ইরানকে যুদ্ধে কেন হারানো যাবে না

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাত এখন আর সীমিত সামরিক উত্তেজনার পর্যায়ে নেই। এ সঙ্ঘাত এখন বহুস্তরের সামরিক হামলা, প্রক্সি যুদ্ধ, সাইবার সঙ্ঘাত, জ্বালানি রাজনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক মেরুকরণের সমন্বয়ে এক জটিল ভূরাজনৈতিক সঙ্কটে পরিণত। যুদ্ধের কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এটি কেবল দুই রাষ্ট্রের সংঘর্ষ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের বৃহৎ লড়াই।

সঙ্ঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে তিন প্রধান শক্তি— ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র, প্রক্সি বাহিনী এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোও এতে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে যুদ্ধের গতিপথ বোঝার জন্য সামরিক শক্তি ছাড়াও কৌশলগত লক্ষ্য, আঞ্চলিক জোট এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে যুদ্ধ তিনটি সম্ভাব্য পথে এগোতে পারে— ১. সীমিত আঞ্চলিক যুদ্ধ; ২. পূর্ণাঙ্গ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ৩. কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে অস্থায়ী বিরতি।

সীমিত আঞ্চলিক যুদ্ধের বাস্তবতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট হচ্ছে একটি সীমিত কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধ। এই ধরনের সঙ্ঘাতে বড় শক্তিগুলো সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে প্রক্সি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনে হাউছি, ইরাকে শিয়া মিলিশিয়া এবং সিরিয়ায় ইরানপন্থী বাহিনী— এসব শক্তিকে ব্যবহার করে ইরান সরাসরি সঙ্ঘাত ছাড়াই চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যুদ্ধ একটি সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো ইসরাইলের লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলা। ইসরাইলের কৌশল সাধারণত তিনটি মূল লক্ষ্যে নিবদ্ধ— ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনা। তাদের লক্ষ্য ইরানের শাসন পরিবর্তন। এ লক্ষ্যে দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, আর লক্ষ্য অর্জনে এমন পদক্ষেপ নেয়া, যাতে পুরো অঞ্চল নিয়েই একটি বৃহৎ যুদ্ধ বেধে যায়। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘কন্ট্রোলড এসকেলেশন’ কৌশল।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো সরাসরি ইরানে বড় আকারের সিদ্ধান্তকারী হামলা চালায়নি কিন্তু পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন, আঞ্চলিক ঘাঁটিতে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো এবং মিত্রদের প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতির ওপর প্রভাব রাখছে। এর উদ্দেশ্য হলো সঙ্ঘাতকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা এবং একই সাথে প্রতিপক্ষকে শক্ত বার্তা দেয়া।

পূর্ণাঙ্গ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ঝুঁকি
সঙ্ঘাত এখনো নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকলেও খুব দ্রুত এটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। প্রথম বড় ঝুঁকি হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন এই সমুদ্রপথ দিয়ে যায়। যদি ইরান সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতেই থাকে তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

দ্বিতীয় ঝুঁকি লেবানন ফ্রন্ট। হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-রাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তিগুলোর একটি। তাদের হাতে বিপুলসংখ্যক রকেট, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। যদি হিজবুল্লাহ পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধে নামে, তাহলে ইসরাইলের উত্তর সীমান্ত বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে।

তৃতীয় সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ঘটতে পারে মার্কিন-ইরান সরাসরি সংঘর্ষের মাধ্যমে। যদি আঞ্চলিক কোনো মার্কিন ঘাঁটিতে বড় হামলা হয় অথবা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা পারমাণবিক স্থাপনায় বড় আঘাত করা হয়, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বড় আঙ্গিকে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি রয়েছে।

কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা
তৃতীয় সম্ভাবনা হলো কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সঙ্ঘাতের অস্থায়ী বিরতি। ইতিহাস দেখায়, মধ্যপ্রাচ্যের বহু সঙ্ঘাত সামরিক সমাধানের বদলে কূটনৈতিক আলোচনায় নিষ্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে চীন, কাতার, তুরস্ক ও ওমান ইতোমধ্যে আঞ্চলিক সঙ্কটে মধ্যস্থতার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পর্দার আড়ালে যোগাযোগ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত আছে।

সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়গুলোর মধ্যে থাকতে পারে হামলা সীমিত করা, প্রক্সি আক্রমণ কমানো এবং পারমাণবিক আলোচনায় ফিরে আসা। তবে বর্তমান উত্তেজনার মাত্রা বিবেচনায় অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হবে না।

এই যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য
এই সঙ্ঘাত কেবল সামরিক জয় অর্জনের জন্য নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের কৌশলগত একটি মঞ্চ। অনেক কৌশলবিদ মনে করেন, যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা, নিজের প্রভাব বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন। ইসরাইল চাইছে এমনভাবে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে, যাতে ইরান সরাসরি হুমকি হিসেবে দাঁড়াতে না পারে।

