে উচ্চ আদালতের গেট থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অপহরণ করে গুম করে। পরবর্তীতে তাকে ভারতে পাচার করা হয়। সুখরঞ্জন বালী দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারতীয় কারাগারে বিনাদোষে কারাভোগ করেন। কারাভোগ শেষে দেশে ফেরেন তিনি। ততদিনে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবের পর সেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের রিভিউয়ে বেকসুর খালাস পান। বাস্তবে শেখ হাসিনা ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে ভারতবিরোধী নেতৃত্ব নির্মূল করতে যে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন; এই দু’টি ঘটনায় তা স্পষ্ট।
শেখ হাসিনার আদালতে বিচারের নামে জুলুমের শিকার জামায়াতের পাঁচ নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচারিক হত্যা করা হয়। একইভাবে হত্যা করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও। তারা সবাই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি; সবাই মেধাবী। জাতীয় পর্যায়ে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রেওয়াজ অনুসারে অন্যদের সাথে তাদের নামেও শোকপ্রস্তাব আনা হয়। সংসদে সর্বসম্মতভাবে সেটি গৃহীত হয়েছে। এতে বাম চেতনাধারীদের গোসসা হয়েছে। তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া নাম না জানা, মানে নাম উল্লেখ না করে ৪১ জনের একটি নিন্দা বিবৃতি ছেপেছে প্রথম আলো। সাথে বিএনপির সদ্য ইন্তেকাল করা দেশের তুমুল জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি ছেপে প্রথম আলো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের নামও শোকপ্রস্তাবে গৃহীত হয়েছে, এমন সংবাদ ছেপেছে। এতে পত্রিকাটি নিজের গাত্রদাহ লুকিয়ে রাখতে পারেনি। এর কারণও আমাদের জানা, পত্রিকাটির সম্পাদক আর কেউ নন— একজন সাবেক বামপন্থী।
লক্ষণীয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী পক্ষটি একাত্তরের শহীদের সংখ্যা নিয়ে রাজনীতি করতে ভালোবাসে। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে নানাজনের নানা মত রয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী বাকশালীরা শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। তাদের ভাষ্য— শেখ মুজিব তার এক বক্তৃতায় তিন মিলিয়ন অর্থাৎ ৩০ লাখ উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর শেখ মুজিবের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম সরকার এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক জরিপ করে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেছে, এমনটি আমাদের জানা নেই। অনেক গবেষক তাদের মধ্যে অবিভক্ত বাংলার অন্যতম নেতা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাই বিশিষ্ট রাজনীতিক শরৎ চন্দ্র বসুর নাতনী শর্মিলী বসু তার ডেড রেকনিং বইয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করতে সচেষ্ট হন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সব মিলিয়ে লাখ তিনেক মানুষ মারা গেছেন। বেগম খালেদা জিয়াও এক বক্তব্যে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। ‘বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের যে সংখ্যা বলা হয় তা নিয়ে বিতর্ক আছে’ (বিবিসি বাংলা, ২১ ডিসেম্বর ২০১৫)।
প্রসঙ্গক্রমে হাসিনার আমলে গঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে গঠিত ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে খালেদা জিয়ার মনোভাব কী ছিল তা স্পষ্ট বিডি নিউজের এক প্রতিবেদনে। ‘একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে আটক বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মুক্তি চেয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি দাবি করেছেন, যুদ্ধাপরাধী বিচারের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে।’ মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে দলীয় ট্রাইব্যুনাল হিসেবে অভিহিত করে খালেদা বলেন, এখানে ন্যায় বিচার হবে না’ (বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম, ২৭ সেপ্টেম্বর-২০১১)।
শেখ হাসিনা সরকার এ দেশের দেশপ্রেমিক নেতাদের ধরে ধরে ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন। এ কাজে তাকে সার্বিক সহায়তা করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। যারাই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন, দিল্লি তাদের নির্মূলে হাসিনাকে কাজে লাগিয়েছে। হাসিনা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে দিল্লির প্রেসক্রিপশন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। বিনিময়ে ভারত তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখে। প্রকৃত বাস্তবতায়, শেখ হাসিনার সরকার দিল্লির তাঁবেদার ছাড়া কিছু ছিল না। চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবে ক্ষমতার তখতে তাউস উল্টে গেলে পালিয়ে জীবন বাঁচান। ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ঋণ শোধ করে।
ইসলামী রাজনীতির প্রচণ্ড বিরোধী আওয়ামী লীগের সমগোত্রীয় এ দেশের মস্কোপন্থী বাম রাজনৈতিক দল ও কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন। ইসলামপন্থী বিশেষ করে জামায়াতকে নিজেদের জানি দুশমন মনে করে এরা। সেই খাছলত এখনো বিদ্যমান। তাই তারা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ জামায়াত নেতাদের নামে সংসদে শোকপ্রস্তাব গ্রহণে যারপরনাই নাখোশ। তাদের বিবৃতির ভাষা পড়ে গাত্রদাহের মাত্রা সহজে বোঝা যায়।
