দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘোষিত দু’দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর মস্কো অভিমুখী বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া। কিয়েভে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়ার পর আজ শুক্রবার (৮ মে) এই তথ্য জানায় মস্কো।
ইউক্রেন রাশিয়ার এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ৯ মে মস্কোর বিজয় দিবস প্যারেডকে নিরাপদ রাখতেই এই কৌশল নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই প্যারেড পুতিনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশপ্রেমমূলক অনুষ্ঠান।
রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোকে এই প্যারেডে অংশ না নেয়ার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ কিছু দেশ থেকে খবর পেয়েছি যে তাদের প্রতিনিধিরা মস্কো যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই সময়ে এমন ইচ্ছা সত্যিই অদ্ভুত। আমরা চাই না তারা সেখানে যাক।’
জেলেনস্কি আরো বলেন, ‘তারা ইউক্রেনের কাছে প্যারেড করার অনুমতি চায় যাতে বছরে একদিন এক ঘণ্টার জন্য স্কয়ারে নিরাপদে বের হতে পারে, আর বাকি সময় মানুষ হত্যা করতে পারে।’
এর আগে জেলেনস্কি ৬ মে থেকে পাল্টা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি। গত কয়েক দিনে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা জোরদার করলে কিয়েভও পাল্টা আঘাত হানে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা রাতভর প্রায় ৩৫০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুদ্ধবিরতি শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যে আরো ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইউক্রেন হামলা চালালে পাল্টা কঠোর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়ে কিয়েভ ছাড়তে সাধারণ মানুষ ও কূটনীতিকদের অনুরোধ করেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে রাশিয়ার এই হুমকিকে ‘অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটেন।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল জানিয়েছেন, বার্লিন কিয়েভ থেকে তাদের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেবে না। জেলেনস্কিও কিয়েভেই থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।
রাশিয়া প্রতি বছর ৯ মে রেড স্কয়ারে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে বিজয় দিবস পালন করে। পুতিন তার শাসনামলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন এবং ইউক্রেন আক্রমণের যৌক্তিকতা হিসেবেও একে ব্যবহার করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ড্রোনের সক্ষমতা বাড়িয়ে মস্কোসহ রাশিয়ার ভেতরে অনেক গভীরে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের এই কুচকাওয়াজ নিয়ে রাশিয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রায় ২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম প্যারেড থেকে সামরিক সরঞ্জাম বাদ দেয়ার কথা জানিয়েছে মস্কো।
ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে, এবার বিদেশী অতিথির সংখ্যাও অনেক কম। বেলারুশ, মালয়েশিয়া ও লাওসের নেতা এবং জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক অস্বীকৃত দু’টি রুশ-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের নেতারা এতে অংশ নেবেন।
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার পর্যন্ত মস্কোর ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এদিকে, ইরান সঙ্কটের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল ছেড়ে দেয়ার দাবি জানালেও কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: বাসস



