ন্যাটোর সাথে উত্তেজনার মধ্যে পরমাণু বোমারু বিমানের মহড়ায় রাশিয়া

ন্যাটোর সামরিক তৎপরতা একটি ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
একটি রুশ টিইউ-১৬০ কৌশলগত বোমারু বিমানের ককপিটে বসে আছেন পাইলট
একটি রুশ টিইউ-১৬০ কৌশলগত বোমারু বিমানের ককপিটে বসে আছেন পাইলট |সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর সাথে চরম উত্তেজনার মাঝেই আর্কটিক অঞ্চলের আকাশে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম টিইউ-১৬০ স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত বোমারু বিমান দিয়ে টহল দিয়েছে রাশিয়া।

একই সাথে ন্যাটোর সামরিক তৎপরতা একটি ভয়াবহ পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ন্যাটোর একের পর এক উস্কানির মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মস্কো কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ এবং ল্যাভরভের বক্তব্য থেকে তা আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, বেরেন্টস ও নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক পানিসীমার ওপর দিয়ে প্রায় ১৬ ঘণ্টার এই রুটিন মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী এই অঞ্চলে মহড়া চলাকালীন টহলের সময় রুশ বোমারু বিমানগুলো মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার অনুশীলনও করেছে।

রাশিয়ার এই শক্তি প্রদর্শনের সময় মিগ-৩১ ফাইটার জেট সেগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় এবং যাত্রাপথের কিছু অংশে কয়েকটি বিদেশী যুদ্ধবিমান রুশ বিমানগুলোকে পিছু নেয়। তবে রাশিয়ার মহাকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তাদের সব ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা নীতি কঠোরভাবে মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির মুখে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গত মাসেই বেলারুশের সাথে যৌথ পারমাণবিক মহড়া চালিয়েছে রাশিয়া।

এদিকে, ইউরোপের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণ এবং ইউক্রেনকে ন্যাটোর ঢালাও অস্ত্র সহায়তা একটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মস্কো।

সম্প্রতি ‘পলিটিকো ইউরোপ’ সাময়িকী কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা একটি নিবন্ধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করে লিখেছেন, ‘ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত দ্রুতই পরমাণু হামলায় রূপ নিতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর।’

জার্মানিসহ ন্যাটোর অন্য সদস্যদের কাছে ফ্রান্সের পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তাব নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানান তিনি।

অবশ্য সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারো স্পষ্ট করেছেন, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশ আগে রাশিয়াকে আক্রমণ না করলে রাশিয়া আগ বাড়িয়ে কাউকে হামলা করবে না।

সূত্র : আরটি