জেলেনস্কি

রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় ‘কঠিনতম বিষয়গুলো’ মোকাবিলা করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন দল

মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা ঘোষণা দেন, তারা কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় একমত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভলোদিমির জেলেনস্কি
ভলোদিমির জেলেনস্কি |সংগৃহীত

ইউরোপ-নেতৃত্বাধীন আলোচনায় অগ্রগতির পর বুধবার প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও কিয়েভের প্রতিনিধিদল ইউক্রেন সংক্রান্ত আলোচনার ভূখণ্ড প্রশ্নসহ ‘সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো’ মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা ঘোষণা দেন, তারা কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় একমত হয়েছেন- ভেনেজুয়েলা ইস্যু এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও ইউক্রেনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান উপস্থাপনের চেষ্টা হিসেবে।

রাশিয়ার আগ্রাসনে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধে প্রায় চার বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আলোচনায় ওয়াশিংটনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, প্যারিস আলোচনার দ্বিতীয় দিনটি কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের দল রুশ-অধিকৃত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ এবং পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে উৎসর্গ করবে।

ফেসবুকে তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দূতদের সাথে আরেকটি আলোচনা বৈঠক হবে, আর দুই দিনের মধ্যে এটি হবে তৃতীয় এমন বৈঠক।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার মৌলিক কাঠামোর সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো অর্থাৎ জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভূখণ্ড-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো আলোচিত হবে।’

জেলেনস্কি আরো জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের জন্য মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘শান্তি হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ। আর এটি নির্ভর করে অংশীদারদের ওপর- তারা কিনা নিশ্চিত করে যে রাশিয়া সত্যিকার অর্থে যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত।’

বুধবার জেলেনস্কির নতুন চিফ অব স্টাফ এবং সাবেক শীর্ষ গোয়েন্দা কিরিলো বুদানভ বলেন, ‘ইতোমধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট ফলাফল রয়েছে।’ তবে যোগ করেন, ‘সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা যায় না।’

এক ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বুধবার প্যারিসে হওয়া নতুন আলোচনায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইতালি ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় একমত হন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং একটি ইউরোপীয় বহুজাতিক বাহিনী, যা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতির পর মোতায়েন করা হবে।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সঙ্ঘাতে লড়াই কমার কোনো লক্ষণ নেই এবং মস্কোর বর্তমান দরকষাকষির অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে ন্যাটো সেনা মোতায়েন দেখতে চান না।

সূত্র : এএফপি/বাসস