বিহারের মানের। জ্ঞানের এক পুরনো কেন্দ্র। নদী, পাহাড় ও ঘন অরণ্যে ঘেরা সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর জনপদ। এখানে শোন নদী গঙ্গায় মিশেছে। ছত্তিশগড়ের অমরকণ্টক পাহাড় থেকে জন্ম নিয়ে ৪৮৭ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে নদীটি মানেরে এসে নিজের গন্তব্য খুঁজে নিয়েছে।
শহরের চার পাশে সবুজের হাসি, নদীর মমতা এবং উঁচু ভূমির সৌন্দর্য, যা তাকে আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য আরো বেশি উপযুক্ত করেছে। বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে দূরত্ব মাত্র ২৮ কিলোমিটার। মানের তাই সবসময় ছিল যোগাযোগের কেন্দ্র। ভৌগোলিক মিলনস্থল হিসেবে সে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বহুমুখী জ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবেও। হাজার বছর ধরে সে জ্ঞানপ্রার্থীদের ডেকেছে নিজের মোহনায়। এখানে জ্ঞানের জন্য আসেন প্রাচীন উপমহাদেশের মহাপণ্ডিত পাণীনিও।
মুসলিমদের হাতে মানের হয়েছে মানের শরিফ। এই মানেরেই শুরু হয় বিহারের ইতিহাসে মুসলিমদের প্রথম বসবাস। এই বসবাস স্থায়ী হয় হজরত শাইখ তাজ ফকিহ রহ:-এর মাধ্যমে। তিনি এখানে মুসলিম বিজয় প্রতিষ্ঠা করেন।
তাজ ফকিহের পরিচয় : তাজ ফকিহ ছিলেন ফিকাহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ, তাজুল ফুকাহা বা ফকিহদের শিরোমণি। আনুমানিক ৫২৬ হিজরিতে তার জন্ম। পিতার নাম ফকিহ আবু বকর রহ:। দাদা আবু মুহাম্মদ রহ:, যিনি আবুল ফাতিহ নামে বিখ্যাত ছিলেন। এই পরিবারের বসবাস ছিল ফিলিস্তিনের হেবরনের খলিলুর রহমান এলাকায়।
নসবনামা : তিনি ছিলেন এক মহিমান্বিত বংশের উত্তরাধিকারী। তার বংশলতিকা এগারো সিঁড়ি অতিক্রম করে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা: অবধি উপনীত হয়। তার মানে ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ: ছিলেন যুবাইরি হাশেমি অর্থাৎ তিনি সাহাবি হজরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা:-এর বংশধর এবং সেই সূত্রে কুরাইশের বনু হাশিম গোত্রের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তাজ ফকিহ রহ:-এর বংশের প্রত্যেকেই নিজ যুগে ইমাম, ফকিহ ও আলিম হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। অর্থাৎ এই পরিবারের ধর্মীয় জ্ঞান ও ফিকহি কর্তৃত্ব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা ছিল প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত সুসংহত বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য।
শিক্ষা-দীক্ষা : তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন পিতা আবু বকর রহ:-এর কাছে, যিনি ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের অন্যতম আলেম ও ফকিহ। মাধ্যমিক শিক্ষাও সম্পন্ন করেন পিতার তত্ত্বাবধানে। উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ, মদিনা মুনাওয়ারা, মক্কা মুকাররামাসহ দুনিয়ার প্রধান ইলমি কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করেন। আদ দুররুল মানসুর গ্রন্থে আবদুর রহিম হাশেমি দাবি করেন, ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ: ও ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি রহ: একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, একই শিক্ষকের অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করেন; অর্থাৎ তারা ছিলেন সহপাঠী।
মাওলানা কাবির দানাপুরী তার বিখ্যাত তাযকিরাতুল কিরাম গ্রন্থে একই মত দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম গাজালি রহ: ও তাজ ফকিহ রহ:-এর সময়কালের দিকে নজর দিলে এর যথার্থতা মেলে না। ইমাম গাজালির জন্ম ৪৫০ হিজরিতে, তার ওফাত হয় হিজরি ৫০৫ সালে। এ দিকে ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ মানের বিজয় করেন ৫৭৬ হিজরিতে; যা ইমাম গাজালির মৃত্যুর ৭০ বছর পরের ঘটনা। ফলে স্পষ্টভাবে বলা যায়, ইমাম গাজালি ও ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ কখনো সহপাঠী ছিলেন না।
মাওলানা মুহাম্মদ কাবির দানাপুরী তার তাযকিরাতুল কিরাম গ্রন্থে দেখান যে, ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহর রহ: শিক্ষাগুরু ছিলেন শায়খ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দি। কিন্তু ঐতিহাসিক সূত্র ও কালপঞ্জি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উভয় ধারণা সঠিক নয়। ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ: বিহারের মানেরে বিজয়ী হন ৫৭৬ হিজরিতে। এই সময় তার বয়স সম্ভবত ৫০ বছরের বেশি। অন্যদিকে শায়খ আবু হাফস শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দির জন্ম ৫৩৯ হিজরি এবং ওফাত ৬৩২ হিজরিতে।
ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহের বয়স এবং শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দির বয়সের পার্থক্য বিবেচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, তাদের মধ্যে কখনো শিক্ষক-শিষ্য সম্পর্ক সম্ভব নয়। তবে আরো বিভিন্ন সূত্রে তাজ ফকিহ রহ:-এর উস্তাদ হিসেবে শায়খে সোহরাওয়ার্দির উল্লেখ রয়েছে। তাহলে কে সেই সোহরাওয়ার্দি?
