ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্থানীয় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বড় ধরনের ইউ-টার্ন নিয়েছেন। বাতিলের ঘোষণা দেয়া ৩০টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্বাচন এখন নির্ধারিত সময়েই মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৪৬ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
সরকার প্রথমে জানিয়েছিল, স্থানীয় প্রশাসনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সামনে থাকায় নির্বাচন আয়োজন ব্যয়বহুল ও জটিল হবে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, ৭ মে সম্ভাব্য ভরাডুবি এড়াতেই নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া হচ্ছিল। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায় দ্য টেলিগ্রাফ।
স্থানীয় সরকারবিষয়ক সচিব স্টিভ রিড এক চিঠিতে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। হাইকোর্টে রিফর্ম ইউকে–এর আইনি চ্যালেঞ্জের ঠিক আগে এই ঘোষণা আসে। রিড জানান, “সাম্প্রতিক আইনি পরামর্শ” পাওয়ার পর সরকার বুঝতে পারে, নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়। পাশাপাশি, আইনি লড়াইয়ের জন্য রিফর্ম ইউকের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড খরচ সরকার বহন করবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
রিফর্ম ইউকের নেতা নেইজেল ফারেজ সরকারের আচরণকে “স্বৈরাচারী” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি শুধু রিফর্মের নয়, দেশের গণতন্ত্রের জয়।” তার দাবি, বেআইনি সিদ্ধান্তের দায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি বাডেনচ অভিযোগ করেন, “ভোটারদের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়েই সরকার নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল।” তিনি বলেন, স্থানীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সংবাদপত্রটির ভূমিকা প্রশংসনীয়।
আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট ২০০০–এর একটি ধারা, যার মাধ্যমে মন্ত্রীরা স্থানীয় নির্বাচন স্থগিতের ক্ষমতা পান। সাবেক মন্ত্রী রবার্ট জেনরিক দাবি করেন, কোভিড মহামারির সময়ও সরকারি আইনজীবীরা পরামর্শ দিয়েছিলেন যে টানা দুই বছর স্থানীয় নির্বাচন বাতিল করা প্রায় নিশ্চিতভাবেই বেআইনি হবে।
তবে ইউ-টার্ন সত্ত্বেও সরকার গ্রেটার এসেক্স, সাসেক্স ও ব্রাইটন, হ্যাম্পশায়ার ও সোলেন্ট, এবং নরফোক ও সাফোক অঞ্চলের চারটি মেয়র নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
এদিকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে করদাতাদের প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হতে পারে।
নির্বাচন ইস্যুতে এই অবস্থান পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে আরেকটি বড় নীতিগত পিছু হটা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ধারাবাহিক ইউ-টার্ন সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।



