ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বুধবার গনোরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বের প্রথম টিকাদান কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। যৌনবাহিত এই রোগটির সংক্রমণ রেকর্ড পরিমাণে বাড়তে থাকায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডে গনোরিয়ার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যা ১৯১৮ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, এই ব্যাধির অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা ক্রমশ বাড়ছে।
যুক্তরাজ্যের এইচআইভি ও যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান দাতব্য সংস্থা ‘টেরেন্স হিগিন্স ট্রাস্ট’-এর প্রধান নির্বাহী রিচার্ড অ্যাঙ্গেল এই উদ্যোগকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একাই গনোরিয়ার নতুন সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে।’
রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থায়িত ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর প্রধান আমান্ডা ডয়েল জানান, এটি হবে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত গনোরিয়া টিকাদান কর্মসূচি।
এনএইচএস-এর প্রাথমিক ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা পরিচালক এটিকে যৌনস্বাস্থ্য খাতে একটি ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি গনোরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী স্ট্রেইনের বাড়তি হারের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও সহায়তা করবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত হবে ৪সিএমেনবি নামের একটি বিদ্যমান টিকা, যা সাধারণত শিশুদের মেনিনজোকক্কাল-বি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা মেনিনজাইটিস এবং সেপসিসের কারণ হতে পারে।
৪সিএমেনবি টিকাটি বর্তমানে শিশুদের ৮ সপ্তাহ, ১৬ সপ্তাহ ও এক বছর বয়সে দেয়া হয়।
সূত্র : এএফপি



