হাজার বছরের বাংলার ইতিহাস যেন মহাত্মাদের কাহিনীতে ঠাসা। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ, যখন ব্রিটিশরা এ দেশে জেঁকে বসেছে; কিন্তু কাগজে-কলমে মুঘল সম্রাট তখনো ভারতবর্ষের শাসক। এ সময় ভারতে হিন্দুসমাজ ব্যাপক কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সমাজে সতীদাহ প্রথা বাধ্যতামূলক, বিধবা বিয়ে নিষিদ্ধ এবং বাল্যবিয়ের ব্যাপক প্রচলনে সমাজ ক্ষতবিক্ষত। এমনই এক সময়ে ১৭৭৭ সালে হুগলির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাঁটি ব্রাহ্মণ পরিবারে রামাকান্ত রায়ের ঘরে জন্ম এক শিশুর। স্রষ্টা যেন তাকে নিজ হাতে মেধা ঢেলে দিয়েছেন। যে বয়সে বাঙালি শিশুরা স্কুলে যাওয়া শুরু করত সে বয়সেই তিনি কিনা বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় রীতিমতো পণ্ডিত। বলছিলাম রাজা রামমোহন রায়ের কথা। ১১ বছর বয়সে তিনি পাটনায় যান আরবি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য। সেখানে ফার্সি ও আরবি শিক্ষার জন্য তিনি মাদরাসায় ভর্তি হন। ফেরার পর তার পিতা তাকে সংস্কৃতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বেনারস পাঠিয়ে দেন। রামমোহন রায় এ ফাঁকে গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষাও শিখে ফেলেন। বাংলা ও সংস্কৃতে তিনি এতই পাণ্ডিত্য লাভ করেন যে, বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ বইটিও তারই হাতে রচিত। রাজা রামমোহন রায় কোনো রাজ্যের রাজা না হলেও পাণ্ডিত্যে ছিলেন রাজা। ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি দিয়ে জীবন শুরু করলেও এ কাজ তার ভালো লাগেনি। তিনি দিল্লির মুঘল সম্রাট আকবর-২ এর দরবারে ডাক পেয়ে ব্রিটিশ রাজদরবারে মুঘল সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন। তার জ্ঞানের কারণেই মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর তাকে ‘রাজা’ উপাধি দেন এবং রাজ-পাগড়ি পরিয়ে দেন যা সর্বদাই তার মাথায় শোভা পেত।
তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক যুগস্রষ্টা সমাজসংস্কারক। খুব ছোট বেলায় তিনি নিজের অল্পবয়সী বিধবা বৌদিকে সতীদাহ প্রথা অনুযায়ী দাদার মরদেহের সাথে একই চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মর্মন্তুদ ঘটনা দেখেন। পরে তিনি সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের কারণে শেষ পর্যন্ত ‘সতীদাহ প্রথা’ নিষিদ্ধ হয়। একইভাবে সেকালে সমাজে শিশু এবং বাল্যবিয়ের একটি সাধারণ প্রচলন ছিল। ৮, ৯, ১০ বছর বয়স হলেই মেয়ের বিয়ে দেয়া হতো। রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে নিষিদ্ধ করে।
রামমোহন রায় সমাজসংস্কারের পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কারও করেন। তিনি ‘এক স্রষ্টার’ পক্ষে দৃঢ় যুক্তি তুলে ধরে ‘ব্রাহ্মধর্ম’ প্রবর্তন করেন। মৃতদেহ দাহ করার পরিবর্তে সমাধিস্থ করার প্রচলন করেন। কবি রবীন্দ্রনাথসহ অনেকেই এ নতুন ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করেন। এত সব সংস্কার প্রথা প্রবর্তন করে তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতবর্ষের প্রচলিত জীবনযাত্রার চেহারা পাল্টে দেন। তাই তাকে বলা হয় ‘ভারতীয় রেনেসাঁর জনক’।
রাজা রামমোহন রায় সমাজজীবন ও ধর্মীয় জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন মনখোলা এক মহাপ্রাণ।
৬১ বছরের এক ছোট্ট জীবনে রাজা রামমোহন কত কাজ যে করেছিলেন তার ইয়ত্তা নেই। শিক্ষা-সংস্কৃতি-সাহিত্যের পরিসরে রচনা করেছেন অনেক গ্রন্থ যেমন- বেদান্ত গ্রন্থ, চৎধপঃরপব ড়ভ ইঁৎহরহম ডরফড়ংি অষরাব (জীবন্ত বিধবাদের অগ্নিকুণ্ডে পুড়িয়ে মারার প্রথা), চৎবপবঢ়ঃং ড়ভ ঔবংঁং, টহরাবৎংধষ জবষরমরড়হ, ঐরংঃড়ৎু ড়ভ ওহফরধহ চযরষড়ংড়ঢ়যু এবং বাংলার ইতিহাসে প্রথম ব্যাকরণের বই ‘গদ্য ব্যাকরণ’। এ ছাড়া সম্পাদনা করেন সংবাদপত্র ‘সিরাত-উল-আকবর’ এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সংবাদ কুমুদি’।
