ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফ্লোরিডায় বৈঠক করবেন, যেখানে রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলবে।
জেলেনস্কি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি শান্তি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে চান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য পৃথক প্রস্তাবগুলোও আলোচনায় থাকবে।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ রুশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই পরিকল্পনা রাশিয়া যে পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করছে তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
ক্রেমলিন জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, যেখানে তিনি বলেছেন রাশিয়া সেনা সরালে ইউক্রেনও পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
রাতারাতি রুশ বিমান হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে বলে সেখানকার মেয়র জানিয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলে আরো একজন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালেও রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সতর্ক করেছে, পুরো দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালায়। বর্তমানে মস্কো দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পার্শ্ববর্তী লুহানস্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এই অঞ্চলগুলো সম্মিলিতভাবে দনবাস নামে পরিচিত।
ইউক্রেন শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছে এবং জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাশিয়া যেসব এলাকা দখল করতে পারেনি, সেসব দনবাস অঞ্চলে একটি নিরস্ত্রীকৃত ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলা সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।
শুক্রবার জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেছেন, ২০ দফা পরিকল্পনার ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, ‘আমাদের কাজ হলো নিশ্চিত করা যে সবকিছু ১০০ শতাংশ প্রস্তুত’।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা একদিনও নষ্ট করছি না। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছি- শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে। নতুন বছরের আগে অনেক কিছুই সিদ্ধান্ত হতে পারে।’
তবে শুক্রবার প্রকাশিত পলিটিকোর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের হাতে ‘কিছুই নেই যতক্ষণ না আমি অনুমোদন দিচ্ছি’।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় তার সাথে ভালোই হবে। আমার মনে হয় (ভ্লাদিমির) পুতিনের সাথেও ভালোই হবে।’
তিনি আরো জানান, তিনি শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলার আশা করছেন।
সূত্র : বিবিসি



