যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার একটি তেলবাহী খালি জাহাজকে তাড়া করে তা আটকানোর চেষ্টা করছে। জাহাজটি রক্ষায় রাশিয়া একটি সাবমেরিন পাঠিয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মাসের শেষের দিকে ভেনেজুয়েলার চারপাশে আংশিক অবরোধ এড়িয়ে এবং মার্কিন কোস্টগার্ডের আটকানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার পর থেকে ওই তেলবাহী জাহাজকে তাড়া করছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজটির পূর্ব নাম ছিল বেলা ১।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, জাহাজটি একটি ছায়া-বহরের অংশ, যা ভেনেজুয়েলা, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর জন্য তেল বহন করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে।
মেরিন ট্রাফিকের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বুধবার জাহাজটি আইসল্যান্ডের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গত মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, রাশিয়া জাহাজটির নিরাপত্তায় একটি সাবমেরিন ও অন্যান্য ন্যাভাল অ্যাসেট পাঠিয়েছে।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, দুই মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়া জাহাজটির নিরাপত্তায় একটি সাবমেরিন এবং অন্যান্য নৌযান পাঠিয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ-তাড়ার বিষয়টি ‘উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্ত্রণালয়টি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানায়, জাহাজটি রুশ পতাকা নিয়ে চলাচল করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
মার্কিন কোস্টগার্ডের তাড়া শুরুর পর থেকে জাহাজটি তার নিবন্ধন রাশিয়ায় পরিবর্তন করেছে, নাম বদলে মারিনেরা রেখেছে এবং গত মাসে ক্রুরা জাহাজে রুশ পতাকা এঁকেছে।
এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানের অংশ।
রাশিয়ার নিরাপত্তায় থাকা তেলবাহী জাহাজটি ভেনেজুয়েলার পথে ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়ানোর জন্য এটি কোনো পণ্য বহন করেনি।
ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে কথিত সম্পর্কের কারণে জাহাজটি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



