রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জানিয়েছেন, কিয়েভ যদি মস্কোর দাবি করা অঞ্চল থেকে সরে যায় তাহলে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করবেন তিনি। আর ইউক্রেন যদি তা না করে, তবে তার সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেগুলো দখল করবে।
তিনি আরো বলেছেন, ইউক্রেন এই ভূমি ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত রাশিয়া লড়াই চালিয়ে যাবে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। রুশ বাহিনীর এই আগ্রাসন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে ওয়াশিংটন প্রায় চার বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মস্কো ও কিয়েভের সাথে আসন্ন আলোচনার মাধ্যমেই প্রস্তাবিত এই শান্তি পরিকল্পনাটি খুব শিগগিরই চূড়ান্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কিরগিজস্তান সফরের সময় পুতিন বলেন, ‘যদি ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলো ছেড়ে চলে যায়, তাহলে আমরা যুদ্ধ বন্ধ করে দেব। যদি তারা তা না করে, তাহলে আমরা সামরিক উপায়ে তা দখল করে নেব।’
বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা কখনো দখল করা ভূমি ছেড়ে দেবে না। এটি শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর মধ্যে একটি।
ইউক্রেনের জন্য ‘পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টি’ নিয়ে আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি মনে করে, ভবিষ্যতে রাশিয়াকে পুনরায় আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ওয়াশিংটনের প্রাথমিক বা মূল পরিকল্পনাটি ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্রদের মতামত ছাড়াই খসড়া করা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় কিয়েভকে তার পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সরে যেতে এবং কার্যত দোনেৎস্ক, ক্রিমিয়া ও লুগানস্ক অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরে কিয়েভ ও ইউরোপের সমালোচনার পর সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ওই পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এখনো নতুন সংস্করণটি প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন পরিকল্পনাটি দেখেছেন বলে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, এটি আলোচনার একটি সূচনা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে, আমরা একমত যে এটি ভবিষ্যতের একটি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, রাশিয়া এখনো দখল করা অঞ্চলগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে।
সূত্র : বাসস



