সুইডেন এবং জার্মানি উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে আফ্রিকার দারিদ্র্য ও ক্ষুধা সঙ্কট নিরসনের কর্মসূচিকে ভূ-রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান রোববার একটি নিবন্ধে লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মানবিক সহায়তার ধারণাটি ‘ভূ-রাজনৈতিক খেলা’-তে পরিণত হয়েছে। কারণ দেশগুলো তাদের বাজেট ইউক্রেন এবং সামরিক ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করে।
সুইডেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছে, তারা মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে, লাইবেরিয়া, তানজানিয়া এবং বলিভিয়ার জন্য তাদের উন্নয়ন বাজেট ১০ বিলিয়ন ক্রোনার (প্রায় ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ড) কমাবে।
এদিকে, ২০২৬ সালের জন্য জার্মানির মানবিক বাজেট ১.০৫ বিলিয়ন ইউরো (৯২০ মিলিয়ন পাউন্ড) ঘোষণা করেছে, যা গত বছরের অর্ধেকেরও কম এবং তারা ‘ইউরোপের অগ্রাধিকার’ ক্ষেত্রগুলোতে বেশি মনোনিবেশ করেছে।
বার্লিন-ভিত্তিক হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাকশন সেন্টারের পরিচালক রাল্ফ সুডহফ বলেন, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যমান সংহতি ও দায়িত্ববোধের ঐকমত্য ম্লান হয়ে আসছে। জার্মানির কোনো সিদ্ধান্ত সরাসরি ইউরোপকে প্রভাবিত করে। ইউক্রেন তহবিল পাচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মানবিক সাহায্যের অংশ হ্রাস পাচ্ছে।
অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করছে; ব্রিটেন সামরিক ব্যয় মেটাতে তার মানবিক সহায়তা কমিয়েছে এবং নরওয়ে আফ্রিকান দেশগুলোর পরিবর্তে ইউক্রেনের জন্য তার সাহায্য বাজেট বাড়িয়েছে।
ফ্রান্সও তার মানবিক সহায়তা বাজেট ৭০০ মিলিয়ন ইউরো কমিয়েছে এবং খাদ্য সহায়তা ৬০ শতাংশ কমিয়েছে, একইসাথে সামরিক বিষয়ে ৬.৭ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো স্থানীয় সঙ্কট মোকাবেলা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেবে এবং মোজাম্বিক, জিম্বাবুয়ে ও তানজানিয়ার মতো আফ্রিকান দেশগুলোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশু স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অর্জিত অর্জনকে বিপন্ন করবে।
সূত্র : পার্সটুডে



