মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় ১০০ কোটি লিটারের জ্বালানি মজুত করার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বুধবার (৬ মে) দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, সরকারি মালিকানাধীন এই মজুত মূলত ডিজেল এবং এভিয়েশন ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সঙ্কটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’
আগামী সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক বাজেটে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হাতেগোনা কয়েকটি সদস্য দেশের মধ্যে একটি অস্ট্রেলিয়া। তবে আমাদের কোনো নিজস্ব জাতীয় জ্বালানি মজুত ছিল না।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা জানি যে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।’
অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র দু’টি তেল শোধনাগার রয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই দেশটিকে চরম সঙ্কটে পড়তে হয়। এশিয়া ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়াও জ্বালানি তেলের জন্য হরমুজ প্রণালীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হতো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সূত্র: বাসস