১৮৩৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন সফরে গিয়ে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিস্টলে মারা যান এ মহাপ্রাণ বাঙালি। সেখানেই তার স্মৃতিসৌধ। ব্রিস্টলে বিশাল ভাস্কর্য এবং স্কয়ারের নামকরণ করে তার প্রতি যথার্থ সম্মান দেখানো হয়েছে।
আরেক কিংবদন্তি নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় উজ্জ্বলতম নাম শেরবাংলা এ কে ফজলুল হক। ‘হক সাহেব’ নামটি এককালে বাংলার ঘরে ঘরে যত প্রিয় ছিল, তেমনটি আর কখনো কেউ ছিলেন না বা হবেন না। ব্রিটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কবলে পড়ে বাংলার কৃষক সমাজের যে জমিজমা-ভিটেমাটি জমিদারদের ঋণ শোধের নামে প্রায় চলে যাচ্ছিল, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের এক ‘প্রজাসত্ব’ আইনের মাধ্যমেই তা সম্পূর্ণরূপে ঋণমুক্ত হয়ে গেল। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কৃষকদের তিনি সরকারি খাজনা থেকেও দায়মুক্তি দিয়ে দিলেন। এমন জনদরদি নেতা আর ক’জন দেখানো যাবে। হ্যাঁ, এটি ১৯৪০ সালের ব্রিটিশ শাসনামলের কথা। এমন একটি প্রতিকূল সময়ে এ দেশের হাজার হাজার কৃষকের তথা জনগণের যে জমি ছিনতাই হয়ে জমিদারের হাতে চলে গিয়েছিল, সেটি তিনি খুব মসৃণভাবে আইনসঙ্গত পথে আবার জমির মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিলেন। শুধু তাই নয়, ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত জমিদারি প্রথাটিও তিনি আইন করে উঠিয়ে দেন। শেরেবাংলার মতো সিংহহৃদয়ই কেবল পারেন ক্ষমতায় এসে জনগণের কল্যাণেই এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থেই সব পদক্ষেপ নিতে।
নবাব সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীসহ তিনিই ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করেন। আবার এক সময় একমাত্র তিনিই একাধারে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভাপতি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ভারতের এ দুটো প্রধান দলের দুটো শীর্ষ পদেই একত্রে বহাল ছিলেন। এটি একমাত্র শেরেবাংলাই পেরেছেন। সে সময় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন জওয়াহেরলাল নেহরু। আবার ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আর তার মন্ত্রিসভায় কাজ করেছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, নবাব হাবিবুল্লাহ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির মতো বাঘা বাঘা সব নেতা।
এমন সব ব্যতিক্রমী মহৎ কাজ করার জন্যই তো তাকে উপাধি দেয়া হয় ‘শেরেবাংলা’-সত্যিই তিনি ‘বাংলার বাঘ’। ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে তিনিই ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ পেশ করেন এবং তা পাস হয়। পরে জিন্নাহর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি মুসলিম লীগ থেকে পদত্যাগ করে নিজস্ব দল ‘কৃষক-প্রজা পার্টি’ গঠন করেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দলসহ তারই নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করেন।
৯০ বছর বয়সে ৬৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বাকেরগঞ্জের চাখার ও ঢাকার কেএম দাস লেনের পৈতৃক বাড়ি আর গ্রামের জমিদারির সম্পত্তি ছাড়া শেরেবাংলার নিজের কোনো সম্পদ ছিল না। তিনি শুধু এ জাতিকে, প্রতিষ্ঠানকে ও ব্যক্তিকে দিয়েই গেছেন। সব কিছু ছাপিয়ে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ও নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীসহ একত্রে মিলে ১৯২১ সালে নবাব সলিমুল্লাহ প্রদত্ত ৬০০ একরের বিশাল সম্পত্তির ওপর পূর্ববঙ্গের মুসলিম শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ সূতিকাগার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা তার এক অমর কীর্তি।
অন্য আরেক ধরনের বিকল্পহীনও আছেন এ বাংলায়। অনেকেই সেই ষাটের দশকে পত্রিকায় এ ছবিটি হয়তো দেখেছেন যে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঘরের উঠুনে বসে উন্মুক্ত চুলায় রান্না করছেন তার স্বভাবসুলভ লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরে টুপি মাথায় দিয়ে। হ্যাঁ, তার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তিনি নিজে রান্না করেছিলেন, স্ত্রীকে খাইয়েছিলেন। আমরা তো মাঠে-ময়দানে, রাস্তাঘাটে বা পত্রিকার ছবিতে তাকে দেখে দেখে অভ্যস্ত ছিলাম। এমন রাজনীতিবিদ যিনি সারা পাকিস্তান ছুটে বেড়াচ্ছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইসেন হাওয়ার, জন এফ কেনেডি থেকে চীনের মুকুটহীন সম্রাট মাওসেতুং, কেউ বাদ নেই। সবার সাথে একই লুঙ্গি-পাঞ্জাবি-স্যান্ডেল পরে মাথায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বুনন করা টুপি মাথায় দিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন, কথা বলছেন এবং টাইম-হ্যারাল্ড ট্রিবিউনের মতো পত্রিকার খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। অবাক এক কিংবদন্তি পুরুষ। আমরা ভাবতাম তিনি এসব কেতাদুরস্ত নেতাদের সাথে কিভাবে কথা বলেন? উনি তো ইংরেজিই জানেন না, কারণ তিনি জীবনে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি, শুধু ছোট বেলায় মক্তব-পাঠশালায় কিছু সনাতনী পাঠ ছাড়া। অথচ তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো জাঁদরেল ব্যারিস্টার ছিলেন তার কমিটির একজন সদস্য। শেখ মুজিবুর রহমান জয়েন্ট সেক্রেটারি, তার কথায় উঠেন-বসেন। পরে অবশ্য তাদেরকে ছেড়ে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে ন্যাপ প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তিনি রাজনীতি করেননি, করেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। পাকিস্তানের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের শাসক প্রবল প্রতাপশালী ফিল্ডমার্শাল আইয়ুব খান তার মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার জন্য একবার মওলানা ভাসানীকে অনেক অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বিনয়ের সাথে এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, মন্ত্রিত্ব আমার প্রয়োজন নেই। আপনি বলেন কী কাজ, করে দেবো আমি। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ততোধিক বিনয়ের সাথে তাকে বললেন, ‘আপনার তো চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাওসেতুংয়ের সাথে ভালো যোগাযোগ। চীনের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কটি গড়ে দিন না।’ যেই কথা সেই কাজ। তিনি চীনে গিয়ে ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই যে ১৯৬৪ সালে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌএনলাইয়ের পাকিস্তান সফরের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সাথে চীনের প্রগাঢ় সম্পর্ক স্থাপিত হলো, আজো চীন পাকিস্তানের বিশ্বস্ত বন্ধু।
মওলানা ভাসানী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজনীতির মাঠে থেকেছেন। মিছিল-লংমার্চ-জনসভা করে প্রতিবাদ জারি রেখেছেন।
মওলানা সাহেব লেখাপড়া জানেন না- এটিই বা কিভাবে বলি? তিনি জনপ্রিয় বাংলা পত্রিকা ‘হক কথা’ এবং ইংরেজি পত্রিকা ‘ঞযব ঐড়ষরফধু’ প্রতিষ্ঠা করে এগুলোর সম্পাদকও ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রাচীন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন মওলানা ভাসানী। মওলানা সাহেবের আরেক মহান কীর্তি টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর জীবনাচার সবসময়ই ছিল অতি সাধারণ। মিটিং-মিছিল করার জন্য তাকে সারা দেশ ঘুরে বেড়াতে হতো। এ সময় তিনি পরনের বস্ত্র ছাড়া অতিরিক্ত একটি লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, টুপি, গামছা ও পান-সুপারি-সাদাপাতা সাথে নিতেন পুরনো একটি স্যুটকেসে ভরে। একপর্যায়ে স্যুটকেসটির তালা নষ্ট হয়ে গেলে তিনি দড়ি দিয়ে স্যুটকেসটি বেঁধে নিতেন। বিদেশে যাওয়ার সময়ও প্লেনে এভাবে দড়ি দিয়ে বাঁধা স্যুটকেসটি নিয়েই চলাফেরা করতেন। তার মৃত্যুর পর তার এহেন সাদাসিধে জীবনযাপন পদ্ধতি এবং জনদরদি নীতিগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ ও প্রয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এমন সব নেতাদের আমরা কি আমাদের জাতীয় জীবনে আর দেখব?
লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড



