ইউক্রেনে শনিবার (২২ আগস্ট) ভোরে রাশিয়ার চালানো পৃথক হামলায় কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এর এক দিন আগে একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারে ভয়াবহ হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দারনিতস্কি জেলায় একটি গুদামে আগুন লাগার খবর জানিয়েছে কিয়েভ সিটি সামরিক প্রশাসন। এর আগে সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় এক পুরুষ নিহত এবং আরো চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ।
শুক্রবার ইউক্রেনে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নিহত হওয়ার এক দিন পর এসব হামলা হলো। শুক্রবার দিনের বেলায় চালানো একটি ড্রোন হামলায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একটি শপিং সেন্টারে ১৬ জন নিহত হন।
আঞ্চলিক সামরিক গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা জানিয়েছেন, ওই হামলার পর রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এখনো নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জন শিশুও রয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ওই হামলায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৩ জন শিশু।
জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, চলতি বছর ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসের পর যেকোনো বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
রাশিয়ার হামলা আরো জোরদার হওয়ায় ইউক্রেন তার মিত্র দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একের পর এক হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, গত কয়েক মাসে ইউক্রেনও রাশিয়ায় পাল্টা হামলা বাড়িয়েছে। মস্কোকে আলোচনার টেবিলে এনে যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করাই এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য।
তবে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ইউক্রেনের ব্যাপক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বা ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি ওই শর্তগুলো মেনে নিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার মতে, এসব শর্ত মেনে নেয়া কার্যত আত্মসমর্পণেরই শামিল হবে এবং এতে ইউক্রেন ভবিষ্যতে আবারো রাশিয়ার হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।
সূত্র: বাসস