বামপন্থীদের আচার-আচরণে কারো মনে হতে পারে, এ দেশে তারা খুবই জনপ্রিয়। বাস্তবে দেশীয় রাজনীতির ময়দানে এরা পরগাছা ছাড়া কিছু নয়। অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি ফোটাতে ওস্তাদ। এদের সম্পর্কে কথিত আছে, মস্কোতে বৃষ্টি হলে এরা ঢাকায় ছাতা ধরে। পরগাছা আর কাকে বলে। বামদের জনপ্রিয়তা কেমন বোঝা যায়, নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায়।
এদের কাণ্ডজ্ঞান কেমন, বুঝতে একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। ঘটনাটি শূন্য দশকের শুরুতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলের। ওই সময় ঢাকার নিকটবর্তী এক জেলার জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ডাকে। নানা বিষয়ে সভায় আলোচনা হলেও একটি ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায়। জেলার প্রধান সরকারি বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত জায়গায় নির্মিত শহীদ মিনার স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেয়। এতে জেলা সিপিবি ভীষণভাবে চটে গিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। তো জেলা প্রশাসনের সভায় সিপিবির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জোসে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে বলে বসেন, যদি জেলা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে শহীদ মিনারের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফের উন্মুক্ত না করে দেন, তবে তিনি হাজারো জনতা নিয়ে দেয়াল গুঁড়িয়ে দেবেন। এ বক্তব্য শুনে রসিক জেলা প্রশাসক বলেন, মিছিলে ১০ জন লোক জোগাড় করতে পারবেন তো! এ কথা শুনে সভায় উপস্থিত অন্যরা হো হো করে হেসে ওঠেন। তাতে অবশ্য সভার গুমোট পরিবেশে খোলা হাওয়া বয়ে যায়।
প্রিয় পাঠক, বামপন্থীদের এমন কাণ্ড-কারখানার উদাহরণ ভূরি ভূরি। কেন্দ্রীয় নেতারা যখন এ দেশের ইসলামপন্থীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে কটূক্তি করেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আসলে খালি কলস বাজে বেশি। ফলে অবিচারের শিকার ইসলামপন্থী নেতাদের নামে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হলে বামদের গাত্রদাহ হবে না তো কার হবে। তাদের এমন নিন্দা বিবৃতিতে আমরা মোটেও মাইন্ড করিনি। মন খারাপও হয়নি। এদের বিদ্বেষপূর্ণ বিবৃতিতে আমাদের বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়েছে, জাতীয় সংসদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শতভাগ সঠিক।
এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নামে একটি মসহুর চালু কথা মনে পড়ে গেল। এটি কিংবদন্তি কি না জানা নেই। তবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন, ‘যদি ভিন্ন সম্প্রদায় আমার কোনো কাজে বা কথায় খুশি হয়— তা হলে ধরে নিতে হবে, ওই বক্তব্যে আমার সম্প্রদায়ের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে।’ আমরাও বলতে চাই, বামপন্থীরা বিরোধিতা করে যে বিষয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দেবে, ধরে নিতে হবে, তা দেশের বেশির ভাগ মানুষের পছন্দনীয়। কোনো ইস্যুতে বামপন্থীদের বিরোধিতার অর্থ— বৃহত্তর আঙ্গিকে তাতে কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
বামদের মনস্তত্ত্ব, তাদের চেয়ে দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই। কিন্তু সত্যি হলো তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো এ দেশে ভারতীয় হেজিমনি কায়েম। ধ্যানজ্ঞান। পৌত্তলিক সংস্কৃতি তাদের কাছে খুব প্রিয়। এতে তারা প্রগতিশীলতা খুঁজে পায়। তাদের কাছে ধর্মীয় যেকোনো আচার-অনুষ্ঠান পশ্চাৎপদতার শামিল। মুসলিম জীবনদর্শনের চর্চা মৌলবাদ। যারা তা পালন করেন তাদের কাছে তারা মৌলবাদী। এমন গোড়ামিতে এরা আক্রান্ত। ইসলামের বিরোধিতায় এরা অন্ধ, বধির। ইসলামপন্থী নেতাদের নামে গৃহীত শোকপ্রস্তাবের বিরোধিতা তারা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে আনলেও মূলত ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধিতা এখানে মুখ্য।
বামপন্থীরা এত অন্ধ-বোবা যে, রাজনীতিতে নিজেদের ছাড়া কাউকে শুদ্ধ মনে করে না। অথচ তারা পরখ করে দেখতে চায় না, রাষ্ট্র ও সমাজে তাদের প্রাসঙ্গিকতা কতটুকু। দিন দিন তাদের গ্রহণযোগ্যতা যে তলানিতে গিয়ে ঠেকছে, সেই বোধবুদ্ধি লোপ পেয়েছে। রাজনীতিতে তারা যে ব্রাত্য এটি কানার ভাই অন্ধও বোঝে। এই অন্ধত্বে তারা রাজনৈতিক ইসলামের অন্ধ বিরোধিতায় মত্ত। বামদের এ হীনম্মন্যতায় জাতি নিকট অতীতে যে খেসারত দিয়েছে তা অবর্ণনীয়। পঁচাত্তরে এদের পাল্লায় পড়ে গণতন্ত্র হত্যা করে শেখ মুজিব দেশে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এদের কারণে শেখ হাসিনা অনায়াসে ফ্যাসিবাদী শাসন চালিয়ে যেতে পেরেছে। এরা মূলত বাংলাদেশ রাষ্ট্র-সমাজ-রাজনীতিতে বিষফোঁড়া। এদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে জাতিকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে সর্বনাশ হতে পারে।
সর্বশেষ বাম রাজনীতির মূল্যায়নে অনেকে প্রচলিত একটি লোককথার তুলনা দিয়ে থাকেন। ৪০ মণ দুধ নষ্ট করতে এক ফোঁটা গো-চোনাই যেমন যথেষ্ট, এ দেশের রাজনীতিতে বামপন্থীদের অবস্থানও ঠিক এমনি। অবশ্য ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গো-চোনা মধুসম মনে করেন। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মতো দেশীয় সেক্যুলার বামপন্থীরাও সর্বভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। কে না জানে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির সরল অর্থ প্যাগান কালচার; অর্থাৎ— নিখাদ পৌত্তলিকতা। তাদের যাপিত জীবন ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিপরীত। এদের চিনে রাখা এখনকার রাজনৈতিক কর্তব্য। এ কাজে অবহেলা করলে আখেরে পস্তাতে হবে।
লেখক: সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত



