নির্বাচনে ভুয়া ও অপতথ্য সম্পর্কে সতর্কতা

একজন নাগরিক হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে সবার ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।

নির্বাচন সামনে রেখে অনেক ভুয়া বা ‘ডিপফেক’ তথ্য, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে মানুষের মনে সন্দেহ, সংশয় ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুজব ছড়ানোয় বরাবরের মতো এগিয়ে আছে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অ্যাক্টিভিস্টরা। দলটির বিভিন্ন পর্যায় থেকে নির্বাচন বর্জন ও ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই কাজগুলো করছে দুই শ্রেণীর লোকেরা। একটা শ্রেণী রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী আদর্শের। অন্য শ্রেণী ভাড়ায় কাজ করে। কন্টেন্টের ভিউ বাড়িয়ে আয় করার মাধ্যম হিসেবেও গুজবকে বেছে নিয়েছে আরো একটা শ্রেণী। এরা অপতথ্য আপলোড করছেন। এদের কয়েকটি কৌশলের একটি হলো- রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের অংশবিশেষ কেটে ছড়িয়ে দেয়া। এই আংশিক কথা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তৈরি করছে বিতর্ক। এতে বাড়ছে তাদের ভিউ। একজনের নামে মনগড়া বক্তব্য বা উদ্বৃতিও চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। সত্য-মিথ্যা ও তথ্যের উৎস যাচাই না করেই অনেকে সেগুলো বিশ্বাস করছেন। কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমকেও দেখা যাচ্ছে যাচাই-বাছাই ছাড়া এগুলো প্রকাশ করে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবকে ভিত্তি ধরে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। ফেসবুকে ভুয়া ফটোকার্ডের সূত্র ধরে টকশোতে রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কথা বলছেন। পরে এসব ঘটনা ভুল বা মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ হচ্ছে।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়ানো অনেকটা উন্মুক্ত-রহস্যের মতো। নির্বাচন সামনে রেখে অন্যান্য দেশেও এভাবে গুজব ছড়ানোর কিছু উদাহরণ আছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জাম্বিয়া, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের নির্বাচনেও ভুয়া ও অপতথ্যের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-এই তিন মাসে বাংলাদেশে এক হাজার ৪৪১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে ৯৫৬টি অপতথ্যই ছিল রাজনৈতিক। আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া, অপতথ্য ও গুজবের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা অনেক। আক্ষরিকভাবে বললে বলা যায়, এসব গুজব একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। এগুলোর পেছনে কারা কাজ করছে, তাদেরকে খুঁজে বের করা কঠিন। সাময়িকভাবে হয়তো সামাজিক প্লাটফর্ম কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করা যায়। এতে তারা কন্টেন্ট সরিয়ে নেয় বা পেজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু পরে আবার নতুন পেজ খুলে আগের মতোই কাজ শুরু করে দেয় গুজববাজরা। এ কারণে অপতথ্য রুখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া জরুরি।

গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, এ কারণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো তথ্য যাচাই না করে অবলীলায় বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। পোস্ট, ছবি কিংবা ভিডিওতে লাইক-কমেন্ট বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্যে অসহিষ্ণু বা বিচলিত না হয়ে ধৈর্যের সাথে সেটার সত্যতা অনুসন্ধান করুন।

একজন নাগরিক হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে সবার ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।

লেখক : তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পিআইডি ফিচার