ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের নেতারা দু’ দিনের ইউরোপীয় কাউন্সিল শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে ইউক্রেনকে ঋণ দেয়ার জন্য জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের বিতর্কিত প্রস্তাব।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ওই শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা মিলিত হয়েছেন।
নেতারা ইউক্রেন পরিস্থিতি, পরবর্তী বহুবর্ষীয় আর্থিক কাঠামো, ইইউর সম্প্রসারণ ও জোটের ভূ-অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌশলগত আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও অভিবাসন ইস্যুও আলোচনায় থাকবে।
তারা ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা কীভাবে দেয়া যায়, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সাথে ২০২৮-২০৩৪ সময়কালের জন্য ইইউর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি বাজেট প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
এছাড়া বহিরাগত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ইইউ কীভাবে নিজেদের সর্বোত্তমভাবে রক্ষা করতে পারে, বাণিজ্য অ্যাজেন্ডা ত্বরান্বিত করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদার করার বিষয়ে নেতারা বিতর্ক করবেন।
ওই শীর্ষ সম্মেলনটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, কারণ জব্দ করা রুশ সম্পদ থেকে ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণমূলক ঋণের ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইইউ রুশ সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থবির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ঋণসংক্রান্ত খসড়া আইন দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যার ফলে জানুয়ারির পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় কমিশন জব্দ করা রুশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে সৃষ্ট মুনাফা ও নগদ তহবিলকে ভিত্তি করে ঋণ নিয়ে ইউক্রেনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবে।
মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট আগামী ১৯-২২ জানুয়ারি নির্ধারিত পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রস্তাবটির ওপর নিজেদের অবস্থান গ্রহণ করবে, এরপর ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনা শুরু হবে।
যদি শীর্ষ সম্মেলনে ইইউর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা প্রস্তাবটি অনুমোদন দেন, তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জানুয়ারির অধিবেশনেই এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে পারে।
বর্তমানে ইইউতে প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো (২৪৬ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের রুশ সম্পদ জব্দ রয়েছে, যা ইউক্রেনকে সহায়তায় ব্যবহারের প্রস্তাব করেছে জোটটি। তবে জব্দ করা অধিকাংশ সম্পদ বেলজিয়ামের ব্যাংক ইউরোক্লিয়ারের কাছে রাখা আছে এবং বেলজিয়াম সরকার এই পরিকল্পনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
সূত্র : আনাদোলু অ্যাজেন্সি