মৌলিক ও বিশ্লেষণাত্মক সূত্র অনুযায়ী, ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহের প্রকৃত শিক্ষক শায়খ আবু নজিব আবদুল কাহির সোহরাওয়ার্দি হতে পারেন। শায়খ আবু নজিবের জন্ম ৪৯০ হিজরিতে, আর ওফাত হয় হিজরি ৫৬৩ সনে। সময়সূচকের বিচারে এটি যৌক্তিক। কারণ আবু নজিব সোহরাওয়ার্দি রহ: যথাযথ বয়সে এবং ইমাম মুহাম্মদ তাজের দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের সময় সক্রিয় ছিলেন।
ইতিহাসে কখনো কখনো শাহাবুদ্দীন ও আবদুল কাহির সোহরাওয়ার্দিকে একই নামে ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়; যা সম্ভবত কাবির দানাপুরীর সূত্রে ঘটেছে।
ভারতে আগমন : মুর্শিদের ইশারায় তাজ ফকিহ রহ: ভারতের আসেন। লক্ষ্য ইসলাম প্রচার। ভারতে তখন ইসলামের বিস্তৃতি হয়েছে কম। মুসলিম রাষ্ট্রের সীমানা তখন কেবল আউধ অবধি প্রসারিত।
তাজ ফকিহ আরো দূরবর্তী এলাকার দিকে মনোযোগী হলেন এবং বিহারে উপনীত হলেন। বলতে গেলে মুসলিমশূন্য গোটা অঞ্চল। কোথাও নেই ঈমানের কোনো চিহ্ন। তিনি হয়তো ভেবে থাকবেন, জ্ঞানের কোনো কেন্দ্রে যাওয়া উচিত। যেখানে সত্যগ্রহণের মানসিকতা থাকবে কিছু লোকের। ফলে তিনি মানেরে উপনীত হন। সাদিকপুরীর মতে, বিহার ও মানেরে এই উপস্থিতি ছিল আকস্মিক।
তিনি যখন মানেরে এলেন, তখনকার রাজা ছিল ভীষণ সাম্প্রদায়িক। বিহারজুড়ে ছিল তার কর্তৃত্ব। শহরের বাইরে পাওয়া গেল কেবল এক গরিব মুসলমানের ঘর। গরিব মানুষটি তাজ ফকিহের মেহমানদারি করলেন। যখন নামাজের সময় হলো, ফকিহ চাইলেন আজান দেবেন এবং নামাজ পড়বেন। কিন্তু মেজবান নিষেধ করে বললেন, যেইমাত্র আজান দেবেন, রাজার লোকেরা এসে আমাদের সবাইকে কতল করবে। আমরা আজান দিতে পারি না। গোপনে নামাজ পড়ি। ফকিহ থামলেন। খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হলেন। সেখান থেকে যাত্রা করলেন মদিনা মুনাওয়ারার দিকে। কিন্তু তার লক্ষ্য স্থির হয়ে গেল। যদি সুযোগ মেলে, গরিবের আতঙ্ক এবং আজান ও নামাজ থামিয়ে দেয়া এই রাজাকে তিনি শায়েস্তা করবেন।
মানেরের এক মুসলিম পরিবারের প্রধান ছিলেন মুমিন আরিফ। তার বিরুদ্ধে রাজা ছিলেন ভীষণ নির্মম। নানা রকমের অত্যাচারে তার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলেন রাজা। কোনোভাবেই এখানে বসবাস সম্ভব না হওয়ায় মুমিন আরিফ হিজরত করেন মদিনা শরিফে। সেখানে তার মুলাকাত হয় হজরত ইমাম তাজ ফকিহ রহ:-এর সাথে। মুমিন আরিফ তার কাছে মানেরের রাজার নিপীড়নের বিবরণ শোনালেন। তিনি জুলুমের প্রতিকারে আরো বেশি ফিকির করতে লাগলেন।
নবীজির নির্দেশ ও অভিযান : মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদে নববীতে তিনি একাধিকবার স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সা:-এর দর্শন লাভ করেন। প্রথমবার স্বপ্নে উদ্ভাসিত হলেন নূরে নবী সা:। তিনি নির্দেশ দিলেন, ‘যাও, সেই জালেমের মোকাবেলা করো, আল্লাহ তোমাকে সফল করবেন।’
ইমাম মুহাম্মদ তাজ রহ: বুঝতে পারলেন, এবার অভিযানের সময় এসেছে। কিন্তু ভাবছিলেন, একা কিভাবে যুদ্ধ করবেন।
