ছাত্র সংসদ বনাম জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ছাত্র সংসদ নির্বাচন তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোবৃত্তি, সামাজিক প্রভাব এবং নেতৃত্ব তৈরির একটি সূচক হিসেবে কাজ করে। এ কথা সত্যি, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একমাত্র পূর্বাভাস নয়; বরং জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক প্রভাব, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য ধারা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। বাংলাদেশের তরুণ ভোটার এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব বিবেচনা করলে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নির্বাচনে জয়লাভ করা কোনো সংগঠন যদি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান প্রভাব রাখতে সক্ষম।

ড. মো: মিজানুর রহমান
ড. মো: মিজানুর রহমান |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

বাংলাদেশে ছাত্র সংগঠনের ভূমিকা ইতিহাসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ছাত্ররা দেশের রাজনৈতিক চেতনার মূল চালক হিসেবে কাজ করেছে। স্বাধীনতার পরেও ছাত্র রাজনীতি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে ছাত্র সংগঠন শুধু শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নয়; বরং একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে শক্তিশালী প্রভাব রাখতে পারে। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সাধারণ জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে আন্দোলন করে স্বৈরশাসককে উৎখাত করে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এক কথায়, বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের এই নির্বাচন কেবল শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ধারা নির্দেশ করে না; বরং এটি বৃহত্তর জাতীয় রাজনীতিতে তরুণ ভোটার এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়ার একটি পূর্বাভাস দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলের ভূমিধস বিজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা যেমন নিজেরাও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার, তেমনই তারা নিজ নিজ পরিবার, আত্মীয়স্বজন তথা সমাজেরও নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধিও। সুতরাং এই ছাত্রদের মতামত তার সমাজ এবং পরিবারে প্রতিফলিত হওয়া স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ, জামায়াত-সমর্থিত ছাত্রশিবির, জাসাস, বিজেএস– এসব সংগঠন বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং জয়লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এই ছাত্র রাজনীতি দেশের একটি প্রাক-রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। ছাত্ররা এখানে রাজনৈতিক প্রচারণা, কৌশল এবং সাংগঠনিক দক্ষতা শেখে যা তাদের পরবর্তী জীবনে জাতীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা দেয়। এছাড়া তারা পরিবার, সমাজ এবং এলাকার মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক ধারণা ছড়াতে সক্ষম হয়। এই কারণে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান নির্দেশ করে না; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবেশের একটি সূচকও বটে।

বাংলাদেশে অতীত কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল এই সম্পর্কের প্রমাণ দেয়। তাদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা কেবল ভোটার নয়; তারা রাজনৈতিক আন্দোলনে এক শক্তিশালী সামাজিক বাহিনী। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ছাত্র সংগঠন একাধিক নির্বাচনে জয়লাভ করে, তখন পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে সেই দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নির্বাচন এবং জাতীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে মিল এবং পার্থক্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের একটি প্রাথমিক পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত ছাত্র সংগঠন অত্যন্ত দৃঢ় ফলাফলের মধ্য দিয়ে বিজয় লাভ করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, দেশের প্রায় সব বড় ও ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাসেই ছাত্র রাজনীতির শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শিবির-সমর্থিত জোটের বিপুল বিজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের একচেটিয়া বা প্রভাবশালী ছাত্র রাজনীতির বাইরে শিক্ষার্থীরা বিকল্প নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই শীর্ষ পদগুলো ঐক্যবদ্ধ বা বিরোধী প্যানেলের দখলে যাওয়ায় ক্যাম্পাস রাজনীতিতে একটি অভিন্ন জাতীয় প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ ধরনের ফলাফল বহু মানুষকে বিস্মিত করেছে কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সমর্থনের পরিবর্তে মনোভাবগত ও প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির ভালো জায়গা হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেখানে এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কর্মী ও মতাদর্শ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হওয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এই ফলাফল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংগঠন কাঠামো, কর্মীভিত্তি ও প্রচারণা কৌশল জাতীয় নির্বাচনের ভোটারদের মানসিকতা ও রাজনৈতিক বয়ানে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে শক্তির ভারসাম্য পুনর্বিন্যাসের একটি সামাজিক-রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করতে পারে। জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলোর ফলাফলে দেখা গেছে, যুব ভোটের মধ্যে ধর্মীয়মনস্ক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ভোট সম্ভাবনা রয়েছে যা দেশের রাজনীতিতে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তির উল্লেখযোগ্য সমর্থন নির্দেশ করে। এটি জাতীয় ভোটার মনোভাবের একটি আভাস হতে পারে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও ডেটাভিত্তিক বিভিন্ন তুলনা থেকে বোঝা যায়, ধর্মীয় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে একটি ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিতে পারে, যদিও দু’টি নির্বাচনব্যবস্থার ভোটার আচরণ ও প্রেক্ষাপট একেবারেই সমান নয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ভোট সাধারণত ছাত্রদের ব্যক্তিগত ধারণা, ক্যাম্পাস সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়া এবং সংগঠনের সচেতন প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে; কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সিদ্ধান্ত অনেক বেশি রাজনৈতিক ইস্যু, সার্বিক নীতিমালা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বের মতো বহুমাত্রিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ঢেউকে শক্তিশালী করে তোলে। এটি দেখায় যে, যুবসমাজের মধ্যে ধর্মআধারিত রাজনীতি এবং ধর্মীয়মনস্ক আন্দোলনের প্রতি আকর্ষণ গঠিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন একদিকে যেমন ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়, তেমনি তা সামাজিক পরিস্থিতি, ছাত্রসমাজের গতিশীলতা এবং সংগঠনের নেতাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার সাথে জড়িত।

