প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাধীন ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘরে ‘মাইগভ ই-টিকিটিং’ সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।
এটুআইয়ের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই সেবার ফলে দর্শনার্থীদের এখন থেকে টিকিট কাটতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
মঙ্গলবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ মোবাইল ফোনে অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রত্নস্থলে প্রবেশ করে সেবাটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই উদ্যোগ নাগরিকবান্ধব ডিজিটাল সেবাকে আরো এগিয়ে নেবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে। ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের পথে এটি একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ প্রত্নস্থলে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনায় একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করাও আমাদের অগ্রাধিকার।
এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহা: আব্দুর রফিক জানান, সরকারি সেবা ডিজিটাল করার মূল লক্ষ্য নাগরিকের সময় ও দুর্ভোগ কমানো এবং সেবাকে আরো স্বচ্ছ করা।
অনুষ্ঠানে এটুআইয়ের হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, এটি কেবল টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৩০ জুন লালবাগ দুর্গে এই ই-টিকিটিং চালু করা হয়েছিল। গত ছয় মাসে সেখানে প্রায় ৩ লাখ দর্শনার্থী এই সেবা নিয়েছেন, যার মাধ্যমে সরকার প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা রাজস্ব অর্জন করে। পর্যায়ক্রমে আরো ২৮টি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে এই ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে এটুআইয়ের সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহিদ পাভেল, চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মাসুদুর রহমান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



