তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে ৩০ মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

তাইওয়ান ইস্যুতে সীমা অতিক্রমকারী যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে চীন শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে ৩০ মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা জারি
তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির জেরে ৩০ মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা জারি |সংগৃহীত

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একদল প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। স্বশাসিত দ্বীপটি বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। সেই ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সমর্থনের বিরুদ্ধে এটিই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এতে ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১০ জন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস শাখা, নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস করপোরেশন, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস ও লাজারাস এআই।

মন্ত্রণালয় জানায়, তাইওয়ানের জন্য সদ্য ঘোষিত ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা অঞ্চলটির জন্য অন্যতম বৃহৎ অস্ত্রচুক্তি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে সীমা অতিক্রমকারী যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে চীন শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাইওয়ানকে অস্ত্র দেয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসব প্রতিষ্ঠানের চীনে থাকা সম্পদ জব্দ (ফ্রিজ) করা হবে এবং চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তাদের সাথে কাজ করতে পারবে না। একইসাথে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তিদের চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং তাদের চীনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোর নয়জন শীর্ষ নির্বাহী।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৭ ডিসেম্বর তাইওয়ানের সাথে এই অস্ত্রচুক্তির ঘোষণা করেন। এতে ৮২টি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম ও ৪২০টি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বিক্রির প্রস্তাব রয়েছে, যার মূল্য চার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনকে রাশিয়ার আকাশপথে হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র যে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

চুক্তিতে আরো রয়েছে ৬০টি স্বচালিত হাউইটজার আর্টিলারি সিস্টেম ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম। যার মূল্য চার বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ড্রোন।

অন্যদিকে, তাইওয়ান বেইজিংয়ের ভূখণ্ডগত দাবি প্রত্যাখ্যান করে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, এই সহায়তা তাইওয়ানকে যথেষ্ট আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং দ্রুত শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।

সূত্র : আলজাজিরা