ছাত্র রাজনীতির আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি কেবল শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অনেক দেশে জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করেছে, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। পাকিস্তানে ইসলামী ছাত্র সংগঠন এবং পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব রাখে। যুক্তরাষ্ট্রে যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্র সংসদ-এর সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব সীমিত, তবুও তারা তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং নির্বাচনী সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া, কানাডার মতো দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্র সংগঠন জাতীয় শিক্ষানীতি ও সামাজিক নীতির আলোচনায় সরকারের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে।

ইউরোপের প্রেক্ষাপটেও ছাত্র রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। জার্মানিতে সামাজিক-ডেমোক্র্যাটিক যুব সংগঠন যুবজোস তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব প্রভাবিত করে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয়। ফ্রান্সে জাতীয় ছাত্র সংঘ শিক্ষানীতি, শ্রমনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার নিয়ে সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ইতালিতে কমিউনিস্ট যুব সংগঠন অতীতে নির্বাচনী কৌশল ও তরুণ ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্পেনে ছাত্র সংগঠন জাতীয় রাজনীতিতে আন্দোলন এবং শিক্ষানীতির আলোচনায় সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখে।

এশিয়া ও আফ্রিকা অঞ্চলেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে ছাত্র রাজনীতি। জাপানে জেনগাকুরেনের মতো সংগঠন অতীতে শিক্ষানীতি ও শ্রম আইন সংশোধনে সরাসরি প্রভাব রেখেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্র আন্দোলন আশির দশকে গণতন্ত্র পুনঃস্থাপনের আন্দোলনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় দক্ষিণ আফ্রিকান স্টুডেন্টস কংগ্রেস (SASCO) বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা পরে জাতীয় রাজনীতিতে তরুণদের শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া, ব্রাজিলে জাতীয় ছাত্র সংঘ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় শিক্ষানীতি ও ছাত্র অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয়। নাইজেরিয়ায় জাতীয় ছাত্র সংঘ রাজনৈতিক দাবি ও জাতীয় নীতিতে শিক্ষার্থীদের আওয়াজ তুলে ধরে। এসব উদাহরণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, ছাত্র সংসদ বা শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক শক্তি যত স্বাধীন, সক্রিয় ও সংগঠিত, জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব তত দৃশ্যমান, দীর্ঘমেয়াদি এবং দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাবশালী হয়।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জামায়াত-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের জয় নতুন রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সূচনা করেছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সংগঠনের বৃহত্তর নেটওয়ার্ক।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক মনোবৃত্তি, সামাজিক প্রভাব এবং নেতৃত্ব তৈরির একটি সূচক হিসেবে কাজ করে। এ কথা সত্যি, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একমাত্র পূর্বাভাস নয়; বরং জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক প্রভাব, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য ধারা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। বাংলাদেশের তরুণ ভোটার এবং শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব বিবেচনা করলে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নির্বাচনে জয়লাভ করা কোনো সংগঠন যদি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান প্রভাব রাখতে সক্ষম।

সার সংক্ষেপে বলা যায়, শিক্ষার্থীরা কেবল ভবিষ্যৎ নাগরিক নয়; বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে এবং তা জাতীয় রাজনীতি তথা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট
[email protected]