ইরান সরাসরি বড় যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না; বরং তারা অসম যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ইরানের লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাতে জড়িয়ে রাখা, যাতে শক্তির ভারসাম্য তার অনুকূলে থাকে এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব বজায় থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য আরো বিস্তৃত। তারা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়, আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করতে চায় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।

জয়ের সম্ভাবনা কার বেশি
চলমান সঙ্ঘাতে কোন পক্ষ জয়ী হবে— এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। কারণ এটি দুই দেশের প্রচলিত সীমিত যুদ্ধ নয়; বরং এতে জড়িত একাধিক রাষ্ট্র, প্রক্সি শক্তি এবং বৃহৎ ভূরাজনৈতিক স্বার্থ। ফলে সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং কৌশলগত ফলাফল— সব কিছু মিলিয়েই বিজয় নির্ধারিত হতে পারে।

সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে এগিয়ে। উন্নত বিমান শক্তি, স্টিলথ যুদ্ধবিমান, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বড় সুবিধা দেয়। এ কারণে স্বল্পমেয়াদি সরাসরি সঙ্ঘাতে তাদের কৌশলগত সুবিধা বেশি।

তবে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন হতে পারে। ইরান মূলত অসম যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করে— ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রক্সি বাহিনী এবং সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে যুদ্ধ একটি সীমান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে বহু ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা শক্তিশালী সামরিক জোটের জন্যও দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়বহুল ও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।

এ কারণে অনেক সামরিক বিশ্লেষকের মতে, স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে ইরানকে সম্পূর্ণ পরাজিত করা কঠিন। ফলে এই যুদ্ধের সম্ভাব্য ফলাফল হতে পারে সীমিত সামরিক সাফল্য, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বা শেষ পর্যন্ত কৌশলগত সমঝোতা।

বিশ্ব রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
যদি সঙ্ঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা হুমকির কারণে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের উত্থান অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে, বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ আরো জোরদার হতে পারে। চীন ও রাশিয়া ইরানের পাশে অবস্থান নিতে পারে। অন্য দিকে পশ্চিমা জোট ইসরাইলের পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে দুই শক্তি ব্লকে বিভক্ত করা সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তন হতে পারে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল প্রভাবিত হবে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি মন্থর হতে পারে।

অধ্যাপক জিয়াং শুয়েকিন কেন মনে করেন ইরান টিকে থাকতে পারে

চীনা ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক জিয়াং শুয়েকিন মনে করেন, পশ্চিমা শক্তির তুলনায় সামরিক প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলেও ইরান শেষ পর্যন্ত সঙ্ঘাতে টিকে থাকতে পারে। তার বিশ্লেষণের মূল ধারণা হলো, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ‘জয়’ মানে শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ করে টিকে থাকা। এদিক থেকে তিনি মনে করেন, ইরানের কৌশলগত কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যা তাকে বড় শক্তির সাথেও দীর্ঘ সঙ্ঘাতে টিকে থাকার সুযোগ দেয়।

প্রথমত, ইরানের যুদ্ধ কৌশল মূলত অসম যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে। পশ্চিমা শক্তিগুলো যেখানে উন্নত প্রযুক্তি, বিমান শক্তি ও বড় সামরিক অভিযানের ওপর নির্ভর করে, সেখানে ইরানের কৌশল তুলনামূলক কম খরচে বেশি প্রভাব সৃষ্টি। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, প্রক্সি বাহিনী, সাইবার যুদ্ধ এবং সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি— এসবকে তিনি ‘খরচ কম প্রভাব বেশি’ কৌশল বলে উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয়ত, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো। লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক এবং সিরিয়ার ইরানপন্থী বাহিনীগুলো মিলিয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত বলয় তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ বহু ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জিয়াং শুইচিনের মতে, যুদ্ধ যত বেশি ফ্রন্টে বিস্তৃত হয়, প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী পক্ষও তত দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানের ভূগোল। দেশটির বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি, পাহাড়ি অঞ্চল এবং মরুভূমি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধ চালানো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে জাগরোস পাহাড়ি অঞ্চল গেরিলা যুদ্ধের জন্য উপযোগী। ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় শক্তির জন্য দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধ টেকসই নয়।

চতুর্থত, ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আছে। এসব অস্ত্র আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত করতে পারে। এতে যুদ্ধের খরচ দ্রুত বেড়ে যায় এবং প্রতিপক্ষের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়।

আরেকটি বড় কৌশলগত উপাদান হলো হরমুজ প্রণালী। ইরান যদি সেখানে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলতে পারে।

সবশেষে জিয়াং শুইচিন রাজনৈতিক সহনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘ যুদ্ধের রাজনৈতিক চাপ দ্রুত অনুভব করে; কিন্তু আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র অনেক সময় দীর্ঘ সঙ্ঘাত সহ্য করতে পারে। এ কারণেই তিনি মনে করেন, ইরান হয়তো দ্রুত জয়ী হবে না; কিন্তু তাকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করাও অত্যন্ত কঠিন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সঙ্ঘাত এখনো নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। একটি ভুল সিদ্ধান্ত, একটি বড় হামলা বা একটি অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই পুরো অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]