ইউক্রেনে গতরাতে রাতভর রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে দু’জন নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানায়, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিমান হামলার সতর্ক সঙ্কেত বেজে ওঠার আগেই একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর আরো চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে একটি এলাকায় গুদামগুলোতে এবং অন্য একটি এলাকায় একটি ‘অনাবাসিক ভবনে’ আগুন ধরে যায়।
দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ পরে জানায়, হামলায় কিয়েভে দু’জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইকোলাইভ অঞ্চলে রুশ বাহিনীর বোমা হামলায় এক মা ও তার মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ভিতালি কিম।
স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান জানান, পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও বোমা হামলায় চারজন আহত হয়েছেন।
জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের সামরিক প্রধান বলেন, ‘রুশ হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের মেয়র জানিয়েছেন, ‘রাশিয়ার হামলায় হামলায় দু’জন আহত হয়েছেন।’
অন্যদিকে রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এখানে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
সোমবার ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় ৩০ জন নিহত হওয়ার পর এই নতুন হামলা চালায় রাশিয়া। হামলায় কিয়েভে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসবেন।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরো সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন।
ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলা মোকাবেলায় সক্ষম হলেও, কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার নতুন কৌশল—একসাথে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ—প্রতিরোধ করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই চাপে পড়ছে।
সূত্র: বাসস



