অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন বন্দর নিয়ে চীনের সতর্কবার্তা

অস্ট্রেলিয়া যদি জোরপূর্বক ডারউইন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নেয়, তবে চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে বেইজিং। চীন বলেছে, এতে অস্ট্রেলিয়ায় চীনা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশটির জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডারউইন বন্দর
ডারউইন বন্দর |সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া যদি জোরপূর্বক উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত ডারউইন বন্দরের পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেয়, তবে চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন বেইজিংয়ের রাষ্ট্রদূত।

চীনের ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপ ২০১৫ সালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রেলিয়ার এ বন্দর ৯৯ বছরের জন্য লিজ বা ইজারা নেয়। এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে অবকাঠামো বিক্রির ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গত বছর বন্দরটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে লিজ দেয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘অদূরদর্শীসম্পন্ন’।

রাষ্ট্রদূত শিয়াও কিয়ান বুধবার অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি ল্যান্ডব্রিজকে লিজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়, তবে চীনা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়া আমাদের দায়িত্ব এবং এটাই আমাদের অবস্থান।’

তিনি আরো বলেন, ‘চীনা সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে এবং আমাদের কোম্পানির বৈধ স্বার্থ রক্ষা করতে কখন কথা বলতে হবে বা কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা সময় এলেই আমরা দেখব।’

এ সময় রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ফেরত নেয়া হলে ডারউইন অঞ্চলে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ, সহযোগিতা ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ-অস্ট্রেলীয় কোনো পক্ষের কাছে এই বন্দর বিক্রির বিপক্ষে তার সরকার ইতোমধ্যে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার পূর্ব তিমুর সফরকালে সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, ‘আমরা এই বন্দরটিকে আবারো অস্ট্রেলিয়ার হাতে ফিরিয়ে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থের সাথে জড়িত।’

ডারউইন বন্দরটি এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সবচেয়ে কাছাকাছি এবং এটি মার্কিন মেরিন সেনাদের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

২০১৫ সালে যখন লিজ চুক্তিটি হয়েছিল, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অভিযোগ করেছিলেন, ল্যান্ডব্রিজ গ্রুপের সাথে ব্যবসা করার বিষয়ে ওয়াশিংটনকে কিছুই জানায়নি অস্ট্রেলিয়া।

সূত্র : বাসস