ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি

ট্রাম্প বলেন, ‘এই দুই জাতি বহু বছর ধরে যুদ্ধে জড়িত। এই যুদ্ধে হাজার হাজার প্রাণহানি হয়েছে। আমার প্রশাসনের প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই দিন এসেছে। শুক্রবার আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ,  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের নিয়ে এক ‘ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলনের’ আয়োজন করছেন। দুই সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটানোই এর লক্ষ্য।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেছেন, ‘আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ আমার সাথে হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।’

দীর্ঘদিনের শত্রু এই দুই দেশ যদি সত্যিই চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে এটি হবে ট্রাম্পের সর্বশেষ কূটনৈতিক সাফল্য। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে তার মধ্যস্থতাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের উপযুক্ত বলে মনে করেন।

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দুইবার যুদ্ধ করেছে। ২০২৩ সালে আজারবাইজান একটি দ্রুত সামরিক অভিযানে অঞ্চলটি পুনরুদ্ধার করে। এতে এক লাখেরও বেশি জাতিগত আর্মেনিয়ান দেশ ত্যাগ করেন। দুই দেশের মধ্যে ইতোপূর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং ইউরোপীয় রাজনৈতিক সম্মেলনে শান্তিচুক্তির আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলোর ফলাফল আশাব্যঞ্জক ছিল না।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই দুই জাতি বহু বছর ধরে যুদ্ধে জড়িত। এই যুদ্ধে হাজার হাজার প্রাণহানি হয়েছে। বহু নেতা চেষ্টা করেছেন এই যুদ্ধ বন্ধ করতে, কিন্তু সফল হননি। আমার প্রশাসনের প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই দিন এসেছে। শুক্রবার আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াশিংটন উভয় দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে একসাথে অর্থনৈতিক সুযোগগুলো অনুসরণ করার জন্য। যাতে আমরা দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে উন্মোচন করতে পারি।’

সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের এই দুই দেশ চলতি বছরের মার্চ মাসে শান্তিচুক্তির একটি খসড়ায় সম্মত হয়। আজারবাইজান তখন থেকে নথিতে স্বাক্ষর করার আগে কারাবাখের ওপর আঞ্চলিক দাবি ত্যাগ করার জন্য আর্মেনিয়ার সংবিধানে সংশোধনসহ বেশ কয়েকটি দাবির রূপরেখা তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব শর্ত পূরণ হয়েছে কি-না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন বেশ কিছুদিন ধরে উভয়পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি দুই দেশের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত নথি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।

সূত্র : এএফপি/বাসস