অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান মেটার

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে মেটা, আইন কার্যকরের পর অপ্রাপ্তবয়স্কদের ৫ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধের তথ্য জানিয়ে বিকল্প হিসেবে বয়স যাচাই ও অভিভাবক অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মেটার লোগো
মেটার লোগো |সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। একই সাথে নতুন আইনের আওতায় ৫ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার তথ্যও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে মেটা, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট রাখা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে অস্ট্রেলিয়া।

আইন না মানলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, আইন মানতে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিতে হবে।

বিলিয়নিয়ার মার্ক জাকারবার্গের মালিকানাধীন মেটা জানায়, ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ইনস্টাগ্রাম থেকে ৩ লাখ ৩১ হাজার, ফেসবুক থেকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ও থ্রেডস থেকে ৪০ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা আইন মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে এক বিবৃতিতে মেটা জানায়, ‘এক্ষেত্রে আমরা অস্ট্রেলীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন শিল্পখাতের সাথে গঠনমূলক আলোচনায় বসে আরো ভালো সমাধানের পথ খোঁজা হয়। যেমন সার্বিক নিষেধাজ্ঞার বদলে এমন উদ্যোগ, যাতে পুরো শিল্পখাতকে নিরাপদ, গোপনীয়তা-সুরক্ষিত ও বয়স উপযোগী অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে উৎসাহ দেয়া যায়।’

এর আগে দেয়া আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে মেটা বলেছে, ১৬ বছরের কম বয়সীরা কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে যেন অ্যাপ স্টোরগুলো বয়স যাচাই ও অভিভাবকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কিশোরদের এক অ্যাপ ছেড়ে অন্য অ্যাপে চলে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে এটিই একমাত্র কার্যকর উপায়। এ অবস্থাকে তারা ‘হোয়্যাক-এ-মোল’ দৌড়ের সাথে তুলনা করেছে।

অস্ট্রেলীয় সরকার জানিয়েছে, তরুণদের ক্ষতির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।

এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, ‘মেটার মতো প্ল্যাটফর্মগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে। অস্ট্রেলীয় আইন মানতে এবং ১৬ বছরের কম বয়সীরা যেন এসব প্ল্যাটফর্মে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে এই তথ্য তারা ব্যবহার করতেই পারে এবং করতেই হবে।’

মেটা জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা তরুণদের অনলাইন কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে- এ নিয়ে অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি এতে কিছু কিশোর কম নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ ও ইন্টারনেটের আরো অন্ধকার অংশে চলে যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আইনের প্রাথমিক প্রভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি তরুণ অস্ট্রেলীয়দের নিরাপত্তা ও কল্যাণ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না।

অনলাইনে বয়স নির্ধারণে শিল্পখাতজুড়ে অভিন্ন মানদণ্ডের অভাব নিয়েও উদ্বেগ জানায় মেটা। তবে তারা বলে, অস্ট্রেলীয় আইন মানার প্রক্রিয়া হবে ‘বহুস্তরবিশিষ্ট’।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ওপেনএজ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি অলাভজনক উদ্যোগ গঠনে সহায়তা করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় ‘এজকিস’ নামে বয়স যাচাইয়ের সরঞ্জাম চালু করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারী প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহার করা হবে।

সূত্র : বাসস