কিছু দিন গেল। আবারো দিদারের সৌভাগ্য হলো। পরপর তিনবার স্বপ্নযোগে রাসূলের সা: একই নির্দেশ পেয়ে তাজ ফকিহ মনস্থির করলেন, অভিযান শুরু করবেন। তার মনে দৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহ নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেবেন। হুজুরে পাক সা: তৃতীয়বার স্বপ্নে হাজির হয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বললেন। তাদের সাথে মোলাকাতের হুকুম দিলেন। যারা এই বিজয়ে সহায়তা করবেন। ইমাম মুহাম্মদ তাজ রহ: নামগুলো মনে রাখলেন। কিছু মানুষ তখন মদিনা মুনাওয়ারায় ছিলেন। কিছু অন্য দেশের বাসিন্দা।
ইমাম মুহাম্মদ তাজ রহ: এবার পূর্ণ প্রস্তুত। স্বপ্নে উচ্চারিত যেসব মানুষ মদিনার বাসিন্দা, তিনি তাদের কাছে গেলেন। বিবরণ জানালেন। তারা প্রস্তুত হলেন। শায়খ মদিনা থেকে পরিবারসহ যাত্রা শুরু করলেন। প্রাথমিক সঙ্গী ছিলেন ৩০-৩৫ জন। কাফেলা নিয়ে বলখ বুখারা, কাবুলের মধ্য দিয়ে গজনিতে আসেন। মধ্যবর্তী এলাকায় যাদের নাম স্বপ্নে লাভ করেছেন, সবার সাথে মুলাকাত করলেন। কাফেলায় তারা যোগ দিলেন।
গজনী থেকে মানের : গজনি ভারতকে জানে। বিহারের মানের অঞ্চলেও অভিযান পরিচালিত হয়েছে এখান থেকে। তারিখ-ই-সালার মাসউদ গাজী এ বিষয়ক প্রামাণ্য গ্রন্থ। গ্রন্থটি দেখাচ্ছে, মাহমুদ গজনভীর ওফাতের প্রায় দুই বছর পূর্বে তার ভাগ্নে সালার মাসউদ গাজীর নেতৃত্বে একটি গজনভী বাহিনী ভারতবর্ষে আগমন করে।
সালার মাসউদ গাজী সতরিখ (Satrikh) অঞ্চলে অবস্থান করেন। তিনি পূর্ব ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হন। এই অভিযানের সময় বহু রাজা একত্র হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন রাজা পূর্ব থেকেই মাহমুদ গজনভীর মিত্রতা কবুল করেছিলেন। আবার কোনো কোনো রাজা ভেবেছিলেন, গজনি থেকে বিশাল এক সহায়ক বাহিনী শিগগিরই মাসউদের সাহায্যে এসে পৌঁছাবে। এ পরিস্থিতিতে সালার মাসউদ গাজী অধিকাংশ রাজাকে পরাজিত করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও শহীদ হন এবং বাহরাইচে সমাহিত হন। তার শাহাদতের পর প্রায় ১৬০ বছর পেরিয়ে যায়। গজনভী সুলতানদের কোনো সামরিক অভিযান এই অঞ্চলে আর হয়নি।
যেসব স্থানে সালার মাসউদ গাজীর সেনারা শহীদ এবং সমাহিত হন, সেসব অঞ্চল সাধারণত ‘গঞ্জ-ই-শহীদাঁ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কড়হা মানিকপুর, গাজীপুর, সিওয়ান (বর্তমান সারন জেলা) এবং বিশেষভাবে মানের।
তাজ ফকিহ রহ: যখন এ অঞ্চলে অভিযানের প্রচার চালালেন, গজনি ইত্যাদির বহু মুজাহিদ এতে শরিক হলেন। চূড়ান্তভাবে তার সৈন্যসংখ্যা পৌঁছাল ৩৫০ জনে। মানেরের প্রাচীন ঐতিহাসিক কিছু দলিল দাবি করে, তাজ ফকিহ রহ:-এর অভিযানে কুতুব সালার শরিক ছিলেন। সম্ভবত তিনি অন্য কোনো গজনি-সালার ছিলেন। মখদুম-জাদাদের সংরক্ষিত ‘সাফিনা’ (পারিবারিক ঐতিহাসিক দলিল) থেকে জানা যায় যে, ১১৭৮ সালে হজরত তাজ ফকিহ ও কুতুব সালার রাজা মুনিরকে পরাজিত করে মুনির অধিকার করেন।
