- তামান্না আক্তার
ইতিহাস, প্রকৃতি, নীল সমুদ্র আর সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তুরস্কের এজিয়ান উপকূলীয় অঞ্চল ‘টার্কএজিয়ান’ (Turkaegean) আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির পশ্চিম উপকূলজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলকে ‘কোস্ট অব হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দের উপকূল’ হিসেবে প্রচার করছে তুরস্কের পর্যটন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখাজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল নীল সমুদ্র, প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্য, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য সমন্বয়ে পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
টার্কএজিয়ানের বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে নির্জন উপসাগর, পাইন বন, জলপাই ও লেবুর বাগান, পাহাড়ঘেরা গ্রাম, সমুদ্রতীরবর্তী শহর এবং ইয়ট ভ্রমণের সুযোগ। একই সঙ্গে সার্ফিং, নৌবিহার ও অন্যান্য জলক্রীড়ার সুব্যবস্থা থাকায় এটি অবকাশযাপনপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিক থেকেও অঞ্চলটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৮ হাজার বছর আগে থেকে এখানে মানব বসতির ইতিহাস রয়েছে। টার্কএজিয়ানে অবস্থিত এফেসাস, পারগামন, আফ্রোদিসিয়াস, পামুক্কালে-হিয়েরাপোলিস, ট্রয় এবং সার্দেস—এই ছয়টি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া বিশ্বের প্রাচীন সাত আশ্চর্যের দুটি—বোদরুমের মাউসোলিয়াম অব হ্যালিকারনাসাস এবং এফেসাসের টেম্পল অব আর্টেমিস—এই অঞ্চলেই অবস্থিত।
তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমির টার্কএজিয়ান ভ্রমণের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এর কাছেই অবস্থিত চেশমে উপদ্বীপ, যা সৈকত, আঙুরবাগান, স্থানীয় ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পরিবেশ এবং বিশ্বখ্যাত উইন্ডসার্ফিং গন্তব্য আলাচাতির জন্য পরিচিত। এছাড়া কুশাদাসি বন্দর, মিলেটাস ও প্রিয়েনে শহরের ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
এদিকে, সাদা রঙের বাড়ি, আধুনিক মেরিনা, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং মিশেলিন স্বীকৃত রেস্তোরাঁর জন্য পরিচিত বোদরুমকে সারা বছরের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানকার ঐতিহ্যবাহী কাঠের পালতোলা নৌযান ‘গুলেট’-এ চড়ে ‘ব্লু ভয়েজ’-এর মাধ্যমে নির্জন দ্বীপ ও উপসাগর ঘুরে দেখার সুযোগ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। একই সঙ্গে বোদরুম দুর্গ ও পানির নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
এ ছাড়া মারমারিস, গোজেক, দাতচা ও ফেথিয়ে অঞ্চলগুলো স্বচ্ছ নীল জলরাশি, ইয়ট ভ্রমণ, সামুদ্রিক খাবার, পাহাড়ি প্রকৃতি এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের জন্য পরিচিত। ফেথিয়ের ওলুদেনিজ লেগুন, বাবাদাগ পর্বত থেকে প্যারাগ্লাইডিং, ৫৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ লিসিয়ান ওয়ে ট্রেকিং রুট এবং ডালিয়ানের ইজতুজু সৈকতে বিলুপ্তপ্রায় লগারহেড সামুদ্রিক কচ্ছপের আবাস এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ।
খাদ্যপ্রেমীদের জন্যও টার্কএজিয়ান একটি বিশেষ গন্তব্য। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে স্থানীয় উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবার, জলপাই তেল, তাজা ফল, স্থানীয় পনির এবং ঐতিহ্যবাহী তুর্কি রান্না এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় শেফ ও কৃষকদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা গ্যাস্ট্রোনমিক সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা এনে দেয়।
ইতিহাস, প্রকৃতি, সমুদ্র, সংস্কৃতি ও আধুনিক পর্যটন সুবিধার সমন্বয়ে টার্কএইজিয়ান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অবকাশযাপন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।
লেখক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।



