বার্ধক্য এড়াতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্ধক্য প্রতিরোধে আগ্রহ নতুন কিছু নয়। দেশটির সরকার প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মানুষের আয়ু বৃদ্ধি এবং জটিল রোগে মৃত্যুহার কমানো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন |সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্ধক্য প্রতিরোধে আগ্রহ নতুন কিছু নয়। এবার দেশটির সরকার প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মানুষের আয়ু বৃদ্ধি এবং জটিল রোগে মৃত্যুহার কমানো।

এই প্রকল্পে বায়োপ্রিন্টিং ও জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বায়োপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবন্ত টিস্যু তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনে ক্ষুদ্রাকৃতির শূকরের (মিনি পিগ) দেহে মানব অঙ্গ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।

২০২৪ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভবিষ্যতে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে গবেষকেরা বায়োপ্রিন্টেড মানব কার্টিলেজ টিস্যু এবং ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরির দাবি করেছেন। দশকের শেষ নাগাদ মানুষের জন্য প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ তৈরি করাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুতিনের মেয়ে ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মারিয়া ভোরন্তসোভা। তার সাথে রয়েছেন রুশ পদার্থবিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক।

রুশ গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কোভালচুক বলেন, ‘অমরত্ব নিয়ে এখনই নিশ্চিত কিছু বলা কঠিন। তবে মানুষের শরীর মেরামতের সক্ষমতা ভবিষ্যতে অনেক বাড়বে।’

এদিকে রাশিয়ায় বায়োপ্রিন্টিং গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার অস্ত্রোভস্কি বলেন, প্রকল্পের সাথে যুক্ত কিছু গবেষক হয়তো সরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার ভাষায়, এসব বক্তব্য এখনো মূলত ‘আকাঙ্ক্ষা’ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

৭৩ বছর বয়সী পুতিন দীর্ঘদিন ধরেই সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে আগ্রহী বলে পরিচিত। ঘোড়ায় চড়া, আইস হকি খেলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার নানা ছবি প্রায়ই প্রকাশ্যে এসেছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহীদের জন্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও দীর্ঘ কোয়ারেন্টিনও বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় পুতিনকে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দীর্ঘায়ু বা প্রায় অমরত্বের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়ু গবেষণায় পুতিনের আগ্রহের পেছনে ব্যক্তিগত ও জাতীয় দুই ধরনের কারণই থাকতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপে পুরুষদের গড় আয়ু যথাক্রমে প্রায় ৭৬ ও ৮০ বছর হলেও রাশিয়ায় তা প্রায় ৬৮ বছর। ফলে দেশটির জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।

তবে সমালোচকদের মতে, প্রকল্পটি কতটা বাস্তবসম্মত, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল