ইংল্যান্ডে সোমবার (২০ জুলাই) শুরু হয়েছে ফার্নবরো এয়ারশো। ইউরোপের ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান, ড্রোন তৈরির প্রতিযোগিতা এবং ওয়াশিংটনের অনিশ্চিত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রশ্ন এসব বিষয়ই এর মূল আলোচ্য হয়ে উঠছে।
প্রতি দুই বছর পরপর আয়োজিত এ প্রদর্শনী প্যারিসের কাছে লো বুরজে এয়ারশোর সাথে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে বোয়িংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও মিলতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক সঙ্কটে পড়া প্রতিষ্ঠানটি সেই অধ্যায় পেছনে ফেলতে চায়।
আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালিক্সপার্টনার্সের পাসকাল ফ্যাব্রে বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইউরোপে সার্বভৌমত্ব ও পুনরায় সামরিক শক্তি গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে গতি পেয়েছে।’
আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্যারেথ রজার্স বলেন, সাধারণত প্রদর্শনীর ৪০ শতাংশ জুড়ে থাকে প্রতিরক্ষা খাত। তবে, এবার এটি বেসামরিক খাতের প্রায় সমান জায়গা দখল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক গভীর হামলার পর ইউক্রেনও এ প্রদর্শনীতে বড় উপস্থিতি নিয়ে অংশ নিচ্ছে। দেশটির প্রদর্শকদের জন্য অতিরিক্ত স্থানও বরাদ্দ করা হয়েছে।
ফ্যাব্রে বলেন, ড্রোন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইউক্রেনের ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ প্রযুক্তিগত সমাধান বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তাই ফার্নবরোতে ইউক্রেনীয়দের ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাবে।
বোয়িংয়ের ড্রোন
ফ্রান্স-জার্মানি-স্পেনের যৌথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি এসসিএএফ বাতিল হওয়ার পর ফার্নবরোতে এখন সবার নজর থাকবে এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জিসিএএপি কর্মসূচির দিকে। যুক্তরাজ্য, ইতালি ও জাপান যৌথভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
চলতি মাসে তিন দেশ কর্মসূচিটির উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড (৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেয়ায় এটি নতুন গতি পেয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি কার্যক্রমে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, যুক্তরাজ্য বড় পরিসরে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় অংশীদার দেশগুলো এখন পর্যন্ত হওয়া অগ্রগতি তুলে ধরতে এবং তাদের ঐক্যের বার্তা দিতে আগ্রহী থাকবে।
বোয়িং এ প্রদর্শনীতে তাদের স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ড্রোন এমকিউ-২৮ ‘ঘোস্ট ব্যাট’ প্রদর্শন করবে। জিসিএএপি কর্মসূচির আওতায় তৈরি হওয়া যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে এটি উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই প্রতিফলন এই বিমান। বিশেষ করে চালকবিহীন ব্যবস্থা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র আমূল বদলে দিয়েছে।
জার্মানির রাইনমেটাল গ্রুপ এমকিউ-২৮-কে জার্মান বিমানবাহিনীর সক্ষমতার সাথে যুক্ত করতে বোয়িংয়ের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে।
রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের সহযোগিতায় তৈরি এ বিমান ২০২৯ সালের মধ্যে জার্মানির হাতে পৌঁছানোর কথা। তবে এ ধরনের অংশীদারিত্ব ইউরোপের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কও উসকে দিচ্ছে।
বাণিজ্যিক বিমানের ক্ষেত্রে বোয়িংকে এবার আরো নিবিড় পর্যবেক্ষণের মুখে পড়তে হবে। তাদের বিমান-সংশ্লিষ্ট একাধিক ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নতুন তিনটি বিমানের সনদ প্রাপ্তির সময়সূচি নিয়েও প্রশ্ন থাকবে। কারণ, এগুলোর প্রতিটিরই কাজ নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় কয়েক বছর পিছিয়ে রয়েছে।
সূত্র: বাসস



