অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় পর্যটন আকর্ষণ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ জাতিসঙ্ঘের ‘ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আপাতত রক্ষা পেয়েছে। তবে, প্রবাল প্রাচীরের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ব্যাপক প্রবাল ব্লিচিং নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেস্কো।
কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল বরাবর বিস্তৃত দুই হাজার ৩০০ কিলোমিটার (এক হাজার ৪২৬ মাইল) দীর্ঘ এই প্রবালপ্রাচীরের বিশ্ব ঐতিহ্য মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (ইউনেস্কো) খসড়া সিদ্ধান্তকে শনিবার (৪ জুলাই) ক্যানবেরা স্বাগত জানিয়েছে।
২০২১ সাল থেকে ইউনেস্কো প্রতিবছর এই প্রবাল প্রাচীর পর্যবেক্ষণ করছে। ওই বছর তারা সতর্ক করেছিল যে এটি ভবিষ্যতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
জাতিসঙ্ঘের সংস্থাটি শুক্রবার প্যারিসে প্রকাশিত খসড়া প্রতিবেদনে জানায়, অস্ট্রেলিয়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পানির গুণমান উন্নয়ন, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূমি পরিষ্কার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তবে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালে প্রবাল প্রাচীর জুড়ে শক্ত প্রবালের আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উচ্চ সমুদ্র তাপমাত্রার কারণে ২০১৬ সালের পর এটি ষষ্ঠ বড় প্রবাল ব্লিচিং ঘটনার শিকার হয়েছে।
এছাড়া, চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া, ভূমি থেকে দূষিত পানির প্রবাহ, উপকূলীয় উন্নয়ন এবং ‘ক্রাউন-অফ-থর্নস’ নামের স্টারফিশের আক্রমণও এই প্রবাল প্রাচীরের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
ইউনেস্কো বলেছে, ‘প্রবাল প্রাচীরের সহনশীলতা এখনো দৃশ্যমান হলেও, এমন পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার ও টিকে থাকার সক্ষমতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে এবং এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।’
অস্ট্রেলিয়া গত বছর পরিবেশ আইন কঠোর করে প্রবাল অঞ্চলে বনভূমি উজাড় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। তবে ইউনেস্কো আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে ড্রেজিং এবং অতিরিক্ত মাছ ধরার ক্ষেত্রে।
অস্ট্রেলিয়ান মেরিন কনজারভেশন সোসাইটির ক্যাম্পেইন ম্যানেজার লিসা শিন্ডলার বলেন, এখনো বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি প্রতি বছর অর্থনীতিতে নয় বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) অবদান রাখে এবং প্রায় ৭৭ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। এটিকে রক্ষা করার জন্য আমাদের আরো কিছু করতে হবে। তাই, এটি রক্ষায় ইউনেস্কো না বললেও আরো পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
অস্ট্রেলিয়াকে ২০২৮ সালে আবারো অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সূত্র: বাসস



