দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারো পরোক্ষভাবে বার্তা বিনিময় শুরু হয়েছে। এবারের এই কূটনৈতিক যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই জানা গেল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গত রোববার সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এ নতুন তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজই পাকিস্তানে একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত কাটাছেঁড়া করা হবে। মূলত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের দামামা বাজার মাত্র দুদিন আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে তৃতীয় দফার পরমাণু আলোচনা হয়েছিল, সেই পথ ধরেই এই নতুন যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই দাবি করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে। তবে বাগাই আবারো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
তিনি জানান, ইরান নিজের প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার তেহরানের রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে, ইউরেনিয়ামের মাত্রা বা ধরন নিয়ে তারা সংলাপে বসতে রাজি আছেন। অর্থাৎ ইরান সরাসরি পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করলেও সমৃদ্ধকরণের সীমা নিয়ে দরকষাকষির একটি জানালা খোলা রেখেছে। বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র : বিবিসি