কুতুব সালারের মাজার মুনির থেকে প্রায় দুই মাইল পূর্বে, মহদওয়াঁ নামক গ্রামে-একটি মসজিদের পশ্চাতে খোলা মাঠে অবস্থিত। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২৫ জন মুসলমানের নামও ওই সাফিনাগুলোতে সংরক্ষিত আছে, যা এ ঘটনাকে নিছক কিংবদন্তি নয়, বরং ঐতিহাসিক বাস্তবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
মানের বিজয় : ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ: ভারতে প্রবেশ করলেন। তখন ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো হিন্দু ও বৌদ্ধশাসিত। বিহার, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বাংলার কোনো অঞ্চলই ইসলামী শাসনের আওতায় ছিল না। অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় রাজাদের বিভিন্ন রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল। মুসলিম জনগণ ছিলেন বটে। সংখ্যায় খুব সামান্য। ভীত ও নিপীড়িত। তারা বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করতেন।
ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ: মানবিক ও ধর্মীয় মিশন নিয়ে বিহারে পৌঁছালেন। স্থানীয়রা তাকে কোনো হুমকি মনে করেনি। তাদের অনেকেই সহায়তা করেছে। মানেরের দুর্গের পাশে অবস্থান করলেন তারা। রাজা এই বাহিনীকে পাত্তাই দিলেন না। নিজের কেল্লার চূড়ায় দাঁড়িয়ে তাজ ফকিহের সৈন্যদের গণনা করে মজা করলেন। ভাবলেন, বেকুবেরা কেবল মরার জন্য দুঃসাহস করেছে। তাদের সংখ্যা এত অল্প যে, মানেরের একটি ইউনিটের সাথেও পেরে উঠবে না। বলার মতো কোনো অস্ত্রশস্ত্রও তাদের নেই। তিনি বিশেষ কোনো প্রস্তুতির দরকারই মনে করলেন না। কোনো ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই দুর্গ থেকে বেরিয়ে এলেন। ঘোরতর যুদ্ধ হলো। আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করল। মানেরের রাজা মুখোমুখি যুদ্ধ করেন ইমাম মুহাম্মদ তাজ রহ:-এর সাথে। তার হাতেই ঘটে রাজার মরণ। শায়খ তার সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুতই শিবিরে প্রবেশ করেন। আশপাশের এলাকাগুলোও অধিকার করেন। পুরো মানের অঞ্চল আসে ইসলামী শাসনের অধীনে।
ইতিহাসবিদ মুরাদুল্লাহ মানেরীর গবেষণা স্পষ্ট করে যে, ২৭ রজব, শুক্রবার ৫৭৬ হিজরিতে বিহারের মানেরে মুসলিমদের বিজয় নিশ্চিত হয়।
মানেরের ভৌগোলিক সৌন্দর্য, প্রাচীন জ্ঞান ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রীয়তার সাথে হজরত ইমাম মুহাম্মদ তাজ ফকিহ রহ:-এর জীবন ও সংগ্রাম এক গভীর ঐতিহাসিক সেতুবন্ধন রচনা করেছে। জুলুমের বিরুদ্ধে ঈমানি দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা ও আত্মত্যাগের সমন্বয় ছিল তার মধ্যে। এই ধারায় মানের হয়ে ওঠে বিহারে ইসলামের প্রথম সুসংহত আশ্রয় ও দাওয়াতের কেন্দ্র। বহু শতাব্দী ধরে মানের তার কেন্দ্রীয় ভূমিকা উদযাপন করেছে, যেখানে ঈমান, প্রতিরোধ, ইনসাফের লড়াই আর রুহানিয়াত একত্র হয়ে ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক বুনিয়াদ তৈরি করেছে।
লেখক : কবি, গবেষক



