ওয়েলসে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নিয়ন্ত্রণ শিথিল হচ্ছে

ওয়েলস এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লেবার পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি। কিন্তু এবার বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সেই অবস্থার অবসান ঘটতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ওয়েলস এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লেবার পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি। কিন্তু এবার বৃহস্পতিবারের (৭ মে) গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সেই অবস্থার অবসান ঘটতে পারে।

ওয়েলস ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের সূতিকাগার ও এক সময়ের শিল্পশক্তির কেন্দ্র।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপের মধ্যে হতাশ ব্রিটিশ ভোটাররা পুরোনো রাজনৈতিক আনুগত্য ছেড়ে অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট দলগুলো, অর্থাৎ যারা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে ও প্রচলিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সামাজিক অভিজাত কাঠামো ভেঙে ফেলতে চায় তাদের দিকে ঝুঁকছেন।

৩০ লাখ মানুষের এই দেশে লেবার পার্টির পরাজয় হলে, তা হবে দুর্বল পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচিত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের দুই বছরের শাসনের বড় ধাক্কা। এতে তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হতে পারে।

৫৯ বছর বয়সী রস মামফোর্ড বলেন, ‘এই প্রথম আমি লেবারকে ভোট দিচ্ছি না। খুব খারাপ লাগছে।’

তিনি আরো বলেন, তার বাবা ও দাদার মতো তিনিও সব সময় এই মধ্য-বাম দলটিকে সমর্থন করেছেন।

কার্ডিফে ওয়েলশ পার্লামেন্টের বাইরে তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটা আমাদের পরিবারের অংশ ছিল। কিন্তু এ বছর সেটার শেষ হচ্ছে।’

শ্রমজীবী শ্রেণির শক্ত ভিত্তি ও দৃঢ় সামাজিক বন্ধনে গড়ে ওঠা ওয়েলস ১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লেবার পার্টির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

দলের প্রথম নেতা কেয়ার হার্ডি দেশের শিল্পাঞ্চল সাউথ ভ্যালিজের একটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। আর ওয়েলসের অ্যানিউরিন বেভান ১৯৪৮ সালে দি ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন।

১৯৯৯ সালে ‘সেনেদ’ নামে পরিচিত ওয়েলশ পার্লামেন্ট গঠনের পর থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহনসহ নানা খাতে ক্ষমতাসম্পন্ন বিকেন্দ্রীকৃত সরকার পরিচালনা করে আসছে লেবার।

জরিপগুলো বলছে, ২৭ বছরের সেই ধারার ইতি ঘটতে পারে ৭ মে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে।

তবে নতুন ভোটিং ব্যবস্থার কারণে কে জয়ী হবেন তা এখনো অনিশ্চিত।

‘অসন্তোষ’
জরিপে দেখা যাচ্ছে, কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে ও প্রগতিশীল ওয়েলশ জাতীয়তাবাদী দল প্লেইড কামরির পেছনে পড়ে আছে লেবার। এতে জাতীয় পর্যায়ের মতোই দুই দিক থেকে চাপে পড়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

৩৫ বছর বয়সী হোপ পোর্টার বলেন, তিনি এবার বামপন্থী গ্রিন পার্টিকে ভোট দিতে পারেন।

গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে স্টারমারের অবস্থানে তিনি ক্ষুব্ধ।

কার্ডিফ শহরের কেন্দ্রে সাবেক লেবার এমপি বেভানের মূর্তির কাছে বসে ৮৩ বছর বয়সী সু জেনকিনস বলেন, তিনি এখনো লেবার ছেড়ে যেতে প্রস্তুত নন।

তিনি আরো বলেন, লেবার জিততে না পারলে, আমি খুবই কষ্ট পাবো।

লেবার প্রার্থী হিউ থমাস বলেন, এবার কোনো একক দলের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েলসে লেবারের শেষ, তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: বাসস