জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার ওপর সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আনা এক খসড়া প্রস্তাবে বুধবার (৪ জুন) ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
খসড়া প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশের সমর্থন পেলেও ভেটোক্ষমতাধারী একমাত্র সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ সদর দফতর থেকে সিনহুয়া জানায়, প্রস্তাবটিতে হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর হাতে আটক সব পণবন্দীর অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ ও এর নিরাপদ বিতরণের ওপর আরোপিত সব বাধা তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্তভাবে তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ভোটাভুটির ফলাফলের পর জাতিসঙ্ঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং বলেন, ‘আজকের ভোটের ফলে চীন গভীরভাবে হতাশ। খসড়া প্রস্তাবটিতে গাজার মানুষের সবচেয়ে জরুরি দাবি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।'
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আবারো ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, গাজার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে নৃশংসভাবে বিনষ্ট করেছে এবং দুই মিলিয়নের বেশি মানুষকে অন্ধকারেই ফেলে রেখেছে।'
ফু কং আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের গাজা সংঘর্ষ বন্ধে ব্যর্থতার মূল কারণই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার বাধা প্রদান। একটি মাত্র স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের ভেটো শান্তির অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।'
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে বলেন, ‘গাজার অসহনীয় পরিস্থিতি শেষ হওয়া প্রয়োজন। ইসরাইল সরকার যে মাত্রায় সামরিক অভিযান বাড়িয়েছে এবং যেভাবে মানবিক সহায়তা আটকে রেখেছে, তা অগ্রহণযোগ্য, অমার্জনীয় ও ফলপ্রসু নয়।'
তিনি বলেন, ইসরাইল দাবি করেছে, তারা নতুন ব্যবস্থায় সাহায্য পৌঁছানোর পথ খুলেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষুধার্ত মানুষ যখন সাহায্যের আশায় এগিয়ে যায়, তখন তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এটা অমানবিক।'
আলজেরিয়ার বক্তব্য
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আমার বেনজামা বলেন, ‘এ প্রস্তাব শুধু কয়েকটি দেশের কণ্ঠস্বর নয়, বরং গোটা বিশ্বের সম্মিলিত ইচ্ছা। এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতি একটি বার্তা যে আপনারা একা নন। আর ইসরাইলি দখলদারদের জন্য এটি একটি সতর্কতা।’
তিনি বলেন, ‘এ প্রস্তাবপত্র ভেটোর মাধ্যমে আটকে গেলেও বহুপ্রান্তিক ব্যবস্থার অনিঃশেষ ব্যথার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।'
পাকিস্তানের তীব্র প্রতিবাদ
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ বলেন, ‘এটি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কজনক দিন। গাজায় দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের জীবন নিয়ে এমন অবজ্ঞাসূচক বার্তা গভীর উদ্বেগজনক।'
তিনি বলেন, ‘এ ব্যর্থতা শুধু একটি প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যতে জবাবদিহি, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষার পথেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এ মুহূর্তটিকে মনে রাখা হবে একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে, যেখানে পরিষদের সবচেয়ে বড় দায়িত্বে আবারো একটি সদস্য বাধা হয়ে দাঁড়াল।'
সূত্র : বাসস



